সরকারি প্রকল্পেই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি অসমে! কেন প্রশ্নের মুখে পিএম কিসান?

এই বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির পর, সম্প্রতি কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলি পিএম-কিসান প্রকল্পের এক্তিয়ার বর্ধিত করেছে।

pampii adhikari
৬ মিনিট
সরকারি প্রকল্পেই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি অসমে! কেন প্রশ্নের মুখে পিএম কিসান?

রাজ্য-মারফত নয়, সরকারি প্রকল্পের যাবতীয় সুযোগসুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতে দুর্নীতি রোখা সম্ভব হবে বলে দাবি তাঁর। মূলত বাংলা-সহ অবিজেপি রাজ্যগুলিকে নিশানা করেই সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু বিজেপি-শাসিত অসমেই একাধিক সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, যার মধ্যে অন্যতম হল প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি (Pradhan Mantri Kisan Samman Nidhi/ PM-KISAN) প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের অ্যাকাউন্টে বছরে ৬,০০০ টাকা করে জমা দেয় কেন্দ্র। অসমে যে ৩১ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে, তাঁদের মধ্যে ১৫ লক্ষ মানুষ টাকা পাওয়ার যোগ্যই নন, অর্থাৎ জীবনধারণের জন্য তাঁরা কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীলই নন বলে জানা গিয়েছে।

২০২০ সালের মে মাসে এই নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে তদন্ত শুরু হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব জিষ্ণু বড়ুয়া। তাতেই এই অনিয়ম ধরা পড়েছে। ২০২১-এর জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে জানায়, ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১-এর ১৪ জুলাই পর্যন্ত গোটা দেশে ১১ কোটির বেশি মানুষ পিএম-কিসান প্রকল্পের আওতায় টাকা পেয়েছেন। তাতে মোট ১.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয়েছে কেন্দ্রের। কিন্তু এই ১১ কোটি মানুষের মধ্যে ৪২ লক্ষই টাকা পাওয়ার যোগ্য নন। এই অযোগ্য সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টেই সব মিলিয়ে ৩,০০০ কোটি টাকার বেশি জমা পড়েছে।

লক্ষ লক্ষ কৃষককে বঞ্চিত রেখে, অযোগ্য সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়া ওই টাকা পুনরুদ্ধারে গত এক বছর ধরে রাজ্যগুলিকে বারবার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে অসম বাকি রাজ্যগুলিকে ছাপিয়ে গিয়েছে। অযোগ্য সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে, তাঁদের কাছ থেকে কেন্দ্রকে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ফেরত দিতে হবে রাজ্যের সরকারকে। বেআইনিভাবে ৮ লক্ষ ৩০ হাজার অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই তালিকায় দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে রযেছে পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ু। পাঞ্জাবকে ফেরত দিতে হবে ৩৫৮ কোটি টাকা। মহারাষ্ট্রকে ফেরত দিতে হবে ৩৪০ কোটি। ২৫৮ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে তামিলনাড়ুকে।

অসমে পিএম-কিসান প্রকল্পে দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে গিয়ে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারেরই ভুল নীতি সামনে এসেছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে পিএম-কিসান প্রকল্পের ঘোষণা করে কেন্দ্র। তার আওতায় কৃষকদের অ্যাকাউন্টে বছরে ৬,০০০ টাকা করে অর্থসাহায্য দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। বছরে ৬,০০০ টাকা অর্থাৎ, মাসে ৫০০ টাকা করে প্রাপ্য কৃষকদের।

অসমে ১৪টি লোকসভা আসন রয়েছে। তার ওপর দিল্লিতে বিজেপি-র ক্ষমতা দখল নির্ভর না করলেও, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC) নিয়ে সেই সময় রাজ্যে অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিল দল। আবার দু’বছরের মাথায় রাজ্যেও বিধানসভা নির্বাচন ছিল। তাই দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ঝড়ের গতিতে নাম নথিভুক্ত করা শুরু হয়। আগুপিছু না ভেবে, কোনওরকম খোঁজ না নিয়ে শুরু হয় নাম নথিভুক্তিকরণ। তাতেই সবকিছু হাতের বাইরে চলে যায়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, সাধারণ মানুষ এবং সরকারি প্রকল্পের মাঝে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দালালরা। টাকার বিনিময়ে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

পিএম-কিসান প্রকল্পে নাম নথিভুক্তির সরকার-অনুমোদিত যে পদ্ধতি রয়েছে, সেই অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক XML ফাইলের মাধ্যমে ১ থেকে ১ লক্ষ কৃষকের নাম সরকারি পোর্টালে আপলোড করতে পারেন। কৃষক নিজে পিএম-কিসান পোর্টালে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করাতে পারেন। সব ক্ষেত্রেই আবেদনকারীর নাম, বাবার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, জন্মের নথি, জমির পরিমাণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি এবং পরিচয়পত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক। এরপর স্থানীয় রাজস্ব আধিকারিক সবকিছু খতিয়ে দেখে সিলমোহর দেবেন। কিন্তু তদন্তে দেখা গিয়েছে, শুধুমাত্র অসমের বরপেটায় জমা পড়া ৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৫০৮টি আবেদনপত্রের মধ্যে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৩২১টিই যাচাই করে দেখা হয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বেছে বেছে বাদ যিশু থেকে টিপু সুলতান, কর্ণাটকের বিকৃত সিলেবাস চেনাচ্ছে বিজেপির 'জাত'

