রুপোর মন্দির সোনার দেবতা, অনন্ত-রাধিকার বিয়ের কার্ড চর্চায়
Ambani Wedding Invitation Card: আগামী ১২ জুলাই চার হাত এক হতে চলেছে অনন্ত-রাধিকার। ইতিমধ্যেই সব প্রস্তুতি সারা। বিয়ের কার্ড বিলিও হয়েই গিয়েছে প্রায়। আর সেই বিয়ের কার্ডেই রয়েছে মস্ত চমক।

দেশের পয়লা নম্বর ধনী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি তিনি। তাঁদের বাড়ির অনুষ্ঠানে শাহরুখ খান খাবার পরিবেশন করেন। জুকেরবার্গ উড়ে আসেন নেমন্তন্ন খেতে। রিহানা ছুটে আসেন অনুষ্ঠান করতে। মুকেশ অম্বানির কনিষ্ঠপুত্র অনন্ত অম্বানির সঙ্গে দেশের আরেক কোটিপতি ব্যবসায়ীর মেয়ে রাধিকা মার্চেন্টের বিয়ে। তাঁদের প্রাকবিয়ের অনুষ্ঠানেই যে ঝলক দেখেছে দেশ, তাতে বিয়েতে কী কী হতে পারে, তা ভেবেই আমজনতার হৃদি কম্পমান। এরই মধ্যে সামনে এসেছে অনন্ত অম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের বিয়ের কার্ড।
আর বেশি দেরি নেই তাঁদের বিয়ের। আগামী ১২ জুলাই চার হাত এক হতে চলেছে অনন্ত-রাধিকার। ইতিমধ্যেই সব প্রস্তুতি সারা। বিয়ের কার্ড বিলিও হয়েই গিয়েছে প্রায়। আর সেই বিয়ের কার্ডেই রয়েছে মস্ত চমক। সাধারণ বিয়ের কার্ডে একটি সুসজ্জিত খামের ভিতর যত্নে রাখা নিমন্ত্রণপত্র। তবে অম্বানি পরিবারের বিয়ের কার্ড বলে কথা। তা-ও যে বাকি সব কিছুর মতোই ব্যতিক্রমী হতে চলেছে তাতে আর সন্দেহ কী!
ছোটবেলা থেকেই একে অপরের সঙ্গে পরিচয়। সেখান থেকেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত। গত মার্চ মাসে জামনগরে প্রাকবিয়ে সেরেছেন অনন্ত-রাধিকা। তার জন্য ছিল এলাহি আয়োজন। প্রায় তিন দিন ধরে চলে উৎসব। বলিউডের তাবড় তালিকারা তো বটেই, শিল্পপতি, ক্রীড়াবিদ, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ধর্মগুরু, সেই অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়েননি কেউ-ই। বিদেশ থেকে আসেন বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। প্রাকবিয়ের আসরে ছিলেন মার্ক জুকেরবার্গ থেকে শুরু করে বিল গেটসের মতো আরও অনেকেই। সেখানে অনুষ্ঠান করেন বিখ্যাত শিল্পী রিহানা। সেখানেই বাগদান সারেন রাধিকা-অনন্ত। দেখতে দেখতে হাজির বিয়ের তারিখও। না, কোনও ডেস্টিনেশন ওয়েডিং নয়। পছন্দের শহর মুম্বইতেই বসতে চলেছে তাঁদের বিবাহ বাসর। সেই বিয়ের আমন্ত্রণপত্রটি নিয়ে প্রথম নিমন্ত্রণটি সেরেছেন অম্বানি পরিবার কাশীতে। খোদ বিশ্বনাথের দরবারে পৌঁছে প্রথম নিমন্ত্রণটি কাশীর বিশ্বনাথের কাছে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন নীতা অম্বানি। বহু পরিবারেই প্রথম নিমন্ত্রণ ঈশ্বরের দরবারে করার দস্তুর রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই বারাণসীতে গিয়ে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে খোদ মহাদেবকে নিমন্ত্রণ করে এসেছেন তিনি। পুজো সেরে কাশীর বিখ্যাত চাট চেখে দেখেন তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ambani Family : রেকর্ড বিয়ের মরশুমে নাম জুড়লো খোদ আম্বানি পরিবারের
Unboxing the wedding card for Anant Ambani and Radhika Merchant's world's costliest wedding!
