রুপোর মন্দির সোনার দেবতা, অনন্ত-রাধিকার বিয়ের কার্ড চর্চায়

Ambani Wedding Invitation Card: আগামী ১২ জুলাই চার হাত এক হতে চলেছে অনন্ত-রাধিকার। ইতিমধ্যেই সব প্রস্তুতি সারা। বিয়ের কার্ড বিলিও হয়েই গিয়েছে প্রায়। আর সেই বিয়ের কার্ডেই রয়েছে মস্ত চমক।

Sohini Das
৩ মিনিট
রুপোর মন্দির সোনার দেবতা, অনন্ত-রাধিকার বিয়ের কার্ড চর্চায়

দেশের পয়লা নম্বর ধনী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি তিনি। তাঁদের বাড়ির অনুষ্ঠানে শাহরুখ খান খাবার পরিবেশন করেন। জুকেরবার্গ উড়ে আসেন নেমন্তন্ন খেতে। রিহানা ছুটে আসেন অনুষ্ঠান করতে। মুকেশ অম্বানির কনিষ্ঠপুত্র অনন্ত অম্বানির সঙ্গে দেশের আরেক কোটিপতি ব্যবসায়ীর মেয়ে রাধিকা মার্চেন্টের বিয়ে। তাঁদের প্রাকবিয়ের অনুষ্ঠানেই যে ঝলক দেখেছে দেশ, তাতে বিয়েতে কী কী হতে পারে, তা ভেবেই আমজনতার হৃদি কম্পমান। এরই মধ্যে সামনে এসেছে অনন্ত অম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের বিয়ের কার্ড।

আর বেশি দেরি নেই তাঁদের বিয়ের। আগামী ১২ জুলাই চার হাত এক হতে চলেছে অনন্ত-রাধিকার। ইতিমধ্যেই সব প্রস্তুতি সারা। বিয়ের কার্ড বিলিও হয়েই গিয়েছে প্রায়। আর সেই বিয়ের কার্ডেই রয়েছে মস্ত চমক। সাধারণ বিয়ের কার্ডে একটি সুসজ্জিত খামের ভিতর যত্নে রাখা নিমন্ত্রণপত্র। তবে অম্বানি পরিবারের বিয়ের কার্ড বলে কথা। তা-ও যে বাকি সব কিছুর মতোই ব্যতিক্রমী হতে চলেছে তাতে আর সন্দেহ কী!

ছোটবেলা থেকেই একে অপরের সঙ্গে পরিচয়। সেখান থেকেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত। গত মার্চ মাসে জামনগরে প্রাকবিয়ে সেরেছেন অনন্ত-রাধিকা। তার জন্য ছিল এলাহি আয়োজন। প্রায় তিন দিন ধরে চলে উৎসব। বলিউডের তাবড় তালিকারা তো বটেই, শিল্পপতি, ক্রীড়াবিদ, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ধর্মগুরু, সেই অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়েননি কেউ-ই। বিদেশ থেকে আসেন বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। প্রাকবিয়ের আসরে ছিলেন মার্ক জুকেরবার্গ থেকে শুরু করে বিল গেটসের মতো আরও অনেকেই। সেখানে অনুষ্ঠান করেন বিখ্যাত শিল্পী রিহানা। সেখানেই বাগদান সারেন রাধিকা-অনন্ত। দেখতে দেখতে হাজির বিয়ের তারিখও। না, কোনও ডেস্টিনেশন ওয়েডিং নয়। পছন্দের শহর মুম্বইতেই বসতে চলেছে তাঁদের বিবাহ বাসর। সেই বিয়ের আমন্ত্রণপত্রটি নিয়ে প্রথম নিমন্ত্রণটি সেরেছেন অম্বানি পরিবার কাশীতে। খোদ বিশ্বনাথের দরবারে পৌঁছে প্রথম নিমন্ত্রণটি কাশীর বিশ্বনাথের কাছে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন নীতা অম্বানি। বহু পরিবারেই প্রথম নিমন্ত্রণ ঈশ্বরের দরবারে করার দস্তুর রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই বারাণসীতে গিয়ে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে খোদ মহাদেবকে নিমন্ত্রণ করে এসেছেন তিনি। পুজো সেরে কাশীর বিখ্যাত চাট চেখে দেখেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আবারও হেভি ওয়েট বিয়ের উত্তেজনা নেটপাড়ায়, যেভাবে শুরু হল আম্বানি পরিবারের বিবাহ পর্ব

