কেন পিকের সঙ্গে বৈঠক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর?

Priyanka Gandhi Meet Prashant Kishor: ২০২২ সালে পিকের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, এমনকি দলীয় কৌশল পুনর্গঠন নিয়ে একাধিক প্রস্তাবও তিনি রেখেছিলেন।

inscript
৩ মিনিট
কেন পিকের সঙ্গে বৈঠক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর?

প্রায় দু'বছরের নীরবতা ভেঙে আবার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও প্রশান্ত কিশোর। দিল্লিতে তাঁদের সাম্প্রতিক একান্ত বৈঠককে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কংগ্রেস কি ফের নিজের রাজনৈতিক কৌশল নতুন করে সাজাতে চাইছে? নাকি দলের ভেতরের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সাংগঠনিক সংকট সামাল দিতে এক ভিন্ন পথের সন্ধান চলছে?

এই বৈঠকটি হয় অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। জানা গিয়েছে, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দু’জনের মধ্যে আলোচনা চলে, কিন্তু বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে কংগ্রেস বা প্রশান্ত কিশোর— কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিষয়টি কার্যত এড়িয়ে যান। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, সংসদে আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে, রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে, যদি বৈঠকটি গুরুত্বহীনই হয়, তাহলে তা নিয়ে এমন নীরবতা কেন?

এই নীরবতার কারণ খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় অতীতে। প্রশান্ত কিশোর এক সময় কংগ্রেসের জন্য সম্ভাব্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছিলেন। ২০২২ সালে তাঁর কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, এমনকি দলীয় কৌশল পুনর্গঠন নিয়ে একাধিক প্রস্তাবও তিনি রেখেছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবগুলির অনেকটাই কংগ্রেসের পুরনো সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, নেতৃত্বের ভূমিকা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি— এই তিনটি প্রশ্নে মতবিরোধ এতটাই গভীর হয় যে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক আর এগোয়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিহারে শূন্য জন সুরজ! প্রশান্ত কিশোরের অঙ্ক কেন মিলল না?

Prashant Kishor’s Magic Failed in Bihar: বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরের দল আলোচনায় ছিল, প্রচারেও এগিয়ে ছিল; কিন্তু ভোটাররা তাদের বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প মনে করেননি।

তারপর থেকেই কংগ্রেস ও প্রশান্ত কিশোর কার্যত আলাদা পথে হাঁটতে শুরু করেন। প্রশান্ত কিশোর বিহারকে নিজের রাজনৈতিক পরীক্ষাগার হিসেবে বেছে নেন এবং ‘জন সুরাজ’ দলের মাধ্যমে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। কিন্তু বিহারের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই উদ্যোগ আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। অন্যদিকে, কংগ্রেসও পরপর রাজ্য নির্বাচনে ধাক্কা খেয়েছে। একাধিক রাজ্যে সংগঠন দুর্বল, নেতৃত্ব বিভ্রান্ত, আর ভোটব্যাঙ্ক ক্রমশ সরে যাচ্ছে, এই বাস্তবতা অস্বীকার করার জায়গা নেই।

এই প্রেক্ষাপটেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও প্রশান্ত কিশোরের বৈঠক নতুন তাৎপর্য পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, কংগ্রেস হয়ত আবারও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই দলের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি রণকৌশল নিয়ে চাপ বাড়ছে। রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা কংগ্রেসের ভাবমূর্তিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, তা নির্বাচনী সাফল্যে কতটা রূপান্তরিত হবে— সেই প্রশ্ন এখনও খোলা।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ভূমিকাও এই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরপ্রদেশে একাধিক নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পড়েও তিনি এখনও কংগ্রেসের অন্যতম মুখ। সংগঠন ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয়তা দলের একাংশের কাছে ভরসার জায়গা। ফলে তাঁর সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের বৈঠককে অনেকেই কংগ্রেসের নতুন কৌশল হিসেবেই দেখছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি দিদির মন্ত্রণাদাতা থেকে নিজেই ভোটপ্রার্থী! কেন মিলল না প্রশান্ত কিশোরের অঙ্ক?

Prashant Kishor’s Political Fail: ‘দিল্লি মডেল’ কপি করার চেষ্টাও অন্যতম ভুল। বিহারের পরিস্থিতি দিল্লির মতো নয়। স্থানীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি বোঝায় ঘাটতি ছিল।

তবে এই বৈঠক যে অবিলম্বে কোনো জোট বা রাজনৈতিক সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, এমন ইঙ্গিত এখনও নেই। কংগ্রেসের অন্দরমহলে একাংশ বরাবরই বাইরের কৌশলবিদদের উপর নির্ভরশীলতা নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগেছে। প্রশান্ত কিশোরের আগের প্রস্তাবগুলিও সেই কারণেই পূর্ণ সমর্থন পায়নি। ফলে এবারও এই আলোচনা আদৌ কোনো বাস্তব সিদ্ধান্তে পৌঁছবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই।

আরও একটি দিক উপেক্ষা করা যায় না। প্রশান্ত কিশোর বর্তমানে আর শুধুমাত্র একজন নির্বাচনী কৌশলবিদ নন, তিনি নিজেই একজন রাজনৈতিক নেতা। নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। এই অবস্থায় কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য সম্পর্ক কেমন হবে— সহযোগিতা, পরামর্শ, নাকি কৌশলগত সমঝোতা; তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে এই বৈঠক আপাতত প্রশ্নই বেশি তৈরি করেছে, উত্তর কম। কংগ্রেস কি নিজেদের পুরনো রাজনৈতিক ধারা থেকে সরে এসে নতুন করে নির্বাচনী রাজনীতির দিকে আরও এক ধাপ এগোতে চাইছে? নাকি এটি শুধুই মতবিনিময়ের একটি পর্ব, যার কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে না? প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও প্রশান্ত কিশোরের নীরবতা এই প্রশ্নগুলিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

ভারতীয় রাজনীতিতে অনেক সময়ই নীরবতাই সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত দেয়। এই বৈঠকও হয়ত তেমনই কোনো পরিবর্তনের পূর্বাভাস, অথবা নিছকই এক ব্যর্থ সম্ভাবনার পুনর্মূল্যায়ন। তবে এটুকু নিশ্চিত, কংগ্রেস যখন গভীর সংকটে, তখন এই ধরনের বৈঠককে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।