নেহরুর প্রতিধ্বনি নিউইয়র্কে! ঐতিহাসিক বিজয়ভাষণে মামদানি যা বললেন

Zohran Mamdani's powerful victory speech: তাঁর কাছে এই জয় শ্রমজীবী মানুষের জয়। তিনি বলেন, এতদিন যারা কেবল ভোট দিয়েছেন, এবার ক্ষমতা থাকবে তাঁদের হাতেই।

inscript
২ মিনিট
নেহরুর প্রতিধ্বনি নিউইয়র্কে! ঐতিহাসিক বিজয়ভাষণে মামদানি যা বললেন

নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস লেখা হলো। ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহারান মামদানি জয়ী হলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে। তিনিই এই শহরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র। তাঁর বিজয়ভাষণে ফিরে এল ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সেই ঐতিহাসিক উক্তি:

“A moment comes but rarely in history when we step out from the old to the new.”

মামদানি বলেন, “আমার মনে পড়ছে জওহরলাল নেহরুর সেই কথা, 'ইতিহাসে খুব কমই এমন মুহূর্ত আসে, যখন আমরা পুরনোকে পেরিয়ে নতুনের পথে এগিয়ে যায়'। আজ রাতে, আমরা সেই পথেই এগোচ্ছি।” এই উদ্ধৃতি ব্যবহার করেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন— তাঁর বিজয় শুধু কোনো দলের নয়, বরং মানসিকতারও। রাজনীতির পুরনো ধারা ভেঙে নিউইয়র্ক এখন এগোচ্ছে এক নতুন পথে— নেতৃত্বে এখন অভিবাসীর সন্তান, মুসলিম, এবং এক ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট’ নেতা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রাম্প-মাস্কের হুঙ্কারকে দুয়ো! ইতিহাস গড়লেন জোহরান মামদানি

Zohran Mamdani Becomes New York Mayor: মামদানির প্রচারের বার্তাই তরুণ ভোটার, অভিবাসী এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে।

নিজের ভাষণে মামদানি সরাসরি বলেন, “মনে পড়ে, নিউইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষরা সবসময় বলতেন— ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। কিন্তু আজ, সব বাধা পেরিয়ে আমরা সেই ক্ষমতাই নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছি।” অর্থাৎ, তাঁর কাছে এই জয় শ্রমজীবী মানুষের জয়। তিনি বলেন, এতদিন যারা কেবল ভোট দিয়েছেন, এবার ক্ষমতা থাকবে তাঁদের হাতেই। ‘নিউইয়র্ক এখন কেবল ধনীদের শহর নয়— এটি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, অভিবাসী, সব নাগরিকের শহর।’

ভাষণের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে মামদানি তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প, জানি তুমি দেখছ, তাই তোমার জন্য চারটে শব্দ বলছি— আওয়াজ একটু বাড়িয়ে নাও!”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মীরা নায়ারের পুত্র, মোদি সমালোচক— নিউ ইয়র্ককে দিশা দেখাবেন ভাবী মেয়র মামদানি?

Zohran Mamdani: বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত উগান্ডার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান হলেন জোহরান মামদানি।

এরপর তিনি বলেন, “যে শহর ট্রাম্পকে জন্ম দিয়েছে, সেই নিউইয়র্কই এখন দেখাবে কীভাবে তাঁকে পরাস্ত করা যায়। অন্ধকারাচ্ছন রাজনীতি থেকে নিউইয়র্ক হয়ে উঠবে আশার আলো।”

জয়ের পর তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন, শিশু দেখাশোনা কেন্দ্র (Universal Child Care), বিনামূল্যে বাস পরিষেবা (Free City Buses), ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা (Rent Freeze for Tenants)। তিনি বলেন, “আমাদের সাফল্য বুঝতে পারবেন সেই ভাড়াটে মানুষরা, যাঁরা প্রতিমাসে জানতে পারবেন— এই মাসেও তাঁদের বাড়ি ভাড়া বাড়েনি।” এই প্রতিশ্রুতিগুলি নিউইয়র্কের শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

নিজের পরিচয় নিয়ে ভাষণে তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমি তরুণ। আমি মুসলিম। আমি একজন গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক। আর সবচেয়ে বড় কথা— এর কোনো কিছুর জন্যই আমি ক্ষমা চাই না।” মামদানির এই জয় শুধু নিউইয়র্ক শহরের নয়, বরং পুরো মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে, বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক অভিবাসীর সন্তান, পরিচয়ে মুসলিম, ট্রাম্পের শহরেই জয়ের পতাকা তুলেছেন। ভাষণে স্পষ্ট বলেছেন, “আজ আমরা পুরনোকে পেরিয়ে নতুনের পথে হাঁটছি— এমন এক শহর গড়ব, যা সবার।" জোহারান মামদানির এই বিজয়ভাষণ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যই নয়, বরং সমাজের প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। তিনি বললেন, 'আমাদের ভবিষ্যৎ এখন আমাদের হাতেই।' এই বার্তা নিয়েই তিনি নিউইয়র্ককে এমন এক শহর হিসেবে গড়তে চান, যেখানে সবার জন্য সমান সুযোগ আর ন্যায়বিচার থাকবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।