১ বছর পার! প্রতিশ্রুতি রাখতে পারল অন্তর্বর্তী সরকার?

Bangladesh: রিপোর্টে এই ব্যক্তিদের নাম, ছবি, বয়স এবং ঠিকানার পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান মিলিয়ে দেখা গিয়েছে, গণহিংসায় মৃত্যু বেড়েছে বারো গুণ।

inscript
৫ মিনিট
১ বছর পার! প্রতিশ্রুতি রাখতে পারল অন্তর্বর্তী সরকার?

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি, নির্বাচন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনবে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তিতে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, শুধু জুলাই-অগাস্টের হত্যাকাণ্ডেরই নয়, গত দেড় দশক যে অপকর্ম করেছে হাসিনা সরকার সে সব কিছুর বিচার হবে। সংস্কার কমিশনগুলো যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। দেখা যাক, এই এক বছরে কী কী প্রতিশ্রুতি পূরণ হল? এবং কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার?

গত বছর ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এক টানা ষোলো বছর ক্ষমতায় ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সভানেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের কিছু মাস পরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে লেগে পড়েছিলেন শেখ হাসিনা। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১,৪০০। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো আন্দোলনে এত কম সময়ে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। শেখ হাসিনার পতনের পর ছাত্র প্রতিনিধি-সহ শপথ নেয় নতুন অন্তর্বর্তী সরকার। এখনও তারাই ক্ষমতায় রয়েছে। প্রশ্ন হল, এমন একটি শক্তিশালী আন্দোলনের পর গড়ে ওঠা সরকার এক বছরে কতটা বৈষম্য দূর করতে পারল?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৬ মাসেই পদত্যাগ! কেন বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে?

Seikh Hasina : জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১,৪০০। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো আন্দোলনে এত কম সময়ে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার হিসেব দিয়েছিল, জুলাই-অগাস্টের গণহত্যায় বেশিরভাগ মানুষই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। এই নিয়ে কয়েক শো মামলা করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি অভিযুক্ত করা হয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীদের। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। মামালাগুলির বিচার শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়, আন্তজার্তিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের রেড অ্যালার্ট জারির জন্য।

সরকারের প্রতিনিধিরা বলেছিলেন, গণঅভ্যুত্থানে কুড়ি হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতরা কেউ চোখ, কেউ হাত, কেউ পা হারিয়েছেন। অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন। নতুন সরকার আহতদের চিকিৎসার জন্য এবং নিহত পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্যের জন্য 'জুলাই শহিদ স্মৃতি' গঠন করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও আহতরা সুচিকিৎসার জন্য বিক্ষোভ করছেন।

ক্ষমতা পাওয়ার এক মাসের মধ্যেই সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ, বিচারবিভাগ, দুর্নীতিদমন ও জনপ্রশাসন সংস্কার সব মিলিয়ে ছ-টি আলাদা কমিশন গঠন করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরবর্তী সময়ে আরও চারটি সংস্কার কমিশন (স্বাস্থ্যবিষয়ক, গণমাধ্যম, শ্রমিক অধিকারিক, নারী বিষয়ক) যুক্ত করা হয়েছিল। এই দশটি কমিশনের কোথায় কী সংস্কার হওয়া প্রয়োজন সেই নিয়ে কাজও শুরু হয়েছিল। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সংস্কার কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়েছিল সরকার কর্তৃপক্ষ। তবে এই সংস্কার-কাজ কবে শেষ হবে তা এখনও জানানো হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা সংস্কার-কাজ নিয়ে সুনাম করলেও, তাঁরা বলছেন আরও দ্রুত এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি! গত বছর ৫ অগাস্ট কী হয়েছিল বাংলাদেশে?

Bangladesh: কোটা সংস্কারের দাবিতে টানা ৩৩ দিন রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করেন বাংলাদেশের ছাত্রজনতা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১,৪০০।

হাসিনা সরকারের প্রতি বাংলাদেশবাসীর ক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, হাসিনা ক্ষমতা হারানোর আগে বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ১১.৬৬%। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর মুদ্রাস্ফীতি কমলেও খুচরো বাজারে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। বর্তমান সরকার সুদের হার বাড়ানোর পাশাপশি নতুন করে টাকা না ছড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতি সামাল দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তেল, চিনির মতো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্কহার কমিয়েও দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার।

