গরমের শুরুতেই হাসফাঁস! উইকেন্ডে জিরিয়ে নেওয়ার পাঁচ সেরা জায়গা

Sindhu Som
৩ মিনিট
গরমের শুরুতেই হাসফাঁস! উইকেন্ডে জিরিয়ে নেওয়ার পাঁচ সেরা জায়গা

প্রবল গ্রীষ্ম তার দাবদাহ নিয়ে চৌকাঠে দাঁড়িয়েছে। বসন্তের বিদায়লগ্নে বঙ্গের পশ্চিমে রুক্ষ-শুষ্ক চেহারা তার, দক্ষিণে ভীষণ আদ্রতা। গা বেয়ে চ্যাটচেটে ঘাম। রোজকার অফিস-বাজারে গরমের মশলায় অরুচি ধরে যায়। জগৎ তো এসির থেকে বড়! তাই বহু মানুষের লাগাতার জমতে থাকা বিরক্তি খানিক রাশ আলগা চায়। বাচ্চাদের স্কুল ছুটি এই মরশুমে। বড়রাও ছুটিছাটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রোজের আবর্তের বাইরে। বঙ্গের উত্তর এ সময়ে অনুকূল। আসমুদ্রহিমাচল আমাদের এই রাজ্যটির ভ্রমণভাগ্য নেহাত মন্দ না। বিশ্বরূপের অনেকটাই দর্শন করা যায় হাত বাড়ালেই। গরমের দাবদাহ থেকে বাঁচার ও প্রকৃতির নির্মল শোভা অনুভব করার খোঁজ নিয়ে আজ দেওয়া যাক।

লাটাগুড়ি

গরুমারা জাতীয় উদ্যানের বহিরাংশে অবস্থিত লাটাগুড়ি মালবাজার মহকুমার মধ্যে পড়ে। জলপাইগুড়ি জেলার এই অঞ্চলটির মূল আকর্ষণ বনভূমি। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত বিরাট বনভূমি অঞ্চলের মধ্যে এই অংশে দুটি বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। গরুমারা ও চাপড়ামারি। মূর্তি নদীর পাশ দিয়ে এই অরণ্য বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। জঙ্গলের আগে ও পরে, মূর্তি নদীর পাড় ঘেঁষে রয়েছে বহুবিধ হোটেল, লজ, রিসর্ট। মূলত গণ্ডার সংরক্ষণের জন্য এই অঞ্চলের পরিচিতি। ভারতীয় গণ্ডার, এশিয়ান হাতি, স্লোভ ভালুক, চিতল ও সাম্বার হরিণ রয়েছে প্রচুর। এছাড়া হোগা হরিণ ও বন্য শুয়োর দেখা যায় মাঝে মাঝেই। সিভেট, মঙ্গুজ এবং নানা প্রজাতির বনবেড়াল রয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে অবলুপ্ত প্রায় পিগমি হগের সন্ধানও নাকি এই অংশে মেলে। যদিও তা বিতর্কিত। বিরাট বিরাট গাছগাছালির ছায়ায় সমস্ত রাস্তা জুড়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। বর্তমানে জিপসি করে ভ্রমণও করানো হয় এই জঙ্গলে। জঙ্গলের আগে লাটাগুড়ি বাজারের প্রান্তে রয়েছে ‘বৌদির হোটেল’। হোটেলটি সম্পূর্ণ মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত। এবং খাবারের মান এতটাই ভালো যে বলার অপেক্ষা রাখে না। উপরন্তু স্পেশাল ডিস ছাড়া থালির যাবতীয় আইটেম যাচাই।