Ambani Family : রেকর্ড বিয়ের মরশুমে নাম জুড়লো খোদ আম্বানি পরিবারের

Unboxing the wedding card for Anant Ambani and Radhika Merchant's world's costliest wedding!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক মাসে ৩২ লক্ষ বিয়ে! বাঙালির বিয়ে যেভাবে হয়ে উঠল 'ইভেন্ট'

Marriage Ceremony : বিবাহ নাকি জোরদার কোনো ইভেন্ট, প্রশ্ন উঠছে হাল আমলের বাঙালি বিয়ের রীতিকে ঘিরে

— DealzTrendz (@dealztrendz)

তবে অনন্ত-রাধিকার বিয়ের কার্ডেই কিন্তু লুকিয়ে মস্ত ধামাকা। না, কোনও সাধারণ কার্ড নয়। বিয়ের কার্ড হিসেবে অম্বানি পরিবার তৈরি করেছে আস্ত একটা মন্দির। অবাক হচ্ছেন? তা ব্যাপারখানা অবাক করার মতোই। সেই মন্দির অবশ্য রয়েছে ছোটখাটো লাল আলমারির ভিতর। আলমারিটি খুললেই জ্বলে উঠছে আলো এবং বেরিয়ে আসছে আস্ত একটি মন্দির। এবং সেই মন্দিরটি রৌপ্যনির্মিত। সেই এলইডি আলোতে আরও ঝলমল করে উঠছে রূপোর মন্দিররে রশনাই। এখানেই শেষ নয়। মন্দিরের একটি কক্ষে থাকছে বিষ্ণু, একটি কক্ষে রাধাকৃষ্ণ, অন্য দুটি কক্ষে দুর্গা ও গণেশের মূর্তি। বলাই বাহুল্য, প্রতিটি মূর্তিই সোনার। মন্দিরের ছাদে রয়েছে ছোট ছোট রূপোর ঘণ্টা। এর সঙ্গেই রয়েছে একটি পাঁচ পৃষ্ঠার অ্যালবাম বই, সেটিতেও খোদাই করা রয়েছে রূপো। তার একপাশে রয়েছে দেবদেবীর ছবি, অন্য পাশে রয়েছে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র। এখানেই শেষ নয়। ওই আলমারিতে মন্দিরের পাশাপাশি রয়েছে গয়নার বাক্সের মতো দেখতে একটি রূপোর বড় বাক্স। যার ভিতরে রয়েছে একটি মসলিনের রুমাল, একটি শাল এবং সোনারূপোর বেশ কিছু দেবদেবীর মূর্তি। সেই মসলিনের রুমালে বোনা হয়েছে ওম শব্দটি। গোটা বিয়ের কার্ড জুড়েই প্রাধান্য ছিল লাল ও হলুদ রঙের।

এই সব কিছুই অম্বানি পরিবারের তরফে নিমন্ত্রিতদের সামান্য উপহার। যে পরিমাণ সোনা ও রূপো দিয়ে সাজানো হয়েছে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রটিকে, তাতে আঁচ করা যেতেই পারে ঠিক কতটা দামী ওই অনন্ত-রাধিকার নিমন্ত্রণপত্রটি। ইতিমধ্যেই আমন্ত্রিতদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে অম্বানি পরিবারের নিমন্ত্রণপত্রটি। যা দেখে প্রায় চোখ কপালে উঠে গিয়েছে নেটিজেনদের। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ভাইরাল অনন্ত-অম্বানির বিয়ের কার্ড।

যে এলাহি উপায়ে প্রাকবিয়ে সেরেছেন অনন্ত-রাধিকা, তাতে বিয়েতে আর কী কী চমক অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে জোর জল্পনা। নিউ ইয়র্ক থেকে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন রাধিকা। তার পর যোগ দিয়েছেন পারিবারিক ব্যবসায়। এ ছাড়াও ধ্রূপদী নৃত্যশিল্পী তিনি। অন্যদিকে অনন্ত আবার দারুণ পশুপ্রেমী। তাঁর সেই নেশায় সঙ্গ দেন রাধিকাও। সেই মিলই বোধহয় তাঁদের সম্পর্ককে আরও জোরালো করে তুলেছে। আগামী ১২ জুলাই মুম্বইয়ে সাত পাকে বাঁধা পড়বেন এই দুই কোটিপতি পুত্র-কন্যা। আপাতত সেই বিয়ের জল্পনাতেই মেতেছে গোটা দেশ।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।