“কারও থেকে এক নয়া পয়সা নেব না," দুর্দিনে সততা প্রমাণে মরিয়া শোভনদেব
Sovandeb Chattopadhyay: পার্থ ও অনুব্রতকে নিশানা করে তিনি জানিয়ে দেন ‘অসতের পাশে’ নেই দল। শোভনদেব বলেন, “আমাদের দলের যেসব লোকেরা অন্যায় করছে আমরা কারও দায়িত্ব নেব না।”

পার্থ-অনুব্রত কাণ্ডে বিড়ম্বনায় তৃণমূল। জোর গলায় সততার দাবি করে এলেও, গরুপাচার ও শিক্ষক নিয়োগের দুই কাঁটা না তো গিলতে পারছে, না উগরাতে পারছে শাসকদল। এরই মাঝে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে মরিয়া শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূলের বর্ষীয়ান এই নেতা ঘোলা মহিষাপোতায় দলেরই একটি অনুষ্ঠানে এসে বলেন, “আমি এখানে এসেছি অন্য কোনও কারণে নয়। এসেছি, পাঁচ বছর পর চলেও যাব। তাঁর আগে কিছু কাজ করতে চাই, সকলের সহযোগিতা চাই।” নিজের তথা দলের ভাবমূর্তি সাফ করতে শোভনদেব বলেন, “আমি আপনাদের কাছ থেকে এক নয়া পয়সা নিয়ে যাব না। আমি বলেই দিয়েছি খড়দহে যতদিন আছি আমাকে কোনও উপহার দেওয়া যাবে না। আমি কারও কোনও উপহার গ্রহণ করব না।”
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sundarbans Museum: এই সংগ্রহশালা ঘুরে দেখার জন্য তিনি কোনও অর্থ নেননা। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরে যেটুকু অর্থ উপার্জন হয় তার সবটুকু দিয়েই এই সংগ্রহশালা তৈরি হয়েছে।
শুধু উপহার বা টাকা পয়সা নয়, জনগণের সঙ্গে কোনও লেনদেনের রাস্তাতেই যে তিনি হাঁটেন না তা স্পষ্ট করে দিয়ে শোভনদেব বলেন, “আমি কারও বাড়িতে খাব না। একটা সময় খেতাম। ৩১ বছর ধরে আমি বিধায়ক আছি কেন? কেন আমি এই সিদ্ধান্ত নিলাম? আমি চাই না আমার গায়ে কেউ কালো দাগ ছিটিয়ে দিক। এত বয়স হয়েছে, মাথা উঁচু করে আছি। আমি চাই না আমাকে ব্যাবহার করে কেউ তাঁর নিজের সম্পদ বাড়াক।”
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Netaji Subhash and Mahatma Gandhi: মোদির মুখে বারবার নেতাজির নাম এবং জাতীয়তাবাদে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়দের ভূমিকা উঠে এসেছে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে খানিকটা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন মহাত্মা গান্ধী।
নাম না করেই যে তিনি পার্থ-অনুব্রত কাণ্ডের চুনকালি থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন তা স্পষ্ট করতে শোভনদেব বলেন, “আপনারা আমাদের খেয়াল রাখুন। আমাকে ভোট দিলেন, আমার চালচরণ কেমন, জীবনযাত্রা কেমন, আমি কি সত্যি এখানকার মানুষের কাজ করছি, না কি আমি আমার ক্ষমতার বলে সম্পদ বাড়াবার চেষ্টা করছি খেয়াল রাখুন। তা না হলে আমাদের দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।”
হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমার কিছুই ছিল না, দেখা গেল হঠাৎ অনেক কিছু হয়ে গেল। ছিলাম বাসের কন্ডাক্টর, হয়ে গেলাম ৫০ বিঘা জমির মালিক! আমার বাবা আমাকে বিধায়ক-মন্ত্রী করেননি, আমার দল করেছে, মানুষ করেছে। কেন দেবেন কাউকে টাকা! সজাগ হয়ে যান না হলে আগামী দিন সন্তানদের কোনও নিরাপত্তা থাকবে না।” দলের দুই হেভিওয়েট পার্থ ও অনুব্রতকে নিশানা করে তিনি জানিয়ে দেন ‘অসতের পাশে’ নেই দল। শোভনদেব বলেন, “আমাদের দলের যেসব লোকেরা অন্যায় করছে আমরা কারও দায়িত্ব নেব না।”
















