মেয়াদ শেষ চন্দ্রচূড়ের! অবসরের পর কোন কোন কাজ করতে পারেন না প্রধান বিচারপতিরা?

Chief Justices Facilities After Retirement: সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অবসর গ্রহণের দিন থেকে একজন গৃহকর্মী এবং আজীবনের জন্য একজন গাড়িচালক পাবেন।

inscript
৩ মিনিট
মেয়াদ শেষ চন্দ্রচূড়ের! অবসরের পর কোন কোন কাজ করতে পারেন না প্রধান বিচারপতিরা?

গত ১০ নভেম্বর ভারতের প্রধান বিচারপতি হিসাবে ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের মেয়াদ শেষ হলো। নতুন দায়িত্বভার নিলেন বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। ডিওয়াই চন্দ্রচূড়কে নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। মেয়াদের শেষপ্রান্তে এসে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে সওয়াল ওঠে। প্রশ্ন ওঠে শাসকদলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়েও। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের আশঙ্কা ছিল, বিচারপতি চন্দ্রচূড় শাসকের ঘনিষ্ঠ হওয়াতে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হতে পারেন। মেয়াদ শেষের পরে সত্যিই কী করবেন তিনি? প্রাক্তন বিচারপতিরা কি অবসর গ্রহণের পরে সাংবিধানিক বা বিধিবদ্ধ পদে থাকতে পারেন?

সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা ঠিক কী কী করতে পারেন না?

সংবিধানের ১২৪(৭) অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারকদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে যে কোনও ভারতীয় আদালতে আইন অনুশীলন করা নিষিদ্ধ। "এমন কোনও ব্যক্তি যিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসাবে পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন তিনি ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে কোনও আদালতে বা কোনও কর্তৃপক্ষের সামনে আবেদন বা কাজ করবেন না," বলছে দেশের সংবিধান।

এই নিষেধাজ্ঞার পেছনের যুক্তি হলো বিচার বিভাগের সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের যে কোনও বিচারককে আইন অনুশীলন করার অনুমতি দেওয়া হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে তাঁদের পূর্ববর্তী রায়গুলি বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার উপর অযাচিত প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন অবসরের পরেও একজন বিচারপতিকে এত নিয়ম মেনে চলতে হবে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাম মন্দিরের রায় দিতে ঈশ্বরের শরণাপন্ন হয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়?

DY Chandrachud: প্রধান বিচারপতি যখন সংবিধানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কথা, ব্যক্তিগত ধর্ম এবং ঈশ্বরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তখন সেই বিচারপতি এবং বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।

স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়ানো: ধরা যাক, একজন প্রাক্তন বিচারক পূর্বে কোনও মামলার রায় দিয়েছিলেন, তেমন মামলার ক্ষেত্রেই আবার একজন উকিল হিসাবে উপস্থিত হচ্ছেন। তাতে বিচার বিভাগের সততা এবং নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে না বলেই আশঙ্কা। ওই বিচারকের রায়ের পক্ষপাতিত্ব নতুন করে মামলাকে প্রভাবিত করতেই পারে।

বিচার বিভাগের অখণ্ডতা বজায় রাখা: একজন বিচারক, বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের স্তরের কোনও বিচারক অপরিমেয় সম্মান ও কর্তৃত্বের অধিকারী। অবসর গ্রহণের পরে যদি সক্রিয়ভাবে আবার আইন অনুশীলন শুরু করেন তিনি তাহলে এই মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

নৈতিক বিবেচনা: আইন অনুশীলনের উপর নিষেধাজ্ঞার নৈতিক প্রভাবও রয়েছে। বিচার বিভাগ গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ এবং এর বিশ্বাসযোগ্যতা এর সদস্যদের প্রকৃত নিরপেক্ষতার উপরই নির্ভর করে।

অযৌক্তিক প্রভাব রোধ করা: যেহেতু প্রধান বিচারপতিদের কাছে নানা সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভাণ্ডার রয়েছে, তাই অবসর গ্রহণের পরে তাদের আইন অনুশীলন করার অনুমতি দিলে তথ্যের অপব্যবহার হতে পারে।

তাহলে অবসর গ্রহণের পর বিকল্প কোন ভূমিকায় কাজ করতে পারেন বিচারপতিরা?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের গণেশপুজোয় মোদি! ভারতের প্রধান বিচারপতি আদৌ নিরপেক্ষ?

