Climate Change: আগামী দিনে খেয়ে-পরে বাঁচবে তো মানুষ? যে আশঙ্কার কথা জানালেন পরিবেশবিজ্ঞানীরা

Global Warming; ২০২৩ সাল বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। ওই বছর রেকর্ড তাপমাত্রা লক্ষ্য করা গিয়েছে বিশ্ব জুড়েই। বিশেষত জীবাশ্ম জ্বালানীর বাড়বাড়ন্ত আরও বাড়িয়ে চলেছে উষ্ণায়নের সমস্যাকে।

Sohini Das
৩ মিনিট
Climate Change: আগামী দিনে খেয়ে-পরে বাঁচবে তো মানুষ? যে আশঙ্কার কথা জানালেন পরিবেশবিজ্ঞানীরা

এখনকার খাবার মানেই ভেজাল। আজকের পৃথিবীতে ভেজালহীন খাবার যেন সোনার পাথরবাটি। অথচ আজ থেকে একশো বছর আগেও খাবারদাবারে এই পরিমাণ ভেজাল সমস্যা চোখে পড়ত না। খেতে মিলত বিশুদ্ধ সবজি, গাছে মিলত ফল। পুকুরে বিশুদ্ধ মাছ। অথচ সেই জায়গাটাই গত কয়েক বছরে আমূল বদলে গিয়েছে। এখন সবেতেই কীটনাশক, বিষ। ফলে পুষ্টিও থেকে যায় অধরাই। গোটা বিশ্ব জুড়ে যে খাদ্যকে ঘিরে যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েই চলেছে দিন কে দিন, তার নেপথ্যে আসলে ঠিক কী কারণ? সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা অবশ্য তার জন্য দায়ী করেছেন জলবায়ু পরিবর্তনকেই।

ক্রমে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে গরম। বিশ্ব উষ্ণায়নের যে প্রভাবের কথা পরিবেশবিদেরা বলে বলে মুখ ব্যথা করত এতদিন, তা সচক্ষে দেখা গিয়েছে গত কয়েক বছর ধরে। যে সব জায়গায় কার্যত গরম পড়তই না বলা চলে, সেখানেও তাপপ্রবাহের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই যে দিনে দিনে ভয়ঙ্কর গরমের উৎপাত, তার জন্য কিন্তু পরিবেশবিদেরা দুষেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাকেই। চলতি বছর গরমের শ্রীবৃদ্ধির জন্য এলনিনো-র খানিকটা ভূমিকা থাকলেও বিশ্ব উষ্ণায়নের নেপথ্যে রয়েছে পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যা, তা একবাক্যে মানবেন সকলে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ভয়ঙ্কর যে উষ্ণায়ন এবং তার জন্য় পাল্টে যাওয়া জলবায়ু তা যেমন বিশ্বজুড়ে খরার সমস্যাকে বাড়িয়েছে, তেমনই গোটা বিশ্বের খাদ্য-নিরাপত্তাকেও বিপজ্জনক জায়গায় ঠেলে দিয়েছে।

২০২৩ সাল বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। ওই বছর রেকর্ড তাপমাত্রা লক্ষ্য করা গিয়েছে বিশ্ব জুড়েই। বিশেষত জীবাশ্ম জ্বালানীর বাড়বাড়ন্ত আরও বাড়িয়ে চলেছে উষ্ণায়নের সমস্যাকে। ল্যানসেট কাউন্টডাউনের রিপোর্ট বলছে, গত ৬৫ বছরে ২০২৩ সালে তাপজনীত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য রকমের বেশি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রবীণেরা। ১৯৯০ সালেও গরমের কারণে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে গিয়েছে গত বছরের রিপোর্ট। ল্যানসেট কাউন্টডাউনের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর মেরিনা বেলেন রোমানেলো আশঙ্কা করছেন, বছর বছর জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এই ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে নানাবিধ অসুখও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১০০-তে শূন্য! প্রকৃতি সংরক্ষণ সূচকে কেন এমন লজ্জাজনক অবস্থা ভারতের?

India Nature Conservation Index Rank: বিশ্বের অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার ক্ষেত্রে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত।

উদাহরণ হিসেবে মেরিনা জানান, যাঁরা বাইরে শারীরিক কসরত বা ব্য়ায়াম করেন, তাঁদের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে ভয়ঙ্কর গরমের জন্য শ্রমের সময়ের উপরেও গুরুতর প্রভাব পড়ছে। গত বছর চরম উত্তাপের কারণে বিশ্বের আনুমানিক ৫১২ বিলিয়ন সম্ভাব্য শ্রমঘণ্টা বরবাদ হয়েছে। যেখান থেকে শত শত বিলিয়ন আয় করা সম্ভব ছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফুরিয়ে যাচ্ছে আমাজন, চার দশকে যেভাবে কুঠার চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিঅরণ্যে

Amazon Forest Deforestation: কখনও খনি খননের প্রয়োজন, তো কখনও কৃষিজমির দরকারে, কখনও বা গবাদি পশুর চারণভূমি তৈরি করার জন্য অবাধে নষ্ট করা হয়েছে জঙ্গল। দখল হয়ে গিয়েছে পৃথিবীর সাধের আমাজন।

এমনিতে কোভিড অতিমারি আমাদের জীবনযাপনের উপরে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। বদলে গিয়েছে মানুষের কাজের অভ্যাস। বাইরের তুলনায় ঘরে বসে কাজ করাকেই মানুষ নতুন অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে। সেই পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে উষ্ণায়নের সমস্যা। এসবের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় যে সমস্যা দেখা যাচ্ছে এই উষ্ণায়নের জেরে, তা হল খাদ্যসমস্যা। দেখা গিয়েছে, গত বছর বিশ্বের অন্তত ৪৮ শতাংশ ভূমিই চরম খরা পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। যার জন্য চাষাবাদ, ভালো ফলনের আশা কোনওটাই তেমন ভাবে করা যাচ্ছে না। ফসল ফলানোর জন্য নানা ধরনের রাসায়নিক সার, কেমিক্যালের ব্যবহার বাড়ছে। তাতে ফলন বাড়লেও কমছে খাদ্যের পুষ্টিগুণ।

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, যার জেরে ১৯৮১-২০১০ সাল, এই দীর্ঘ সময়ের চেয়ে গত কয়েক বছরে কার্যত ১৫১ মিলিয়ন মানুষ খাদ্য নিয়ে ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েছেন। এবং এই সমস্যা উত্তরোত্তর আরও বাড়ছে। সামগ্রিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বেড়েছে বৃষ্টির পরিমাণও। গত বছর অতিবৃষ্টির জেরে ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ জমিই। বন্যাপরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দূষিত হয়েছে জল এবং যার জেরে সংক্রামক রোগের ঝঁকি ক্রমশ বেড়েছে।

কীভাবে এই বিশ্বজনীন সমস্য়া থেকে রেহাই মিলবে? জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যা নিয়ে একটা দীর্ঘ সময় ধরে মাথাই ঘামাতে চাননি বিশ্বনেতারা। যদিও পরিবেশবিদদের এ নিয়ে উদ্বেগের অন্ত নেই। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতারেস জানাচ্ছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে না পারলে সকলের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যত তৈরির আশা ক্রমশ দূরতর দ্বীপ হয়ে যেতে চলেছে আগামী দিনে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে সংক্রামক ব্যধি। এখন থেকে সতর্ক না হলে অচিরেই অন্ধকার নামবে গোটা বিশ্ব জুড়ে, সে ব্যপারে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞ মহল।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।