বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদবের সমস্যা, সংকট, সম্ভাবনা

Tejashwi Yadav: তবে, লালু প্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে আইআরসিটিসি হোটেল কেলেঙ্কারি মামলার অভিযোগ তেজস্বীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে পারে।

Tanvia Barua
২ মিনিট
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদবের সমস্যা, সংকট, সম্ভাবনা

বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন (INDIA) রাজনৈতিক মহলে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।মহাগঠবন্ধন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, তেজস্বী যাদবই তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী। মহাগঠবন্ধনের এই ঘোষণা যেন বিহারে প্রজন্ম বদলের ইঙ্গিত। লালু প্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বী, বয়স মাত্র ৩৫। তবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণে তিনি ইতোমধ্যেই বিহারের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

তেজস্বী যাদব রাগহোপুর কেন্দ্র থেকে নির্বাচন লড়ছেন। এই কেন্দ্র লালু পরিবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০০ সাল থেকে এই কেন্দ্রের প্রায় সব নির্বাচনে লালু পরিবারের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, একমাত্র ২০১০ সালে জেডিইউ প্রার্থী সতীশ কুমার রাবরি দেবীকে পরাজিত করেছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না প্রশান্ত কিশোর?

Prashant Kishor's Jan Suraj Party: প্রশান্ত কিশোরের মতে, রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে থাকা উচিত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, তাদের জীবনের মান উন্নয়ন এবং সামাজিক সমতা নিশ্চিত করা।

তবে, লালু প্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে আইআরসিটিসি হোটেল কেলেঙ্কারি মামলার অভিযোগ তেজস্বীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে পারে। তাছাড়া মহাগঠবন্ধনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে বিতর্কও বিরোধীদের আক্রমণের সুযোগ তৈরি করছে। এসব পরিস্থিতিতে তেজস্বীকে শুধু ভোটারদের মন জয় করলেই হবে না, বরং নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং পরিবারের সমর্থনও ধরে রাখতে হবে।

তেজস্বী যাদব বিহারের যুবসমাজ ও নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি 'জীবিকা দিদি'দের জন্য স্থায়ী সরকারি চাকরি, মাসিক বেতন ৩০,০০০ টাকা এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের ঘোষণা করেছেন। এছাড়া, প্রতিটি পরিবারে একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রতিশ্রুতিগুলো তাঁকে সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিহারের রাজনীতিতে প্রশান্ত কিশোর! নির্বাচনের সমস্ত সমীকরণ তছনছ করে দেবেন?

Prashant Kishor in Bihar Politics: তিন বছর আগে তিনি জন সুরজ পার্টি গড়ে তুলে বিহার জুড়ে প্রচার শুরু করেছেন। তিনি বারবার বলেন, বিহারের মানুষকে জাতের বেড়া ভেঙে নিজেদের জন্য নতুন দিশা তৈরি করতে হবে।

তাছাড়া, তেজস্বী যাদব রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মিলিত হয়ে 'ভোটার অধিকার যাত্রা' করেন। এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটারদের সচেতন করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের অধিকার সম্পর্কে জানানো। তেজস্বী রাহুলের সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন, যাতে জনমত একত্রিত করে বিরোধী শক্তিকে শক্তিশালীভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায়। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এতে তিনি যুব ভোটার ও সাধারণ মানুষকে অনেকটাই নিজের দিকে আনতে পেরেছেন। তাঁর দাবি, ভোটের আগে জনমত গড়া এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

তেজস্বী যাদবের জন্য মুসলিম ও যাদব ভোটারদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ, তবে শুধুমাত্র এই দুই গোষ্ঠীর উপর নির্ভর করলেই হবে না। ২০২০ সালের নির্বাচনে এই ভোটব্যাংকের উপর নির্ভর করে থাকা সত্ত্বেও দুই মুসলিম প্রার্থী পরাজিত হন, তাই এখন সমর্থনের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখন তেজস্বী পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (EBC), দলিত এবং অন্যান্য ওবিসি গোষ্ঠীর সমর্থন পেতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। বিহারের সবচেয়ে বড় সামাজিক গোষ্ঠী হলো EBC, যাদের ভোট প্রায় ৩৬%। তেজস্বী এখন আরজেডিকে শুধুমাত্র মুসলিম-যাদব এর উপর ভরসা না করে পিছিয়ে পড়া ও দলিতদের সমর্থন পাওয়ারও চেষ্টা করছেন। এই কৌশল সফল হলে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

বিহারের মানুষ চাইছেন চাকরি, উন্নয়ন এবং নির্ভরযোগ্য সরকার। তেজস্বী যাদবের প্রতিশ্রুতিগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে বিহারের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে। তবে, বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকরী পদক্ষেপ। তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে মহাগঠবন্ধন যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারে, তবে বিহারে রাজনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।