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Marriage Ceremony : বিবাহ নাকি জোরদার কোনো ইভেন্ট, প্রশ্ন উঠছে হাল আমলের বাঙালি বিয়ের রীতিকে ঘিরে
— DealzTrendz (@dealztrendz)
তবে অনন্ত-রাধিকার বিয়ের কার্ডেই কিন্তু লুকিয়ে মস্ত ধামাকা। না, কোনও সাধারণ কার্ড নয়। বিয়ের কার্ড হিসেবে অম্বানি পরিবার তৈরি করেছে আস্ত একটা মন্দির। অবাক হচ্ছেন? তা ব্যাপারখানা অবাক করার মতোই। সেই মন্দির অবশ্য রয়েছে ছোটখাটো লাল আলমারির ভিতর। আলমারিটি খুললেই জ্বলে উঠছে আলো এবং বেরিয়ে আসছে আস্ত একটি মন্দির। এবং সেই মন্দিরটি রৌপ্যনির্মিত। সেই এলইডি আলোতে আরও ঝলমল করে উঠছে রূপোর মন্দিররে রশনাই। এখানেই শেষ নয়। মন্দিরের একটি কক্ষে থাকছে বিষ্ণু, একটি কক্ষে রাধাকৃষ্ণ, অন্য দুটি কক্ষে দুর্গা ও গণেশের মূর্তি। বলাই বাহুল্য, প্রতিটি মূর্তিই সোনার। মন্দিরের ছাদে রয়েছে ছোট ছোট রূপোর ঘণ্টা। এর সঙ্গেই রয়েছে একটি পাঁচ পৃষ্ঠার অ্যালবাম বই, সেটিতেও খোদাই করা রয়েছে রূপো। তার একপাশে রয়েছে দেবদেবীর ছবি, অন্য পাশে রয়েছে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র। এখানেই শেষ নয়। ওই আলমারিতে মন্দিরের পাশাপাশি রয়েছে গয়নার বাক্সের মতো দেখতে একটি রূপোর বড় বাক্স। যার ভিতরে রয়েছে একটি মসলিনের রুমাল, একটি শাল এবং সোনারূপোর বেশ কিছু দেবদেবীর মূর্তি। সেই মসলিনের রুমালে বোনা হয়েছে ওম শব্দটি। গোটা বিয়ের কার্ড জুড়েই প্রাধান্য ছিল লাল ও হলুদ রঙের।
এই সব কিছুই অম্বানি পরিবারের তরফে নিমন্ত্রিতদের সামান্য উপহার। যে পরিমাণ সোনা ও রূপো দিয়ে সাজানো হয়েছে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রটিকে, তাতে আঁচ করা যেতেই পারে ঠিক কতটা দামী ওই অনন্ত-রাধিকার নিমন্ত্রণপত্রটি। ইতিমধ্যেই আমন্ত্রিতদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে অম্বানি পরিবারের নিমন্ত্রণপত্রটি। যা দেখে প্রায় চোখ কপালে উঠে গিয়েছে নেটিজেনদের। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ভাইরাল অনন্ত-অম্বানির বিয়ের কার্ড।
যে এলাহি উপায়ে প্রাকবিয়ে সেরেছেন অনন্ত-রাধিকা, তাতে বিয়েতে আর কী কী চমক অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে জোর জল্পনা। নিউ ইয়র্ক থেকে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন রাধিকা। তার পর যোগ দিয়েছেন পারিবারিক ব্যবসায়। এ ছাড়াও ধ্রূপদী নৃত্যশিল্পী তিনি। অন্যদিকে অনন্ত আবার দারুণ পশুপ্রেমী। তাঁর সেই নেশায় সঙ্গ দেন রাধিকাও। সেই মিলই বোধহয় তাঁদের সম্পর্ককে আরও জোরালো করে তুলেছে। আগামী ১২ জুলাই মুম্বইয়ে সাত পাকে বাঁধা পড়বেন এই দুই কোটিপতি পুত্র-কন্যা। আপাতত সেই বিয়ের জল্পনাতেই মেতেছে গোটা দেশ।
















