এসএসসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার ঘোষণাকে কেন মৃত্যু পরোয়ানা বলছেন শিক্ষকরা?

SSC Recruitment Mamata Banerjee: যোগ্য চাকরিহারাদের দাবি ছিল, তাঁরা যেহেতু যোগ্য, তাঁরা যেহেতু কোনও কারচুপি না করেই নিজের মেধার জোরে চাকরি পেয়েছিলেন। তাই তাঁরা আর পরীক্ষায় বসবেন না।

inscript
৩ মিনিট
এসএসসি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার ঘোষণাকে কেন মৃত্যু পরোয়ানা বলছেন শিক্ষকরা?

একবার চাকরি পেতে পরীক্ষা দিয়েছেন সকলেই। অধিকাংশ যোগ্য প্রার্থীর মধ্যে কিছু সংখ্যক অযোগ্য প্রার্থী মিশে থাকায় আদালতের নির্দেশে আস্ত প্যানেলই বাতিল হয়ে গিয়েছে। বেশ কয়েক বছর চাকরি করে, একটি রায়ে চাকরি হারিয়ে শিক্ষক শিক্ষাকর্মীরা নিজেদের দাবি আদায়ে লড়ে যাচ্ছেন। পুলিশের লাঠি খাচ্ছেন, রক্তাক্ত হচ্ছেন! বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই জানেন এই অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় একমাত্র রাজ্য সরকারের। রাজ্য সরকারের হাতেই ছিল এই ঘটনা সামাল দিতে, বিক্ষোভ সামাল দিতে বিশেষ কোনও বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা। আর সরকার অবশেষে যে বন্দোবস্ত করেছে, তাকে নিজেদের 'মৃত্যু পরোয়ানা' বলেই মনে করছেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন করে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। বলা বাহুল্য, নতুন করে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি, তারপরেও সেই পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ হবে কিনা, হলেও সেই নিয়োগ সৎ হবে কিনা এই প্রশ্ন এখনও থেকেই যাচ্ছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণায় পায়ের তলা থেকে নড়বড়ে জমিটুকুও যেন হারিয়ে ফেললেন যোগ্য চাকরিহারারা।

তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সরকার চাকরিহারা মানুষদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছে ঠিকই, তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মেনে চলতে হচ্ছে। তাই আদালতের নির্দেশ মতোই নতুন করে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। শিক্ষকরা বলছেন, এই নতুন করে পরীক্ষা দিতে বলা মৃত্যুরই শামিল। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি বহাল রেখেছে যোগ্য প্রার্থীদের। এবং মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন স্কুলে ক্লাসও করাতে হবে। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা স্কুলে পড়িয়ে, নিজেদের জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাত সামলে কীভাবে আবারও পরীক্ষা দেবেন, উত্তীর্ণ হবেন তা নিয়ে সংশয়ে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রশ্ন, সাত বছর এক জায়গায় চাকরি করার, ফের সেই একই চাকরির জন্য ‘যোগ্যতা’ কেনই বা প্রমাণ করতে হবে তাঁদের? আর সেই জন্য প্রস্তুতিও কি এত কম সময়ে নেওয়া সম্ভব হবে?

যোগ্য চাকরিহারাদের দাবি ছিল, তাঁরা যেহেতু যোগ্য, তাঁরা যেহেতু কোনও কারচুপি না করেই নিজের মেধার জোরে চাকরি পেয়েছিলেন। তাই তাঁরা আর পরীক্ষায় বসবেন না। কীভাবে তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে তা দেখার দায়িত্ব নিক সরকার। কিন্তু সরকার যে এই নিয়ে পদক্ষেপ করতে অপারগ তা মঙ্গলবার নবান্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই স্পষ্ট করে দেন। তিনি জানিয়ে দেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ৩০ মে নতুন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আদালতের কাছে রাজ্য সরকার যে আবেদন করেছে তারও তদ্বির করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। মমতা বলেছেন, ‘‘আমরা যাঁরা সরকার চালাই, আইন মেনে চলতে হয়। আইনের বাইরে গিয়ে যদি কিছু করি, অন্য বার্তা যেতে পারে। সঠিক সময়ে রিভিউ পিটিশন দিয়েছি। সেখানে কারও চাকরি যাওয়ার কথা বলিনি। রিভিউ আলোচনার সুযোগ আসেনি। কারণ, গরমের ছুটি পড়ে গিয়েছে। আমরা তত ক্ষণ অপেক্ষা করলে, আগের অর্ডার না-মানলে যদি সুপ্রিম কোর্ট বলে, নির্দেশ মানোনি, সবটাই বাতিল! এটা আমরা চাই না।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"কারও চাকরি যাবে না": এসএসসি-র চাকরিহারাদের উদ্দেশে যা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Mamata Banerjee on SSC: সিপিএমকে আক্রমণ মমতা বলেন, ‘‘আমি অনেক কথা জেনেও সিপিএমের কারও কোনও চাকরি খাইনি। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কেন মামলা করলেন?"

বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আমরা সবটাই রেডি করে রাখছি। যদি রিভিউয়ে বলে যে পরীক্ষা দিতে হবে না, লিস্ট বাতিল করা হল না, তখন সুপ্রিম কোর্টের কথা শুনব।’’ তবে যদি পুনর্বিবেচনার আবেদনে আদালত কোনও ইতিবাচক নির্দেশ না দিলে আবারও পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেতে হবে।

মমতা বলেছেন, ‘‘৩১ মে বিজ্ঞপ্তি জারির শেষ সময়। বিজ্ঞাপন দিতে হবে ৩০ মে। রিভিউয়ের সুযোগ সব সময় খোলা রয়েছে। যত ক্ষণ রিভিউ না-হচ্ছে, বিজ্ঞপ্তি জারির প্রক্রিয়া চালানো হবে। যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে চান, তাঁরা তা করতে পারবেন ১৬ জুন থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত। যদি রিভিউ হতে সময় লাগে, তাই হাতে সময় রাখা হয়েছে।’’

উল্লেখ্য, ১৪ জুলাই অনলাইনে আবেদনের শেষ দিন। রিভিউ পিটিশনের সময় রেখে ১৫ নভেম্বর প্যানেল প্রকাশ হবে। রিভিউ পিটিশনে কিছু না হলে নভেম্বরের মধ্যেই কাউন্সেলিং হবে সরকার জানিয়েছে। ২৪ হাজার ২০৩টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু ডিসেম্বর পর্যন্ত এই শিক্ষকদের কাজ চালাতে বলেছে, তাই সেই আদেশও মেনে চলতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নবম-দশমে ১১ হাজার ৫১৭টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ, আর একাদশ-দ্বাদশে ৯ হাজার ৯১২টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেছেন, "যাঁদের চাকরি বাতিল, তাঁদের জন্য আমরা অন্য ব্যবস্থা করব।" মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর হতাশ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা মনে করছেন, আদালতেও তাঁরা বিচার পাননি, সরকারও তাঁদের পাশে রইল না। গোটা বিষয়টায় সরকারের সদিচ্ছার অভাবের অভিযোগই তুলছেন তাঁরা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।