কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের পকেট ফুলছে, বাংলার বেহাল দশা! কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ-র এত কেন ফারাক?

Central State DA Difference : শুধু পশ্চিমবঙ্গেই কি এই সমস্যা? নাকি অন্যান্য রাজ্যের সরকারি কর্মীরাও একই সমস্যায় পড়েছেন?

inscript
৩ মিনিট
কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের পকেট ফুলছে, বাংলার বেহাল দশা! কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ-র এত কেন ফারাক?

“আমরা যা দিচ্ছি সেটাই দিন। আমাকে যদি ভালো না লাগে, আমার মাথা কেটে ফেলুন। কিন্তু এর বাইরে, আমি কিছু করতে পারব না।” এই কয়েকটি কথাই এখন বাংলার রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে। বক্তা? খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বাড়ানোর প্রসঙ্গে তাঁর এমন বক্তব্যই কার্যত আগুনে ঘি ঢেলেছে। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে ডিএ নিয়ে তরজায় সরকারি কর্মীরা। কেন্দ্রীয় সরকারের মতো রাজ্য কেন ডিএ দিচ্ছে না, এমন দাবি বারংবার উঠেছে। রাজ্য সরকারের কর্মীদের একটা অংশ প্রায় ৪০ দিন ধরে ধর্নাও দিচ্ছেন। সেইসঙ্গে শুক্রবার, ১০ মার্চ ধর্মঘটের ডাকও দিয়েছেন তাঁরা। অবশ্য রাজ্য সরকার ‘ধর্মঘট’-এর ব্যাপারে প্রথম থেকেই কড়া। এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। সেইসঙ্গে ডিএ নিয়েও অনড় প্রশাসন।

ডিএ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের এই বিরাট ব্যবধান অবশ্য আজকের নয়। বহু বছর ধরে এই বৈষম্য চলে আসছে। সেদিকে ঢোকার আগে একবার দেখে নেওয়া যাক এই ডিএ আসলে কী? ডিএ বা ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স আসলে সরকারি কর্মীদের একটি বিশেষ সুবিধা। মূল বেতনের ওপর নির্দিষ্ট হারে একটি টাকা দেওয়া হয়, বর্ধিত ভাতা হিসেবে। যার যেরকম পদ, তিনি সেই পরিমাণে এই বর্ধিত ভাতা পান। বহুদিন ধরে চলা এই বিশেষ নিয়মের পরিবর্তন হয়নি। ঠিক সেভাবে কেন্দ্র আর রাজ্য সরকারের ডিএ-রও পার্থক্য রয়েছে।

এই ফারাকটা কেন?

রাজ্য আর কেন্দ্রীয় সরকার – এই দুটো একেবারেই এক নিয়মে চলে না। প্রশাসনিক দিক থেকে কাজের পরিস্থিতি, ধরনের মধ্যেও কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের স্পেকট্রাম তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই রাজ্যের তুলনায় সেখানকার কর্মীদের বর্ধিত ভাতা বা ডিএ-ও বেশি। এটা ফারাক থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তাহলে সমস্যা কোথায়?

সমস্যাটা রয়েছে ফারাকের পরিমাণে। একটা উদাহরণ দিলেই বোঝা যাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। সেখানে আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা পেতেন মাত্র ৩ শতাংশ! সম্প্রতি আরও ৩ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৬ শতাংশ বর্ধিত ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তবুও কেন্দ্রের সঙ্গে পার্থক্যটা থেকে যাচ্ছে অন্তত ৩২ শতাংশ! এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন কর্মীরা। তার ওপর ফের একবার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। আর এটাই আগুনে ঘি ঢেলেছে।

আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের দাবি, AICPI বা অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের নিয়ম মেনে ডিএ দিতে হবে। এদিকে রাজ্য সরকার এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবভঙ্গি ও জবাব দেখে নিশ্চয়ই মনে হবে না, শীঘ্রই এর কোনও সুবিধা হবে। তাহলে একপ্রকার ঝুলেই থাকবে এই ডিএ সমস্যা? কিন্তু শুধু পশ্চিমবঙ্গেই কি এই সমস্যা? নাকি অন্যান্য রাজ্যের সরকারি কর্মীরাও একই সমস্যায় পড়েছেন?

পরিসংখ্যান কিন্তু বলছে, অন্যান্য রাজ্যের ডিএ-র হার যথেষ্ট বেশি। তাও পশ্চিমবঙ্গের থেকে কয়েক গুণ বেশি! মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশের সরকারি কর্মীরা যেমন ৩১ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পান। তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশের কর্মীরা পান ৩৪ শতাংশ। কেরলে এই পরিমাণ প্রায় ৩৬ শতাংশ! মোটামুটি বেশিভাগ রাজ্যেই ২৫ শতাংশের ওপর মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয় সরকারি কর্মীদের। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ? মাত্র ৬ শতাংশ! আন্দোলন যে একেবারে অমূলক, তা তো বলা যাবে না।

ঠিক কতটা ফারাক?

ধরা যাক, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও এক গ্রুপ সি কর্মচারীর কথা। ২০১৬ সালে যদি প্রায় সাড়ে ২২ হাজার টাকার চাকরিতে ঢোকেন, তাহলে ২০২২-এ সেটা বেড়ে হয়েছে ২৭ হাজার ১০০ টাকা। এবার কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র ফারাক অন্তত ৩২ শতাংশ। মানে মাসে প্রায় ৮৬৭২ টাকা কম পাচ্ছেন তিনি। বছর গেলে এই সংখ্যাটাই দাঁড়ায় এক লাখেরও ওপর! অথচ এটা তো তাঁর ন্যায্য পাওনা ছিল। ঠিক এরকমই অবস্থা বেশিরভাগ সরকারি কর্মীর। সমস্ত স্তরেই এমন অবস্থা চলছে।

সরকারের দাবি, অনেক দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে আর টাকা নেই। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্য সরকারে তো কেন্দ্রের থেকে বেশি ছুটি দেওয়া যায়, তার বেলা? এটা আদৌ কতটা যুক্তিযুক্ত কথা, সেটা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাই বলতে পারবেন। কিন্তু এখানেই একটা প্রশ্ন। পুজোর সময় প্রতিটা ক্লাবে টাকা দেওয়া, অজস্র অনুদান – সেই সময় তো টাকা ঠিকই থাকছে। তাহলে সরকারি কর্মীদের ডিএ বা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে কেন এমন ‘টাকার সমস্যা’? নাকি সবটাই সদিচ্ছার অভাব!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।