লোলেগাঁও

লোলেগাঁও দার্জিনিলিং জেলার কালিম্পং সদর মহকুমায় পড়ে। একটি পাহাড়ি গ্রাম। পাহাড়ি অরণ্য ঘেরা এই গ্রাম যেন স্বর্গভূমি। সবুজ পাহাড়ের কুয়াশা ঠেলে কাঞ্চনজঙ্ঘা তার আভিজাত্য শানায়। কালিম্পং থেকে মাত্র ঘণ্টা খানেকের পথ। ছোট ছোট পাহাড়ি পথ ধরে ট্রেক সম্ভব। বন্য জন্তু জানোয়ার দেখা যায় আকছার। ঘন জঙ্গলের মাঝে মাঝে ঝোলা ব্রিজ পাহাড়ি ঝোরার উপর। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত–দুইই পাহাড়ে আলাদা মাত্রা যোগ করে। কফর-কাঙ্কেবং গ্রাম-পঞ্চয়েতের অন্তর্গত এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ হল ক্যানোপি ওয়াক। ১৮০ মিটার লম্বা কাঠের ঝোলা ব্রিজ গাছের গা বেয়ে চলে গিয়েছে জঙ্গলের গভীরে। এ অঞ্চলেও খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে বহু হোম স্টে। সব মিলিয়ে হোম স্টের অভিজ্ঞতাই আলাদা। এছাড়াও লোলেগাঁওয়ে নানা হোটেল রয়েছে। পর্যটকেরা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন।

তাজপুর

বাংলার অত্যন্ত কম পরিচিত একটি সমুদ্রতট তাজপুর। বিচটি দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত। কলকাতা থেকে দীঘা যাওয়ার পথেই পড়ে তাজপুর। দীঘা থেকে মাত্র ষোলো কিলোমিটার। মন্দারমনি ও শঙ্করপুরের কাছেই অবস্থিত এই বিচটি অতি সম্প্রতি পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তটের মূল আকর্ষণ ঘন ঝাউবন। দিনের বেলা তটের উপর লাল কার্পেট বিছিয়ে রাখে লোহিত কাঁকড়া।

ভোর বেলা তটের আকাশে সিগাল উড়তে দেখা যায়। বর্তমানে তাজপুরে যাচ্ছেন অনেকেই। বাংলাই তো বটেই, এমনকি বিদেশি পর্যটকেরাও ঘুরতে আসছেন সেখানে। একদিকে জঙ্গল অপরদিকে সমুদ্র—দুইয়ের মাঝে বেলাভূমি চলে গিয়েছে যতদূর চোখ যায়। গরমের ছুটি কাটানোর জন্য তাজপুর অত্যন্ত উপযুক্ত জায়গা।

লাভা

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৩৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত লাভা কালিম্পং থেকে ৩৫ কিলোমিটার। খুব দ্রুত লাভার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বহু পর্যটক প্রতি বছর লাভা ঘুরতে যাচ্ছেন। নিবিড় বনানী এই পাহাড়ি অঞ্চলকে ট্রেক, বার্ড ওয়াচিং, বন্যপ্রাণ ও গাছপালা পরিদর্শনের উপযোগী করে তুলেছে। লাভার শেরপা ভিউ পয়েন্ট থেকে তুষারে ঢাকা ভুটান ও তিব্বতের রেঞ্জ গুলি চোখে পড়ে। সে এক অনবদ্য দৃশ্য। লাভার বৌদ্ধ মঠ প্রাজ্ঞজন ও বিশেষজ্ঞদের অত্যন্ত আগ্রহের জায়গা। গিটডাবলিং, নেওরা ভ্যালি, রেচেলা ও গুম্বাদরার ট্রেকিং রুট গুলি লাভা থেকেই শুরু হচ্ছে।

অযোধ্যা পাহাড়

পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যা পাহাড় বাংলার বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র। বৃহত্তর পূর্বঘাট পর্বতমালা ও দলমা পাহাড়ের অংশ এই অযোধ্যা পাহাড়। অযোধ্যার উচ্চতম শৃঙ্গ হল গোর্গাবুরু। সবথেকে কাছের লোকালয় বাগমুন্ডি। নবীশ পর্বতারোহীদের পর্বতারোহণে তালিম দেওয়া হয় এই পাহাড়ে। অযোধ্যায় পৌঁছানোর দুটি রাস্তা। একটি জলদা হয়ে, অপরটি সিক্রাবাদ হয়ে। রয়েছে ফরেস্ট রেস্ট হাউসও। গোর্গাবুরু, ময়ূরী প্রভৃতি শৃঙ্গের সৌন্দর্য আকর্ষণীয়। যদিও ছোটনাগপুর মালভূমির এটি সর্বনিম্ন ধাপ। জঙ্গল, পাহাড়, নিস্তব্ধতা, ছোটো ছোট লোকালয় যদি ভালো লাগে অযোধ্যা ভ্রমণে যাওয়াই যায়।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।