পাকিস্তানে ক্ষমতাকেন্দ্রে আসীম মুনির! অভূতপূর্ব ক্ষমতার উৎস কী?

Asim Munir: এখন থেকে সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী— সমস্ত বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এককভাবে থাকবে মুনিরের হাতে। আগে এই সমন্বয়ের দায়িত্ব ছিল Joint Chiefs of Staff Committee-র উপর।

inscript
২ মিনিট
পাকিস্তানে ক্ষমতাকেন্দ্রে আসীম মুনির! অভূতপূর্ব ক্ষমতার উৎস কী?

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মহলে। ইমরান খানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, বিরোধীদের দমন, প্রশাসনের উপর বাড়তি সেনা নিয়ন্ত্রণ করেছেন তিনি। প্রশ্ন হলো, কেন আসিম মুনির প্রায় ‘অ্যাকশন-প্রুফ’? কেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো জবাবদিহি বা আইনি প্রক্রিয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে গেছে? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে পাকিস্তানের সর্বশেষ সংবিধান সংশোধনী—২৭তম সংশোধনীতে। এই সংশোধনী দেশটির ক্ষমতার গঠন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। দেখা যাক, কী বদল হলো এই সংশোধনীর ফলে?

২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান পার্লামেন্ট তড়িঘড়ি করে পাস করে 27th Constitutional Amendment। এই সংশোধনীর মধ্যেই লুকিয়ে আছে মুনিরকে দেওয়া অভূতপূর্ব ক্ষমতার সূত্র।

১. নতুন পদ: Chief of Defence Forces (CDF)

এখন থেকে সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী— সমস্ত বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এককভাবে থাকবে মুনিরের হাতে। আগে এই সমন্বয়ের দায়িত্ব ছিল Joint Chiefs of Staff Committee-র উপর। সেই পদ এখন অকার্যকর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতের বিরুদ্ধে সাফল্যের পুরস্কার! কেন সেনাপ্রধান মুনিরের পদোন্নতি ঘটাল পাকিস্তান?

Asim Munir: প্রয়াত প্রাক্তন সেনাশাসক আয়ুব খানের পর পাক সেনার দ্বিতীয় অফিসার হিসাবে মুনির 'পাঁচ তারা জেনারেল' পদে বসলেন।

২. মুনির পেলেন ‘লাইফটাইম’ সুরক্ষা

এই আইনের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ— মুনির এখন আজীবন নিরাপত্তা পাবেন আইনি দায়বদ্ধতা থেকে। অর্থাৎ তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ আদালত, তদন্তকারী সংস্থা বা বিচারব্যবস্থা আর কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে না।

৩. ‘ফাইভ-স্টার’ জেনারেলের র‌্যাঙ্ক

পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় এ এক নজিরবিহীন উন্নতি। এই র‌্যাঙ্ক নিশ্চিত করে—

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যে ১১টি শর্তে পাকিস্তানকে ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিল আইএমএফ

IMF Loan for Pakistan: পাকিস্তানকে আট হাজার কোটি টাকার (ভারতীয় মুদ্রায়) বাড়তি ঋণ দিয়েছে আইএমএফ, যার প্রথম দুই কিস্তির টাকা ইতিমধ্যেই পড়শি দেশ পেয়ে গিয়েছে।

তাঁর পদ শেষ হবে না, সরকার পরিবর্তন হলেও অবস্থান বদলাবে না এবং সবচেয়ে বড় কথা সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করার অবকাশ নেই।

সহজভাবে বললে, আসিম মুনির এখন পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোর শীর্ষে, এবং আইনগতভাবে প্রায় অপ্রতিরোধ্য। তিনি এমন ক্ষমতা পেয়েছেন যা আদালত, রাজনৈতিক দল, এমনকি সরকারের কোনো মন্ত্রীও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। এর জন্যই বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো সেনা প্রধানকে এমন একচ্ছত্র ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে দেওয়া হলো।

ইমরান খান প্রসঙ্গে কেন মুনির আলোচনায়?

ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বহুবার অভিযোগ করেছেন, সেনাবাহিনী, বিশেষ করে আসিম মুনির, তাঁর বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক অভিযানে’ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইমরান খানের গ্রেফতার হওয়া, তাঁর দলের উপর দমন-পীড়ন, আদালতের হস্তক্ষেপ সবকিছুর জন্যই তিনি সেনা নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন।

প্রশ্ন উঠছে, মুনিরের ভূমিকা নিয়ে এত অভিযোগ উঠলেও, তাঁর বিরুদ্ধে কি তদন্ত হবে? উত্তর হলো, না। কারণ আইন এখন তাঁকে তা থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিয়েছে। ঠিক এই কারণেই আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে পাকিস্তানের নাগরিকসমাজ পর্যন্ত বলছে, এ এক ধরনের আইনি চাল, যার আড়ালে মুনিরকে কার্যত জবাবদিহি থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে সেনাপ্রধান প্রথমবার সাংবিধানিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি হয়ে উঠলেন। অনেক আইনজ্ঞ বলছেন, কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে তোলা মানে বিচারব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। নির্বাচিত সরকার পার্লামেন্টে থাকলেও আসল ক্ষমতার উৎস এখন সামরিক নেতৃত্ব। এতে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সীমিত হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ মুনিরকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছ—আগামী দিনে কোনো মিলিটারি অফিসারকেও একই ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। এটি পাকিস্তানের রাজনৈতিক পথকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। আইন, প্রশাসন ও রাজনীতিকে পাশ কাটিয়ে এই যে নতুন ক্ষমতার কাঠামো তৈরি হয়েছে, এটি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে কীভাবে বদলে দেবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।