হাসিনা আমলের শেষ দিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে পনেরো বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর সেটি বৃদ্ধি পেয়েছে। এটিএম ও অন্যান্য ব্যবস্থায় টাকা তোলার ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ-সহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, ব্যাঙ্কখাতের যে সংকট ছিল তা এখনও কাটিয়ে ওঠা যায়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকার পক্ষ জানিয়েছিল, ব্যাঙ্কখাত সংস্কার ও অনিয়ম-দুর্নীতিরোধে একটি ব্যাঙ্কিং কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু ব্যাঙ্কের বোর্ড নতুন করে গঠন করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক, দেশের দুর্বল ব্যাঙ্কগুলিকে আর টাকা ধার দিচ্ছে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক পরামর্শ দিয়েছে, যাতে বাণিজ্যিক ভাবে ভালো পরিস্থিতিতে থাকা ব্যাঙ্কগুলি দুর্বল ব্যাঙ্কগুলিকে উঠে আসতে সাহায্য করে। বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, "গত পনেরো বছর ধরে দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে ব্যাঙ্কিং খাত থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। তবে এখন কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেন বন্ধ হয়ে না যায় সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।' যদিও এখনও দুর্বল ব্যাঙ্কগুলি গ্রাহকের টাকা দিতে নাজেহাল পরিস্থিতিতে পড়ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দেশটির আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ৫ অগাস্টের পর হামলার শিকার হওয়া সব পুলিশ ফাঁড়ি এবং থানাগুলিকে এখনও পুরোপুরি কাজ করার মতো পরিস্থিতিতে আনা যায়নি। এতে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের ঘটনা অনেকটাই বেড়ে ছিল। ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এখনও বন্ধ করা যায়নি। তবে, জুলাই আন্দোলনের তিন মাস পর সেনাবাহিনীরা এক ব্রিফিং-এ জানিয়েছিল, গণঅভ্যুত্থানে পর থানা থেকে লুট হওয়া ৭,০০০ অস্ত্র দুই লক্ষের বেশি গুলি উদ্ধার করা গিয়েছে। এর পাশাপশি, লুঠপাটের সঙ্গে জড়িত আড়াই হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

কানাডার ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্র্যাটিক গর্ভন্যান্স’ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে গণহিংসার ঘটনায় বাংলাদেশে মৃত্যু হয়েছে ছ-শো সাঁইত্রিশ জনের। রিপোর্টে এই ব্যক্তিদের নাম, ছবি, বয়স এবং ঠিকানার পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে পিটিয়ে মারার ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা একান্ন জনের। পরিসংখ্যান মিলিয়ে দেখা গিয়েছে, গণহিংসায় মৃত্যু বেড়েছে বারো গুণ।

উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্ররা। কিন্তু বছর ঘুরতে-না-ঘুরতেই তাল কাটছে। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জুড়ে মভ সন্ত্রাস চলছে এ বং দুর্নীতির মতো অভিযোগ উঠছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা সম্প্রতি সেই আন্দোলন থেকে বিযুক্ত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন সমাজমাধমে। তাঁর বক্তব্য জুলাই আন্দোলন এখন একটা 'মানি মেকিং-মেশিন' হয়ে গিয়েছে। ২৭ জুলাই দীর্ঘ ফেসবুক লাইভে আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আলোচনার ঝড় তুলেছেন উমামা। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘‘জুলাই কেন ‘মানি-মেকিং মেশিন’ হবে? আনফরচুনেটলি সেটা হয়েছে’’। ২ ঘণ্টা ২৪ মিনিটের এই লাইভে তিনি জানান, কীভাবে একটি ছাত্রভিত্তিক আদর্শিক আন্দোলন ধীরে ধীরে কিছু মানুষের জন্য ‘আয়-উপার্জনের উৎস’-এ পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বহুবার জনগণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার দাবি তুলেছে। একশো দিনের পূর্তিতেও প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেছিলেন, "কখন নির্বাচন হবে, সেটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, এটা আমার সিদ্ধান্ত নয়।" তবে সম্প্রতি চাপের মুখে পড়েই অন্তর্বর্তী সরকারকে আশ্বাস দিতে হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বর্ষপূর্তির ভাষণে জানিয়েছেন, ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই যেন নির্বাচন করা হয় যেন তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হবে। কবে দেশটির নির্বাচন-সহ বাকি প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে, সেটারই এখনও অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশবাসী। প্রশ্ন উঠছে, বৈষম্যবিরোধীরা আসলে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন? তাই যদি হয়, কার উপর বিশ্বাস রাখবে বাংলাদেশের মানুষ?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।