ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেসলক অতীত! জানেন আপনার নিঃশ্বাসেই খুলতে পারে মোবাইলের তালা?

Breath Fingerprint: আইআইটি মাদ্রাজের এক দল গবেষকজানিয়েছেন, এবার আর শুধু ফেসলক বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট লকই নয়, এসে গিয়েছে এমন প্রযুক্তি যে আপনার নিঃশ্বাসেই আনলক হয়ে যাবে আপনার হাতের মোবাইলটি।

Sohini Das
৩ মিনিট
ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেসলক অতীত! জানেন আপনার নিঃশ্বাসেই খুলতে পারে মোবাইলের তালা?

আপনার হাতের মোবাইলটি যে কোনও জায়গাতেই সুরক্ষিত। কারণ আপনার আঙুলের ছাপ বা মুখ ছাড়া অন্য কোনও কিছু দিয়েই তাকে খোলা কঠিন। আর নিউমারিক বা প্যাটার্ন লক, সেসব তো আছেই। তবে প্রযুক্তি এতটাই এগিয়ে গিয়েছে যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেসলক এখন অতীত। তেমনটাই বলছেন আইআইটি মাদ্রাজের এক দল গবেষক। তাঁরা জানিয়েছেন, এবার আর শুধু ফেসলক বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট লকই নয়, এসে গিয়েছে এমন প্রযুক্তি যে আপনার নিঃশ্বাসেই আনলক হয়ে যাবে আপনার হাতের মোবাইলটি।

আশ্চর্য হলেও সত্যি! বায়োমেট্রিকের জগতে বৈপ্লবিক বদল আনতে চলেছে এই গবেষণা। শুধু স্মার্টফোনই নয়, স্মার্টফোনের মতো আরও নানা ডিভাইসও আনলক করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে নয়া এই প্রযুক্তি। এয়ারপ্রেশার সেন্সর দিয়ে রেকর্ড করা ডেটা নিয়ে নিছক কৌতূহলের বশেই পরীক্ষানিরিক্ষা শুরু করেছিলেন চেন্নাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি মাদ্রাজের গবেষক মহেশ পঞ্চাগনুলা ও তাঁর টিম। তবে এর নেপথ্যেও কিন্তু রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত। প্রাথমিক ভাবে বিজ্ঞানীদের কাজটা ছিল একটি এআই মডেল বানানো যা প্রতিটি ব্যক্তির শ্বাসযন্ত্রজনীত সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে পারে। ওষুধজনীত গবেষণার কাজের জন্যই বানানো হচ্ছিল ওই মডেল। তবে সেই পরীক্ষানিরিক্ষা করতে করতেই বিশাল এক তথ্যভাণ্ডারের সন্ধান পেয়ে যান বিজ্ঞানীরা।

সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে জানা গিয়েছে, আইআইটি মাদ্রাজের ওই গবেষক দল মোট ৯৪ জনের প্রায় দশটি করে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস রেকর্ড করেন। আর সেই সবই করা হয়েছে এয়ার প্রেশার সেন্সরের মাধ্যমে, যা এক সেকন্ডে প্রায় ১০ হাজারটি রিডিং নিতে সক্ষম। গবেষকেরা দেখেন, ওই এআই মডেলটি ডেটা বিশ্লেষণের পর নির্ভুল ভাবে যে কোনও শ্বাস শনাক্ত করতে সফল হচ্ছে। অর্থাৎ ওই এআই মডেলের রেকর্ডে যদি কোনও ব্যক্তির ব্রিদ-ডেটা থেকে যায়, তাহলে ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই নির্ভুল ভাবে সেই ব্যক্তির যে কোনও শ্বাসকে শনাক্ত করতে পারে। অর্থাৎ নতুন শ্বাসটি যে সেই ব্যক্তির থেকেই আসছে তা যাচাই করতে সক্ষম।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আর সহজে মিলবে না মোবাইল সংযোগও! সিমকার্ডে কেন নিষেধাজ্ঞা সরকারের?

Bulk Sim Card Banned: ছাপানো আধারকার্ডের অপব্যবহার বন্ধ করতে আধারের QR কোড স্ক্যান করে তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

ইতিমধ্যেই ওই এআই মডেলটির বেশ কয়েকটি ট্রায়াল দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আইআইটি মাদ্রাজের গবেষক পঞ্চাগনুলা জানাচ্ছেন, এআই মডেলটি প্রতিটি ব্যক্তির শরীরের এক্সট্রাথোরাসিক অঞ্চলের যে আলাদা আলাদা শারীরবৃত্তিয় গড়ন, যা আদতে মানুষের নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের টারবিউল্যান্সের জন্য় দায়ী, সেটিকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে। ফলে আলাদা আলাদা ব্যক্তির নিঃশ্বাসকে চিহ্নিত করতে সমস্যা হয় না মডেলটির।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নুনের দানাই নাকি আশ্চর্য ক্যামেরা! অসম্ভব কাণ্ডে তাজ্জব গোটা বিশ্ব

World's Smallest Camera: সম্প্রতি নেটবিশ্বে ভাইরাল হয়েছে এমনই আশ্চর্য এক ক্যামেরা, যা নুনের দানার থেকেও ছোট। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে নেটমহলে।

প্রাথমিক ভাবে স্মার্টফোন যখন আত্মপ্রকাশ করল, তখন নিউমেরিক বা প্যাটার্ন লকই ছিল ভরসা। সেখান থেকে এল ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং আরও পরে ফেসলক। আর এই ধরনের বায়োমেট্রিক যে শুধুমাত্র স্মার্টফোন বা এই ধরনের ডিভাইসেই ব্যবহার হয়, তাই নয়। এখন তো বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অফিশিয়াল কাজেও ব্যবহৃত হয় বায়োমেট্রিক। ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে আধার কার্ড, সবেতেই এখন বায়োমেট্রিকের ব্যবহার।

সত্যিই যদি এই নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসকে বায়োমেট্রিক হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে কিন্তু তা হতে চলেছে যুগান্তকারী। এর ফলে প্রতারণাও কমানো যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকে শুরু করে ফেসলক মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এই ব্রিদ-লকের ক্ষেত্রে কিন্তু তা সম্ভব নয়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মৃত ব্যক্তির মোবাইল তাঁর হাতের ছাপ বা মুখের ছবি ব্যবহার করে খুলে ফেলা যাচ্ছে। তবে ব্রিদ-লকের ক্ষেত্রে সে সম্ভাবনা একেবারেই নেই। তাছাড়া মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা মুখের ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব। কিন্তু নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের অ্যালগরিদম সংগ্রহ করা কি সহজ হবে জালিয়াতদের পক্ষে। মনে তো হয় না।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।