Modi Chandrachud: প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির 'একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা'-ও ভুল কারণ সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধগুলিকে বজায় রাখা।

সালিশ এবং মধ্যস্থতা: অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা প্রায়ই বিভিন্ন বিবাদে সালিশ বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা গ্রহণ করেন, কারণ তাদের আইনি দক্ষতা এবং জটিল আইনি বিষয়ে বোঝার ক্ষমতা আছে। আরবিট্রেশন অ্যান্ড কনসিলিয়েশন অ্যাক্ট, ১৯৯৬ অনুসারে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের সালিশ হিসাবে নিয়োগের অনুমতি রয়েছে।

কমিশনের চেয়ারপার্সন বা সদস্য: অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা প্রায়শই ভারতের আইন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বা জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনালের মতো বিভিন্ন কমিশন ও ট্রাইব্যুনালের চেয়ারপার্সন বা সদস্য হিসেবে কাজ করেন। এই ভূমিকাগুলিতে তাদের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা অমূল্য।

আকাডেমিয়া এবং আইনি শিক্ষা: অনেক অবসরপ্রাপ্ত বিচারক আইন স্কুলে শিক্ষকতা করেন, বক্তৃতা দেন বা আইনি বিষয়ে লেখালেখি করেন যাতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁদের বিশাল জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চারিত হয়।

পাবলিক সার্ভিস: কোনও রাজ্যের রাজ্যপাল বা বিভিন্ন সরকারি কমিটি এবং কমিশনের প্রধান হিসাবে কিছু অবসরপ্রাপ্ত বিচারক সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ পদে নিযুক্ত হন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপরতি ও বিচারকদের অবসর-পরবর্তী ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে আগেও। সমালোচকদের মতে, বিভিন্ন কমিশন ও ট্রাইব্যুনালে বিচারকদের অবসর-পরবর্তী নিয়োগকে 'পুরস্কার' হিসেবেও দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ এই বিচারপতিরা তাঁদের মেয়াদকালে শাসকের পক্ষে এমন কোনও অনুকূল রায় দিয়েছেন যে কারণে তাঁদের ওই পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগের ভাবমূর্তির চরম ক্ষতি করে দেয় এই 'পুরস্কার'। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে অবসর গ্রহণের পরপরই রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল। তখন এই ধরনের নিয়োগের নৈতিকতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। সমালোচকদের যুক্তি, এই ধরনের নিয়োগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি জনগণের আস্থাকে নষ্ট করতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং অন্য বিচারকরা অবসর-পরবর্তী বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করেন। ভারতের একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে শুরু করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সারাক্ষণ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রহরী ছাড়াও তাদের বাসভবনে সর্বক্ষণের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী হবেন।

একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিচারপতি অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ছয় মাসের জন্য দিল্লিতে বিনামূল্যে টাইপ-৭ আবাসনের অধিকারী হবেন। টাইপ ৭ আবাসন সাধারণত সেই বর্তমান সাংসদদের দেওয়া হয় যারা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অবসর গ্রহণের দিন থেকে একজন গৃহকর্মী এবং আজীবনের জন্য একজন গাড়িচালক পাবেন। বিমানবন্দরগুলিতে আনুষ্ঠানিক লাউঞ্জের সুবিধাটি অবসরপ্রাপ্ত সিজেআই এবং সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের জন্যই বাড়ানো হয়েছে।

একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক একটি টেলিফোন পরিষেবা পাবেন বিনামূল্যে। টেলিফোন বা মোবাইল ফোন বা ব্রডব্যান্ড বা মোবাইল ডেটা বা ডেটা কার্ডের জন্য প্রতি মাসে ৪,২০০ টাকা পাবেন তিনি।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।