নিরাপদ নয় দার্জিলিংও! কীভাবে জোশীমঠের মতোই তলিয়ে যাওয়ার পথে পাহাড়ের রানি?

Darjeeling: দার্জিলিং জেলার তিনধারিয়া। প্রতিনিয়তই জোশীমঠের মতোই আতঙ্কে কাটাচ্ছেন এখানকার মানুষ।

inscript
২ মিনিট
নিরাপদ নয় দার্জিলিংও! কীভাবে জোশীমঠের মতোই তলিয়ে যাওয়ার পথে পাহাড়ের রানি?

জোশীমঠ ভিনরাজ্য। জোশীমঠের মানুষজনের সমস্যা, জোশীমঠের বিপর্যয় সারা দেশের সংবাদমাধ্যমের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ খবর। ক্রমাগত একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে, বসে যাচ্ছে পাহাড়ের এই শহর। দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা ঘরছাড়া। এই অঞ্চলে মাত্রাতিরিক্ত নির্মাণকাজ, বাড়ির চাপ, পর্যটনের চাপে ধীরে ধীরে জমি বসে যাচ্ছে। ৭০০-র উপর বাড়িতে ফাটল, ৪০০০-এর উপর মানুষকে নিরাপদে সরিয়েছে প্রশাসন। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য আগেই জানিয়েছিলেন, এমনটা জোশীমঠে একদিন হবেই। বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন শুধু জোশীমঠ নয় উত্তরকাশী, নৈনিতালের অবস্থাও হবে জোশীমঠেরই মতো। আর আমাদের সাধের দার্জিলিং? হিমালয়ের রানির কোলে বাড়াবাড়ি রকমের নির্মাণ আর চূড়ান্ত পর্যটনের খেসারত কি দিতে হবে না? দিতে হচ্ছে, জোশীমঠের মতোই বসে যাচ্ছে জমি দার্জিলিংয়ের একাংশে।

দার্জিলিং জেলার তিনধারিয়া। প্রতিনিয়তই জোশীমঠের মতোই আতঙ্কে কাটাচ্ছেন এখানকার মানুষ। এইখানকার বাড়িতে ‘দরজা, জানলার ছিটকিনি আটকানো যায় না। যখন আটকানো যায়, তার কিছু দিন পরেই দেখা যায় আবার লাগানো যাচ্ছে না। ফের নতুন করে ছিটকিনির জায়গা বদল করেন মানুষ। কেন? জমি বসে যাচ্ছে। বাড়ি, দরজা, জানলা সমেত জমি আস্তে আস্তে বসে যাচ্ছে। মাটি ধীরে ধীরে বসে যাওয়ার ফলেই বাড়ি ঘরে দেখা দিচ্ছে ফাটলও। জোশীমঠের আতঙ্ক ফিরছে উত্তরবঙ্গেও। তিনধারিয়ার রাজবাড়ি পাড়া, বাজার এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন জোশীমঠের ঘটনায় উদবিগ্ন তাঁরা। যে কোনও দিন তাঁদেরও কাটাতে হতে পারে রাস্তায়। বাড়িতে, দোকানে ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ করা উচিত বলেও মনে করছেন তাঁরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আয়ু কমছে তিলোত্তমার, উন্নয়নের তোড়ে কলকাতারও অবস্থা জোশীমঠের মতোই!

Kolkata Cracks: মানুষ চেয়েছে সুবিধাকে পর্বতচূড়ায় নিয়ে যেতে, উন্নয়নকে জলের তলায় ঢুকিয়ে দিতে, যাদের জন্য এই উন্নয়ন- বিপদে আসলে পড়ছেন তাঁরাই।

৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে তিনধারিয়া বাজারে নেমে যাওয়া রাস্তায় গত কয়েক বছরে অভাবনীয় হারে মাটি বসে গিয়েছে। জমি বসে গিয়ে সিঁড়ির মতো ধাপও তৈরি হয়েছে। লাগোয়া ‘গার্ড ওয়াল’-এর ফাটলও বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই এলাকায় ক্রমাগত বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ। গত ১০ বছরে পাহাড়ি এই এলাকায় জনসংখ্যা ৬০০০ এর কাছাকাছি বেড়েছে। শুধু তাই নয়, তিনধারিয়ায় মাটির নীচে কয়লাও ছিল। মানুষজন নিয়মিত তা তুলতেন একটা সময়। ফলে মাটির নীচটি এমনিতেই ফাঁপা হয়েছে। একে পাহাড়ি দুর্বল জমি বহুকাল থেকেই ভূপ্রাকৃতিক ভাবে ‘সিঙ্কিং জ়োন’, তার উপর কয়লা তোলার বিপত্তি! কয়লা তোলা ঠেকাতে এবং এই পাহাড়ি এলাকাকে রক্ষা করতে ‘গ্রামকল্যাণ সমিতি’-ও রয়েছে। লাগাতার প্রচার চালিয়ে এখন কয়লা তোলা বন্ধ করা গিয়েছে। তবে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়েই গিয়েছে আগে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেল জানিয়েছে, তিনধারিয়ায় রেলের ওয়ার্কশপ এলাকায় এর আগে বড় ধস নেমেছে। ১৭ মাইলে মাটি বসে গিয়েছে। কয়েক বছর পর পর রেল লাইন তুলে ঠিক করতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, জোশীমঠের সঙ্গে দার্জিলিংয়ের এই এলাকার অনেক মিলই রয়েছে। জোশীমঠের গোটা শহরটার অবস্থান একটি প্রাকৃতিক চ্যুতি রেখার উপর, গোটা উপত্যকাই বসে যাচ্ছে সেখানে। আর দার্জিলিং সার্বিকভাবে তলিয়ে যাচ্ছে না। মাটি দুর্বল, মাটির উপর চাপ বাড়ছে আর তা বসে যাচ্ছে। ফলে এই এলাকায় ধস আরও বাড়বে। শুধু তিনধারিয়া নয়, পূর্ব হিমালয়ের সর্বত্রই সবচেয়ে বেশি ধস নামে এবং এখানে মাটি বসে যাওয়ার প্রবণতাও অনেকটাই বেশি। ধস এবং মাটি বসে যাওয়ার নিয়ে রাজ্যসরকারকে জানানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে। জোশীমঠের কথা মাথায় রেখেই পাহাড়ের রানিকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।