অনৈতিক মন্ত্রীদের সরাতে বিল! বিজেপির এই নেতারা নৈতিকতার পথে হেঁটেছেন?

Trigger chaos in Lok Sabha: একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা যে ঠিক কতটা লজ্জাজনক, তা একটি শিশুও জানে। তবুও একের পর এক ঘটনা ঘটলেও সাংসদ, বিধায়কদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়নি।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
অনৈতিক মন্ত্রীদের সরাতে বিল! বিজেপির এই নেতারা নৈতিকতার পথে হেঁটেছেন?

২০ অগাস্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে পেশ করলেন সংবিধান সংশোধনী বিল। সেই কাগজই ছিঁড়ে শাহের দিকে ছোড়েন বিরোধীরা। উত্তাল হয় অধিবেশনকক্ষ। সত্যি কি নৈতিক মূল্যবোধ ফেরাতেই এই বিল আনা হচ্ছে?

এই বিল অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা ৩০ দিনের বেশি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁদের পদ থেকে সরে যেতে হবে। এমনকি দোষী সাব্যস্ত না হলেও, যদি অপরাধের শাস্তি পাঁচ বছর বা তার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা হয়, তবে গদি থেকে সরতে হবে। সরকারের যুক্তি, এই বিল রাজনীতির জগতকে অপরাধমুক্ত করার পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করছে। নৈতিকতার উদ্দেশ্যেই এই বিল আনা। সত্যিই কি নৈতিকতার জন্যই এই বিল?

বিরোধীদের দাবি, এই বিল 'অগণতান্ত্রিক' ও 'সংবিধানবিরোধী'। বিরোধীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই বিল বিরোধী শাসিত রাজ্যের সরকারকে অস্থিতিশীল করতে নির্বাচনী পরাজয় ছাড়াই নেতাদের অপসারণ করতে ব্যাবহার করা হতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ঘোষণা এনডিএ-র! কেন রাধাকৃষ্ণণকে বাছল বিজেপি?

Radhakrishnan: আরএসএস করার পর ১৯৭৪ সালে জনসংঘের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হন তিনি। ১৯৯৬ সালে জনসংঘ থেকে বিজেপির জন্ম। সে বছরই তিনি রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, "সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকেই ধসিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতেই যাবতীয় ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে।’’ সংশোধনী বিল পেশ হওয়ার পরেই মমতা এক্স-পোস্ট করেন, ‘সুপার-ইমার্জেন্সির থেকেও বেশি কিছু যদি থাকে, তা হল এই বিল টেবিল করা। এর অর্থ, চিরকালের মতো যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ও ভারতের গণতন্ত্র শেষ হয়ে যাওয়া।’

যদিও কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বিলের মূল ধারণাকে সমর্থন করেছেন, বলেছেন, ৩০ দিন জেলে থাকা মন্ত্রীর পদে থাকা উচিত নয়, এবং এটি সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার জন্য উপযুক্ত।

তবে বিলটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠছে। কারণ, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করছেন যে, শিল্পপতি আদানির নির্দেশে পরিচালিত হন প্রধানমন্ত্রী মোদি। মার্কিন আদালতে আদানিদের বিরুদ্ধে ‘প্রমাণ-সহ অভিযোগপত্র’ (ইনডিক্টমেন্ট) জমা পড়েছে আগেই। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বরাত পাওয়ার বিনিময়ে ভারতের সরকারি আধিকারিকদের (মন্ত্রী এবং আমলা) ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গৌতম আদানি এবং তাঁর ভাইপো সাগর-সহ সাত জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাতে। ইডি কিন্তু কখনই আদানির বিরুদ্ধে তদন্ত করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে বারবার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ আরএসএস প্রশস্তির জন্য বেছে নিলেন মোদি?

Modi's Independence Day Speech: বিজেপি তাদের নিজস্ব বিধিনিষেধ পালন করা একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দল হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, সঙ্ঘকেও হাতে রাখা জরুরি কারণ সঙ্ঘের সিদ্ধান্ত বিজেপিতে অনেকটাই গুরুত্ব পায়।

আবার কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের থেকে একাধিকবার ইস্তাফা চাওয়া হয়েছে। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীকেও বহুবার পদত্যাগ করার কথা বলা হয়েছে কিন্তু তবুও দু'বছর তিনিই ক্ষমতায় ছিলেন। ললিত মোদির দেশ ছেড়ে যাওয়া নিয়ে তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা সরাজের পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। তখন বিজেপি নেতা রাজনাথ সিং পদত্যাগে বারণ করে বলেছিলেন- এটা এনডিএ সরকার ইউপিএ নয়, মন্ত্রীরা পদত্যাগ করবেন না।

নোটবন্দির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কখনও তদন্তই করা হয়নি।

গত লোকসভা ভোটের আগেও বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ তথা কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ সিং-এর বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ তুলে দিল্লির যন্তর মন্তর-এ প্রতিবাদ করেছিলেন কুস্তিগিরেরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন- সাক্ষী মালিক, বিনেশ ফোগট, বজরং পুনিয়ারা। বিজভূষণের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে তাঁকে কুস্তি সংস্থার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরে ব্রিজভূষণেরই ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় সিং দায়িত্ব পান। ব্রিজভূষণ শরণ সিং-কে কয়েক মাস আগে পকসো মামলা থেকেও রেহাই দিয়েছে আদালত।

একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা যে ঠিক কতটা লজ্জাজনক, তা একটি শিশুও জানে। তবুও একের পর এক ঘটনা ঘটলেও সাংসদ, বিধায়কদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়নি। গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে বহু সময়ই ক্ষমতাসীন দল উদাসীনতা দেখিয়েছে। প্রমাণ উন্নাও কাণ্ড। উন্নাওয়ের বিধায়ক কুলদীপ সিঙ্গারের বিরুদ্ধে অনেক আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল বিজেপি নেতৃত্বদের। কিন্তু এমনটা হয়নি। অভিযুক্ত বিধায়কের গতিবিধির উপর সতর্ক নজর রাখা হয়নি। ধর্ষণের অভিযোগকারী মেয়েটির বাবাকে পুলিসের হেফাজতেই মেরে ফেলা হয়েছিল। ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে অনেক দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন উঠছে, অতীতের এই অভিযোগগুলির তদন্ত করা হল না কেন? আজ যে বিজেপি নৈতিকতার পাঠ দিচ্ছে অতীতে ব্রীজভূষণ কুলদীপদের প্রশ্নে কেন মুখে কুলুপ এঁটেছিল? অন্যদিকে আবার সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিলে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীরও নাম জোড়া হয়েছে। কিন্তু দেশবাসী কখনও কি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি মামলা করবে? করলেও সেটা কি গ্রেফতারি অবধি যাবে? কেন এই লোক দেখানো? কী উদ্দেশ্য এর পেছনে?

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।