বিরোধীদের বলতে দিন মাননীয়া

Arka Deb
৪ মিনিট
বিরোধীদের বলতে দিন মাননীয়া

আনিস খানের মৃত্যু নাগরিক সমাজকে কতগুলি জোরালো প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। যে প্রশ্নের উত্তর এখনই খোঁজা শুরু করতে হবে, নয়তো দেরি হয়ে যাবে।

২০২১ সালের মাঝামাঝি সুশাসন, ন্যায়বিচার ইত্যাদি নানা সোনার পাথরবাটি চেয়ে বাংলার মানুষ বিভেদকামী শক্তিকে রুখে দিয়েছিল ইভিএম-এর বোতাম টিপে। রাজ্যে তিন দশকের বেশি শাসন করা দলটির পাখির চোখ স্থির না হওয়ায় সিংহভাগ মানুষ বেছে নিয়েছিলেন নানাদোষে দুষ্ট হয়েও নির্বিঘ্নে দুই ইনিংস চালিয়ে নেওয়া দলকেই। জিততে মরিয়া শাসকশিবির স্লোগান তুলেছিল, বাংলা নিজের মেয়েকে চায়। 'নিজের' শব্দটিতে বড় বেশি জোর ছিল। নিজের লোক অর্থাৎ স্নেহ-শাসন দুইই করা যাবে। রক্ষিত হবে সকলের স্বার্থ। দেখা হবে না আর রঙ। তৃণমূল সর্বাধিনায়িকার থেকে এই বরাভয়ই চেয়েছিল রাজ্যের মানুষ। নাগরিকসমাজ এবারের ভোটে যেন অনুঘটক হয়ে কাজ করেছিল স্রেফ দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনের আশায়। আনিস হত্যা আজ তাদেরই আয়নার মুখোমুখি দাঁড়াতে বাধ্য করছে। এই যদি একটি থিতু সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো হয় তাহলে কথায় কথায় উত্তরপ্রদেশকে এক হাত নেওয়া কেন? হাথরাস কাণ্ডে পুলিশি ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুললে সেই আঙুল আনিস কাণ্ডেও তুলতে হবে।

আনিসের বাবা সালেম খান প্রথম দিন থেকেই দাবি করে আসছিলেন, পুলিশকর্মীরাই বাড়ি ঢুকে সদর দরজায় তাকে আটকে রেখে ছেলেকে নিয়ে উপরে উঠে গিয়েছিল। অথচ প্রাথমিক ভাবে তাঁর কথাকে আমল না দিয়ে নানারকম মনগড়া গল্প নির্মাণ করা হলো। এই সব গল্পের কারিগর কারা? যারা নিয়মিত প্রসাদান্নভোগী? চারটি দিন নষ্ট করার পর জানা গেল আনিসের বাড়িতে সেদিন পুলিশ গিয়েছিল। কিন্তু কারা তারা, সে প্রশ্নের উত্তর আজো পাওয়া গেল না। আনিসের বাবাকে কেন স্কেচ করতে দেওয়া হলো না অভিযুক্তদের মুখাবয়ব? এই চারটি দিন প্রমাণ লোপাটের জন্যই নেওয়া হলো? আশপাশের সমস্ত থানায় কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের জবানবন্দি কি নেওয়া হয়েছে? কোন থানায় সেই রাতে কারা দায়িত্বে ছিল? সন্দেহভাজনদের তালিকা করা হয়েছে? সেখান থেকেই ফোনের লোকেশান ট্র্যাক করে বিষয়টি সুনিশ্চিত করা- এটাই যে অপরাধী খোঁজার প্রথম পদক্ষেপ তা কমবেশি সকলেই জানেন। কিন্তু এই মুহূর্তে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াটাই ধোঁয়াটে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি চাওয়াটা নাগরিক অধিকার। উত্তর চাইবে সে, যে বিশ্বাস করে একটি দলকে সিংহাসনে সুনিশ্চিত করেছিল তৃতীয়বার। প্রতিটি মানুষকেই উত্তর দিতে দায়বদ্ধ মাননীয়া পুলিশমন্ত্রী। কিন্তু তিনি কী করলেন!

ভোটে জিততে এই মুহূর্তে ভারতে অমোঘ অস্ত্র সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। একটি অখণ্ড ধারণাকে নানা স্বার্থ গোষ্ঠীতে ভেঙে ফেলা ছাঁচ সাজানোর পদ্ধতিকে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বলা চলে। দেশের রাজাধিরাজ নরেন্দ্র মোদী থেকে তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- সকলেরই এই পদ্ধতিটি পছন্দ। শুধু প্রয়োগে পদ্ধতিগত কিছু ফারাক রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তর্ভুক্তিকরণে বিশ্বাসী। অন্যদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের আসন্ন উৎসবের কথা বলতে গিয়ে ইদের কথা বলতে বেমালুম ভুলে যান। সে প্রসঙ্গ অবশ্য ভিন্ন। এখন স্তব্ধবাক করে দিচ্ছে, 'ও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত', এই উক্তি। মৃত আনিস যেহেতু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত, তিনি যে বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন তা তৃণমূল নেত্রী হজম করতে পারছেন না? আমাদের বলতে তিনি নিশ্চয়ই প্রশাসনকে বোঝাননি। নিয়ে এসেছেন তাঁর দলকে, প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং দলীয় রাজনীতির মাঝের ব্যবধানটা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন হেলায়। রাজ্যের অভিভাবিকা যা বলবেন একপ্রকার বিনা প্রশ্নে মেনে নিতে বাধ্য লোকেরা সাহস করে বলে উঠতে পারছেন না, লাশ নিয়ে এই রাজনীতি অতি বিসদৃশ। আনিস তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত নাকি রাখত না- এই তত্ত্বের অবতারণা এখানে অর্থহীন। কারণ রাজার কাছে প্রতিটি প্রজাই সমদৃষ্টি প্রত্যাশা করে। আনিস বামসমর্থক হলে কি তার মৃত্যু জায়েজ! নাকি সমস্ত সংখ্যালঘুকে বাধ্যতামূলক ভাবে তৃণমূল মনোভাবাপন্নই হতে হবে!