মাসদুয়েক আগে বিজেপি নেতাদের বারংবার দাবির জেরে পাঠ্যবই থেকে টিপু সুলতানকে গৌরবান্বিত করা অধ্যায় বাদ দেওয়ার ব্যাপারে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে সরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসম সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে পিএম-কিসান প্রকল্পের সূচনা। নির্বাচনী প্রকল্প হিসেবেই সেটিকে বাস্তবায়িত করার নির্দেশ পেয়েছিলেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “মোদিজি-র সাফ বার্তা ছিল, যার নাম যোগ করতে হয় করুন, আমাদের শুধু ভোট দিলেই হবে।” তাই বেশিসংখ্যক নাম নথিভুক্ত করতে রাজ্য সরকারের তরফে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। Common Service Centre (CSC)-গুলির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নের প্রযুক্তিগত পরিষেবা মেলে এই CSC থেকে। সেখানকার ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের হাতেই নাম নথিভুক্তির দায়িত্ব ওঠে। সরকারি আধিকারিক এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে তাঁদের কাছে তালিকার পর তালিকা এসে জমা হতে থাকে, যাতে তাঁদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সকলে পিএম-কিসান প্রকল্পের সুবিধা পান।

এমন ৮০০টি CSC পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন রেজাউল হক। তিনি জানিয়েছেন, বরপেটার তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার মুণীন্দ্র শর্মা তাঁকে একদিন ডেকে পাঠান। তাঁর বাসভবনে তখন রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা বসে রয়েছেন। সেখানে মুণীন্দ্র একগুচ্ছ তালিকা রেজাউলের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। আরও তালিকা দেবেন, সেই অনুযায়ী নাম নথিভুক্ত করিয়ে দিতে হবে বলেও রেজাউলকে নির্দেশ দেন তিনি। মুণীন্দ্রর যদিও দাবি, রাজ্যের কৃষি দপ্তরই সবকিছু দেখভালের দায়িত্বে ছিল।

পিএম-কিসান প্রকল্পে নাম নথিভুক্তিতে কৃষি দপ্তরের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বইকি। কারণ পঞ্চায়েত, জেলা স্তর থেকে যত নামই জমা পড়ুক না কেন, সরকারি পোর্টালে গিয়ে তাতে আরও নাম যোগ করা বা বাদ দেওয়া, কত নাম যোগ হল, তার হিসেব রাখা, সবকিছুর দায়িত্বে ছিলেন কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা। তার জন্য নির্দিষ্ট ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পোর্টালে ঢুকতে হত তাঁদের। তারপর মোবাইলে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড এলে, তা বসিয়ে তবেই কাজ শুরু করা যেত। তার জন্য জেলাস্তরের কৃষি দপ্তরগুলিকে পৃথক আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খোলা বাজারে এই আইডি-পাসওয়ার্ড বিক্রি হতে শুরু করে বলে জানা গিয়েছে।

এক কলেজপড়ুয়া জানিয়েছেন, ১৪,০০০ টাকা দিয়ে একজনের কাছ থেকে কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের ব্যবহৃত আইডি-পাসওয়ার্ড কেনেন তিনি। ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা দেন, পরিবর্তে হোয়াটসঅ্যাপে আইডি-পাসওয়ার্ড এবং OTP-ও চলে আসে। একবার আইডি, পাসওয়ার্ড এবং OTP কিনলে, তা দিয়ে যে কোনও ডিভাইস থেকে ২৪ ঘণ্টা পোর্টালে লগ ইন করা যেত বলে জানিয়েছেন তিনি। তাই দিয়ে মাথাপিছু ১০০ থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে কয়েকশো নাম তিনি পোর্টালে নথিভুক্ত করেন বলে জানিয়েছেন ওই পড়ুয়া। ১৪,০০০ টাকায় আইডি-পাসওয়ার্ড কিনে তিনি ২৪ ঘণ্টায় ৪০,০০০ টাকা লাভ করেন বলে জানিয়েছেন। অসমে ৩৩টি জেলা এবং ২১৯টি ব্লক রয়েছে। সেই অনুযায়ী, গুয়াহাটির ডিরেক্টরেটকে ধরে ২৫৩টি আইডি তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু মোট ৮৩৫টি আইডি-র কথা তদন্তে উঠে এসেছে।

