ভাঙাচোরা প্লাস্টিকের বদলে খাবার! কোথায় আছে এই অদ্ভুত আবর্জনা ক্যাফে?

Garbage Café: এই গারবেজ ক্যাফেতে হাফ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে আপনি পাবেন প্রাতঃরাশ। প্রাতঃরাশে কী কী মেলে?

inscript
৩ মিনিট
ভাঙাচোরা প্লাস্টিকের বদলে খাবার! কোথায় আছে এই অদ্ভুত আবর্জনা ক্যাফে?

শীত এলেই খাই-খাই করে মন। ভালোটা-মন্দটা পেটে পুরতে বড় সাধ হয়। চারদিক থেকে ভেসে আসা খাবারের গন্ধে মন উথাল-পাথাল করে। মন টানে, পকেট পিছনে টানে। শখ আর সাধ্যের মধ্যে ছোটখাট বিশ্বযুদ্ধ বাঁধে। যদি পকেট পাতলা না করেই এমন সব সুখাদ্য পেটস্থ করা যেত! মানে যত ইচ্ছা খাব, পয়সা লাগবে না, এমন ইউটোপিয়ান দিন কি আসতে পারে না? আসতে পারে, এসে গেছেও! খিদে পেলে টাকা দিয়ে কিনতে হবে না আর। বাড়ির ভাঙাচোরা প্লাস্টিক নিয়ে গেলেই হবে।

শীতে নানা ক্যাফে, রেস্তোরাঁ খুঁজে নতুন খাবার, নতুন পরিবেশ 'ট্রাই' করতে ভালোবাসেন অনেকেই। এবার শীতে নতুন এই অদ্ভুত ক্যাফেতে যেতেই পারেন সুযোগ হলে। খিদে পেলেও লাগবে না পয়সা। ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুর জেলায় এমনই এক অদ্ভুত ক্যাফে রয়েছে। সেখানে খাবার কিনতে পয়সা লাগে না। লাগে প্লাস্টিক বর্জ্য। আশ্চর্যজনক এই ক্যাফের নামটাও তেমনই, গারবেজ ক্যাফে! ধরা যাক, ৬ টা প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে এলেন আপনি, বিনিময়ে পেলেন ১ প্লেট কাবাব! প্লাস্টিকের বোতল বা অন্যান্য বর্জ্য নিয়ে এলেই বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করা হয় গ্রাহকদের।

প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্যকে আরেকটু দীর্ঘস্থায়ী করে তোলার লক্ষ্যেই এই ক্যাফে তৈরি। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ভারতে এমন উদ্যোগ এই প্রথম। অম্বিকাপুর এমনিও পরিচ্ছন্নতার জন্য বিখ্যাত। ইন্দোরের পাশাপাশিই ভারতের অন্যতম পরিচ্ছন্ন শহর হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে অম্বিকাপুর। শহরটিকে প্লাস্টিক-মুক্ত করার প্রচেষ্টায় এই ক্যাফের যাত্রা শুরু।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নাম রয়েছে গিনেস বুকেও, জানেন বিশ্বের প্রাচীনতম নিরামিষ রেস্তোরাঁটি কোথায় অবস্থিত?

World's first vegetarian restaurant : ১২৫ বছর ধরে হাউস হিল্টলে নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয় এখানে, জানেন কোথায় রয়েছে বিশ্বের প্রাচীনতম নিরামিষ রেস্টুরেন্ট?

এই গারবেজ ক্যাফেতে হাফ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে আপনি পাবেন প্রাতঃরাশ। প্রাতঃরাশে কী কী মেলে এই ক্যাফেতে? আলুর চাপ, ইডলি, সমোসা এবং পাউরুটির চপ পাবেন মেনুতে। ১ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে এলে স্বাস্থ্যকর পেটভরা দুপুরের খাবার উপভোগ করতে পারবেন। পাবেন চারটি রুটি, দুই ধরনের সবজি, ডাল, হাফ প্লেট ভাত, স্যালাড, দই, আচার এবং পাঁপড় থাকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সুরা-মাংস-কবরখানার পথ! যেভাবে বদলে যাচ্ছে পার্কস্ট্রিটের সড়ক বাস্তবতা

Kolkata Park Street: এশিয়াটিক সোসাইটির বাড়ি যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকে দশ-পা এগোলেই ছিল মধ্যবিত্তের আওতায় থাকা, খোলামেলা চিনে রেস্তোরাঁ 'পিপিং'।

আসলে কেবল প্লাস্টিক দূষণের সমস্যার সমাধান করাই লক্ষ্য না। এই পৃথিবীতে কেউ যেন না খেয়ে থাকে সেই লক্ষ্যেও কাজ করছে ক্যাফেটি। যারা প্লাস্টিক বর্জ্য আনেন না তাঁদের জন্য ক্যাফেতে নামমাত্র মূল্যে খাবার পাওয়া যায়। ৪০ টাকা দিলেই একজন পেটভরে খেতে পারবেন সাধারণ শাকসবজি, ভাত, ডাল, আচার এবং স্যালাড। ৫০ টাকার থালিতে পাবেন দু'টি সাধারণ সবজি, চারটি রুটি, ডাল, ভাত, স্যালাড, পাঁপড় এবং আচার। ৭০ টাকার থালিতে পাওয়া যায় পনিরের তরকারি, দুই ধরনের সবজি, ভাত, ডাল, আচার এবং স্যালাড।

ভারতে প্রতিদিন ২৬,০০০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এই বর্জ্য পরিবেশের জন্য বিষাক্ত! প্লাস্টিক জলপথ আটকে দেয়, জমি দূষিত করে এবং বন্যপ্রাণীকেও বিপন্ন করে তোলে। পাশাপাশি, ভারতের ১৪০ কোটি নাগরিকের অর্ধেকেরও বেশি দারিদ্র্যের মধ্যেই বাস করে। খাবারের মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতেও হিমশিম খায় মানুষ। বেলজিয়াম এবং কম্বোডিয়ায় ঠিক এমনই ক্যাফে রয়েছে। গারবেজ ক্যাফের অনুপ্রেরণাও সেখান থেকেই পাওয়া। ভারতের প্রথম এই গারবেজ ক্যাফেতে প্লাস্টিকের নির্দিষ্ট বর্জ্য নিয়ে এলেই বিনিময়ে কুপন দেওয়া হয়।

তারপর কুপনগুলি শহরের প্রধান বাস স্ট্যান্ডে অবস্থিত গারবেজ ক্যাফেতে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে, সকালের বা দুপুরের খাবার পাওয়া যায় কুপন দেখালেই। সংগৃহীত প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে পাঠানো হয়। সেখানে এগুলি প্লাস্টিকের কণায় রূপান্তরিত হয়। মজার বিষয় হচ্ছে, ভারত এখন রাস্তা নির্মাণে প্লাস্টিকের ব্যবহার করেছে। ৩৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি প্লাস্টিকের রাস্তা ইতিমধ্যেই সারা দেশে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তৈরি হয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
15 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।