হেনস্থাকারীদের সংবর্ধনা শুভেন্দু অধিকারীর, কলকাতায় আর ফিরতে চান না আতঙ্কিত রিয়াজুল

Seikh Riyajul: ব্রিগেডে হেনস্থায় তিনি মানসিকভাবেও বিপন্ন বোধ করছেন। পরিবার চাইছে না রিয়াজুল আর কলকাতায় কাজে ফিরুক।

Sangita Ghorai
৩ মিনিট
হেনস্থাকারীদের সংবর্ধনা শুভেন্দু অধিকারীর, কলকাতায় আর ফিরতে চান না আতঙ্কিত রিয়াজুল

গণতন্ত্র রক্ষায় বড় ভূমিকা থাকে বিরোধী দলের। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা কি রাজ্যের সমস্ত ধর্মাবলম্বীদের দলনেতা নন? তিনি যে ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছেন, সব ধর্মের, সব জাতির মানুষেরই প্রতিনিধি নন নাকি একটি গোষ্ঠীরই প্রতিনিধি? ৭ ডিসেম্বর ব্রিগেডে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটি বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় হেনস্থকারীদের তিনজনকে ১১ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর জামিনে মুক্ত হলে তাঁদের উত্তরীয়, ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দিতে দেখা যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। আর এই ঘটনাতেই প্রশ্ন উঠছে, বিরোধী দলনেতার ভূমিকা নিয়ে।

রিয়াজুলের হেনস্থকারীদের সংবর্ধনা শুভেন্দু অধিকারীর।

অন্যদিকে প্যাটি বিক্রেতা শেখ রিয়াজুল ফিরে গিয়েছেন তাঁর গ্রাম হুগলির পূর্ব কেশবপুরে। ইনস্ক্রিপ্টের সঙ্গে কথপোকথনে রিয়াজুল জানান, তিনি অসুস্থ। ব্রিগেডে হেনস্থায় তিনি মানসিকভাবেও বিপন্ন বোধ করছেন। পরিবার চাইছে না রিয়াজুল আর কলকাতায় কাজে ফিরুক। “যদি আবার কেউ মারতে আসে? দেখি, শরীর ভালো হলে কলকাতা যাওয়ার কথা ভাববো। গ্রামে তো তেমন কাজও নেই। আমার ইনকামেই সংসার চলতো। ছোট ছেলেটা দর্জির কাজ শিখছে। বড় ছেলে হায়দরাবাদে সোনার কাজ শিখতে গেছে। এখন সংসার কী ভাবে চলবে সেটাও বুঝতে পারছি না।” বলেন শেখ রিয়াজুল।

বিরোধী দলনেতা হেনস্থাকারীদেরই সংবর্ধনা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় হতাশার সুর শোনা গেল রিয়াজুলের কণ্ঠে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, “কী আর বলবো, আমার তো যা ক্ষতি হওয়ার হয়েই গেছে। মান-সম্মান সব গেছে, আর কোনো হকারের সঙ্গে যেন এমন না হয়, সেটাই চাই। শুনছি পাল্টা আমার নামে কেস করেছে শুনছি, আমার আর এসব ভালো লাগছে না।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Fact Check: ব্রিগেডে প্যাটি বিক্রেতা ভেজ বলে চিকেন প্যাটি বিক্রি করছিলেন?

Chicken Patties Fact Check: ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বাক্সে একদিকে তিন কোনা প্যাটি (যেগুলো সাধারণত ভেজ প্যাটি হয়), আরেক দিকে চৌকো (চিকেন প্যাটি) রয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, প্যাটি বিক্রেতাকে নাম বলার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। নাম বলতেই মারধোর, কান ধরে উঠবস পর্যন্ত করানো হয়। সে ভিডিও সমাজমাধ্যমে সবাই দেখেছে, যা রিয়াজুলের কাছে অস্বস্তির বলে জানা যায় তাঁর কথায়। “নাম বলতেই মার খেলাম”, বলেন রিয়াজুল। কেন? প্যাটি বিক্রেতার নাম রিয়াজুল বলে নাকি আমিষ খাবার বিক্রি করছিলেন বলে? কারণ যাই হোক না কেন দুটোই গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষের ইতিহাসে লজ্জার। কে কী খাবে, তা ঠিক করে দেবে কে? যা পরিবেশ, তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে তা স্বাভাবিকভাবেই ভাবাচ্ছে, আমিষ খাবার বিক্রেতাদের কি তবে এবার আতঙ্কের সঙ্গে ব্যবসা করতে হবে?

তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়। এই ঘৃণার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে দেশব্যাপী। বিহারের নওয়াদা জেলার ঘটনা। ৫০ বছর বয়সি পোশাক বিক্রেতা মহম্মদ আতহার হুসেন সাইকেলে চেপে জামাকাপড় ফেরি করতেন। গগন দিওয়ান গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ আতহার ৫ ডিসেম্বর বাড়ি ফিরছিলেন ভট্টাপার গ্রাম হয়ে। সাইকেলের চাকা পাংচার হওয়ায়, তিনি সাইকেল সারাইয়ের দোকানের খোঁজ করছিলেন। এমন গ্রামের কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরে, তাঁর নাম এবং পেশা জানতে চায়। আতহারের থেকে কেড়ে নেওয়া হয় আঠারো হাজার টাকা। এরপর তাঁকে মারধর করা হয়। জামা-কাপড় খুলে পুরুষাঙ্গে আঘাত এবং লোহার রড গরম করে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। একটি ভিডিওতে তাঁকে হেনস্থা করার ঘটনার কথা তুলে ধরেন আতহার। যা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

In Bihar's Nawada, a Muslim vendor Athar Hussain was brutally tortured by a mob when he had gone to sell goods. He died during the treatment on Friday but he narrated how he was tortured in a closed room. The mob checked his Muslim identity after removing his pant.

— Waquar Hasan (@WaqarHasan1231)

আতহারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, শেষরক্ষা হয়নি। শুক্রবারই মারা যান তিনি। ওড়িশায় এমনই এক ঘটনা ঘটেছিল মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে। এতদিন বাংলাভাষী হলেই বাংলাদেশি সন্দেহে আক্রমণ করা হচ্ছিল, এবার সরাসরি নাম জানতে চাওয়া হচ্ছে! তবে কি ধর্মের ভিত্তিতে আক্রমণ শুরু হলো?

লিখেছেন
Sangita Ghorai
Sangita Ghorai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।