নাম নথিভুক্তিকরণের জন্য নাম পরিচয় দিতে হলেও, আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিশদ তথ্য জানানোর প্রয়োজন ছিল না। শুধু অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং IFSC কোড দিলেই কাজ হয়ে যেত। ফলে, আবেদনকারীর নামেই ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি নথিভুক্ত কি না, তা জানার উপায় ছিল না। দুর্নীতিকারীরা তারও সুযোগ নেন। একজনের নামে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ আবেদন জমা পড়ে। কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্তই নন, সরকারি, বেসরকারি ক্ষেত্রে উঁচু পদে চাকরি করেন, এমন মানুষজনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পিএম-কিসান প্রকল্পের টাকা পান। এমনকী, ব্যাঙ্কের কর্মীরাই গ্রাহকদের তথ্য হাতিয়ে পিএম-কিসান থেকে টাকা নিতে শুরু করেন।

বিষয়টি নজরে পড়তে সময় লাগেনি। কিন্তু এই নিয়ে কোনও শোরগোলে যায়নি অসম কৃষি দপ্তর। কিন্তু মরিগাঁওতে একদিনে ৩০ হাজার নাম জমা পড়ে পিএম-কিসান পোর্টালে। তাতেই আর বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সন্দেহজনক কিছু অ্যাকাউন্টে প্রথমে টাকা পাঠানো বন্ধ করা হয়। তারপর আগস্ট মাসে দিল্লিতে ডাক পড়ে কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের। সেখানে তাঁরা জানতে পারেন, বেআইনিভাবে ১০ লক্ষ নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরপর সরকারের তরফে লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা চললেও, দুর্নীতি তখন এমন আকার ধারণ করেছে, যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। বিরোধীদের চাপের মুখে পড়ে এবং ছাত্র আন্দোলনের জেরে ২০২০-র ১৮ মে বিষয়টিতে তদন্তের নির্দেশ দেয় অসমের তৎকালীন সর্বানন্দ সোনোয়াল সরকার। তারপর জিষ্ণু বড়ুয়ার তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তদন্ত।

তদন্তে এখনও পর্যন্ত যে তথ্য উঠে এসেছে, সেই অনুযায়ী, পিএম-কিসান প্রকল্পে অসমের ৩১ লক্ষ ২০ হাজার ১৬০ সুবিধাভোগীর মধ্যে ১৫ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৬ জনই টাকা পাওয়ার অযোগ্য। যে-সকল নাম নথিভুক্ত হয়েছে সরকারি প্রকল্পে, ৭২ শতাংশ ক্ষেত্রেই ভুল ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্তই নন ১৬.৭ শতাংশ, কোনও জমিজমাও নেই তাঁদের, অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি অথবা শিশুদের নামও নথিভুক্ত করা হয়েছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম নথিভুক্তি, একজনের নাম একাধিকবার নথিভুক্তির নজির মিলেছে ৮.১৭ শতাংশ ক্ষেত্রে।

২০১০-’১১ সালে অসমের কৃষি আদমশুমারিতে কৃষিজীবী হিসেবে বরপেটায় ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৯৩ নাম নথিভুক্ত ছিল। ২০১৯-এর জুলাইয়ে পিএম-কিসান প্রকল্পে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেড়ে ৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৫০৮ কোন মন্ত্রবলে হলো, উত্তর মেলেনি। এই ৫১৫ শতাংশ বৃদ্ধি চোখে পড়লেও, তার মধ্যে ৭৯.৫ শতাংশই সুবিধা পাওয়ার অযোগ্য বলে তদন্তে উঠে আসছে।

পিএম-কিসান প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত ১১ বার কিস্তির টাকা জমা দিয়েছে কেন্দ্র। তবে শুধু অসমই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুর্নীতির খবর উঠে আসছে। নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে যেমন অনিয়ম চোখে পড়ছে, তেমনই যাঁরা সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, সেই আসল কৃষকদের হাতে টাকা পৌঁছচ্ছে না বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে ভূরি ভূরি। দেশের সাড়ে ১৪ কোটি কৃষকের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিল কেন্দ্র, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ৭ কোটি কৃষকই কেন্দ্রের কাছ থেকে টাকা পেয়েছেন।

এই বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির পর, সম্প্রতি কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলি পিএম-কিসান প্রকল্পের এক্তিয়ার বর্ধিত করেছে। অসমে ভাগচাষী, ফুলচাষীদেরও এর আওতায় টানা হয়েছে। কেন্দ্রকে যে ৫০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা অসমের, এখনও পর্যন্ত তার মধ্যে দেড় কোটি টাকাই ফেরত দিতে পেরেছে তারা। যাঁরা টাকা ফেরত দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশ মূলত সরকারি কর্মী, বাকি ১০ শতাংশ ধনী ব্যবসায়ী। তবে আদৌ পুরো টাকা উদ্ধার হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ বেআইনি সুবিধাভোগীদের মধ্যে একটি বড় অংশের ২ হাজার টাকাও সম্বল নেই বলে মত পিএম-কিসান প্রকল্পে অসমে নিযুক্ত নোডাল অফিসার দেবজিৎ নিয়োগের।

লিখেছেন
pampii adhikari
pampii adhikari
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।