কেউ কেউ বলছেন, আনিস নানা সময়ে স্ববিরোধিতায় ভরা পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। কিন্তু এইসব কুযুক্তি যারা দেন তারা কি বুঝবেন আনিস যাই করে থাকুন না কেন একটি মৃতদেহ ন্যায়বিচারের বেশি কিছু পেতে পারে না। তাকে সেটা পাইয়ে দেওয়া বিবেকবান জীবিতদের কর্তব্য। কারণ মৃত নিজের হয়ে সওয়াল করতে পারে না। আনিস কানহাইয়া কুমার, জীগনেশ মেবানিদের মতো বিরাট মাপের প্রশিক্ষিত ছাত্রনেতা ছিলেন না। ছিলেন একজন সাধারণ ছাত্র যার গলায় বয়সোচিত প্রতিবাদী সুর ছিল। ছিল বিশেষ সামাজিক দায়বোধ, যেখান থেকে তিনি রক্তদান শিবির আয়োজন করতেন। সত্তর দশকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পুকুরে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। কিন্তু এই আপাত সুস্থিত সময়ে সাধারণ এক ছাত্র কার মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠল যে তাকে এত নিখুঁত নীল নকশা সাজিয়ে মারতে হল! এবং আর কেউ নয়, স্বয়ং পুলিশই এই হত্যায় প্রশ্নের মুখে। ঘটনার অভিঘাতটা আর পাঁচটা সাধারণ খুন জখমের মতো নয়। এই পুলিশের দ্বারস্থই হয়েছেন আনিস ইতিপূর্বে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলে। নিরাপত্তা তো পানইনি, পুলিশের উপস্থিতিতেই রাতের অন্ধকারে তাঁর অন্তিম শ্বাস পড়ছে। পুলিশি ব্যবস্থার উপর তাহলে সাধারণ মানুষ কী ভাবে আস্থা রাখবে, এ প্রশ্নের উত্তর তো পুলিশমন্ত্রীই দেবেন? ঠিক যেমন নন্দীগ্রাম পর্বে পুলিশি নৈরাজ্যের যাবতীয় উত্তর তদানীন্তন পুলিশমন্ত্রীর কাছে চাওয়া হতো বারংবার। এই উত্তর চাওয়ার অধিকার রাজ্যের প্রতিটি মানুষের রয়েছে।

সেই অধিকার প্রয়োগ করতেই আজ পথে নামছেন কেউ কেউ। পথে নামছে বিরোধীরা। বিশেষত বামমনস্ক পড়ুয়ারা। কিন্তু সেখানেও শাসক তার মুখোশ খুলে ফেলে আসল মুখ দেখাচ্ছে। আমরা শহিদ দিবসের ঘটনার কথা ভুলিনি। মহাকরণ অভিযান ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করায় জ্যোতি বসু যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিলেন তা জনতার মধ্যে থেকে উঠে আসা এক প্রবাদপ্রতিম নেতার মুখ নয়, বরং এক শাসকের শক্ত চোয়াল- যিনি বিরোধিতা সহ্য করবেন না। ইতিহাস নিজেকেই বারবার পুনরাবৃত্ত করতে থাকে। আজও বিরোধীরা রাস্তায় নেমে সেই একই শাসককে দেখতে পাচ্ছে। আটকে দেওয়া হচ্ছে প্রতিবাদীদের নবান্ন অভিযান। পুলিশ দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে লালবাজারে। এই ধরনের কণ্ঠরোধ চেয়ে শাসককে ক্ষমতায় আনা হয়নি, এই সত্যিটা নাড়াচাড়া করার সময় এসেছে। বিরোধিতার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ সুনিশ্চিত হবে এই ভেবে তারা এত কসরৎ করল কি না, নাগরিক সমাজ নিশ্চয়ই নিজের আত্মা খুঁড়ে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে। রিজওয়ানুর কাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা গোটা রাজ্যবাসীকে লজ্জিত করেছিল। আমরা কি সেই জায়গাতেই দাড়িয়ে আজও? পুলিশ কি স্রেফ শক্তিমানের হাতের পুতুল হয়েই থাকবে?

এত দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো ভোটব্য়বস্থার প্রতিই মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেকে কেবলই বিশ্বাসঘাতকতার শিকার মনে হয়, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে এ কথা জানিয়ে দেওয়ার দিন আজ।

লিখেছেন
Arka Deb
Arka Deb
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।