ভারতীয় মশলা মানেই বিষ? কেন একের পর এক দেশে জারি নিষেধাজ্ঞা?

কেন বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ হচ্ছে ভারতীয় মশলা? কেন বিষাক্ত রাসায়নিক সম্পর্কে আগে সতর্ক হয়নি মোদী সরকার?

Sohini Das
৩ মিনিট
ভারতীয় মশলা মানেই বিষ? কেন একের পর এক দেশে জারি নিষেধাজ্ঞা?

লোকসভা ভোটের মধ্যেই নয়া বিপদের মুখে ভারত। এবার পড়শি দেশেও নিষিদ্ধ করা হল ভারতীয় মশলা। এর আগে ভারতীয় মশলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সিঙ্গাপুর এবং হংকং। তার পর নেপাল তৃতীয় দেশ, যেখানে নিষিদ্ধ হল ভারতীয় মশলা। ভারতের দু'টি মশলা প্রস্তুতকারক সংস্থাকে সেখানে নিষিদ্ধ বলে জানিয়ে দিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় মশলা প্রস্তুতকারক সংস্থা 'এমডিএইচ' এবং 'এভারেস্ট'-এর কোনও মশলাই আর ভারত থেকে আমদানি করবে না নেপাল।

কেন এমন সিদ্ধান্ত নেপালের? সূত্রের খবর, সে দেশের খাদ্য প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলি ওই দুই সংস্থার মশলার উপাদান ও তার গুণগতমান পরীক্ষা করে দেখেছে। আর তার পরেই সামনে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। নেপাল সরকারের খাদ্য প্রযুক্তি এবং মান নিয়ন্ত্রক বিভাগের মুখপাত্র মোহনকৃষ্ণ মহার্জনের তরফে সংবাদমাধ্য়মকে জানানো হয়েছে, ‘এমডিএইচ এবং এভারেস্টের মশলার আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের এখানে বাজারে ওই মশলা বিক্রিও নিষিদ্ধ করেছি। ওই মশলাগুলিতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই এই পদক্ষেপ।’’ পাশাপাশি তিনি এ-ও জানান, ‘‘এই নির্দিষ্ট দু’টি ব্র্যান্ডের মশলায় ক্ষতিকর রাসায়নিক আছে কি না, ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক রয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।’’

কী সেই রাসায়নিক? সূত্রের খবর, মাত্রাতিরিক্ত এথিলিন অক্সাইড নামক কীটনাশক রয়েছে বলে অভিযোগ ওই দু'টি সংস্থার কীটনাশকে। সেই কারণেই ওই সংস্থার মশলাগুলিকে নিষিদ্ধ করে হংকং ও সিঙ্গাপুরে। শুধু তারাই নয়, তার পরে ভারতের ওই দু'টি মশলা উৎপাদক সংস্থার বিভিন্ন পণ্যের উপর নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে একাধিক দেশ। ইতিমধ্যেই ভারতের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা FSSI-ও ওই মশলা উৎপাদক সংস্থার পণ্যের উপর নজরদারি শুরু করেছে। নেপালের খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডিপার্টমেন্ট অব ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন রিপোর্ট নজরে আসার পরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে তারা। তবে এমডিএইচ ও এভারেস্টের তরফে কিন্তু দাবি করা হয়েছে, তাদের মশলা নিরাপদ।

কেন ক্ষতিকর এই এথিলিন অক্সাইড?

বিশেষজ্ঞমহল ও বিভিন্ন দেশের খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বক্তব্য, এথিলিন অক্সাইড নামক এই রাসায়নিকটি শরীরে বেশি পরিমাণে ঢুকতে থাকলে ক্যানসারের আশঙ্কা রয়েছে। নেপালের খাদ্য দফতরের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ওই চারটি মশলায় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি এথিলিন অক্সাইড পাওয়া গিয়েছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বিধি অনুযায়ী দেশে ওই সমস্ত মশলার আমদানি এবং বিক্রির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।’’

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপাল তো রয়েইছে, একই সঙ্গে আমেরিকা, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াতেও আতসকাচের তলায় এসেছে ভারতের এই দুই ব্র্যান্ডেড মশলা। তবে এখনও সেই সব দেশে মশলাগুলি নিষিদ্ধ করার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কিন্তু সে দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তা তাঁদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। সত্যিই সেই মশলাগুলি থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি কতটা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন ব্যবহার করা হয় এই এথিলিন অক্সাইড?

জানা গিয়েছে মশলা জীবাণুমুক্ত করার জন্যই এই রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এপ্রিল মাসে এই কীটনাশকের উপস্থিতির অভিযোগ তুলেই ওই দুটি ব্র্যান্ডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল সিঙ্গাপুর। তার পরে সেই একই পথে হাঁটে হংকংও। আর এর পর বড় ধাক্কা এল নেপালের তরফেও।

পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ মশলা রফতানির বাজার ভারত। গোটা বিশ্বে ভারত থেকে মশলা সরবরাহ হয়। ফলে অর্থনীতির একটা বড় অংশ নির্ভর করে থাকে এই মশলা রফতানির বাজারের উপর। ২০২৩ সালে ভারত গোটা বিশ্বে ৩.৮৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মশলা রফতানি করেছে বিশ্বে। এবার সেই মশলার বাজারেই আঁচ আসতে শুরু করেছে রাসায়নিক যৌগের সন্ধান মেলাকে কেন্দ্র করে। এর প্রভাব কতখানি পড়তে চলেছে চলতি বছরের অর্থনীতিতে। ভোটের বাজারেই বা কতখানি এর প্রভাব পড়তে চলেছে। মশলা রফতানির সঙ্কট একগুচ্ছ প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে ভারতের সামনে। তাছাড়া প্রশ্ন উঠছে, নরেন্দ্র মোদীর সরকার এই মশলার গুণমান বিষয়ে আগে কেন সতর্ক হয়নি?

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।