দিল্লি দূষণ: প্রতিবাদ করতে গিয়ে কণ্ঠরোধ?

Delhi’s Air Pollution: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, দিল্লির বাতাস আবারও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। সরকারী পরিসংখ্যান এটিকে 'খুব খারাপ' হিসাবে বর্ণনা করলেও কিন্তু আমরা সকলেই অস্বীকারের ভাষাটাও চিনি।

suman sengupta
৪ মিনিট
দিল্লি দূষণ: প্রতিবাদ করতে গিয়ে কণ্ঠরোধ?

সকালে উঠে মোবাইল খুললেই, আজকাল গুগল আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পরিবর্তে বাতাসের দূষণের মাত্রা দেখাচ্ছে, যার পোশাকি নাম— এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স। প্রতিদিনই দেখাচ্ছে কলকাতার দূষণের মাত্রা ভয়ঙ্কর। যদিও আমাদের খুব বেশি হেলদোল আছে বলে মনে হয় না। তবুও কখনও কখনও মনে হচ্ছে দম যেন বন্ধ হয়ে আসছে, নিশ্বাস নিতে যেন কষ্ট হচ্ছে। কলকাতায় যখন এই রকম পরিস্থিতি, তখন দিল্লি থেকে খবর আসছে দিল্লির পরিবেশ আরও ভয়ানক। মানুষ রাস্তায় বেরোতে পারছে না, বাচ্চারা স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। অফিস আদালতের অবস্থাও তথৈবচ। প্রশাসন অর্থাৎ দিল্লির সরকারের তরফ থেকে জল ছেটানো হচ্ছে, যাতে দূষণকে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেখানে যেখানে দূষণ মাপার যন্ত্র আছে, সেখানে বেশি চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে দূষণের মাত্রা কিছুটা হলেও কম দেখানো যায়; যেন ওই সংখ্যা দেখলে মানুষের অস্বস্তি কিছুটা কমে যাবে।

দিল্লির এই বায়ুদূষণ কিন্তু এই বছরে প্রথম অনুভব করা যাচ্ছে এমনটা নয়। গত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে প্রত্যেক শীতেই দিল্লির মানুষ এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। যে সময়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময়ে তিনি অভিযোগ করতেন দিল্লির পার্শ্ববর্তী হরিয়ানা এবং পঞ্জাবে অতিরিক্ত খড় পোড়ানোকে দায়ী করতেন। তাঁর বক্তব্য ছিল ধান কেটে নেওয়ার পরে, যে ধান গাছের খড় থাকে, তা পোড়ানোর জন্যেই দিল্লির আকাশ বাতাস এইরকম দূষিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে পঞ্জাবে যখন আম আদমি পার্টির সরকার হয়, তখন বিজেপি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দিকেই আঙুল তোলা শুরু করে। আগে তো না হয় পঞ্জাবে এবং হরিয়ানায় বিজেপি’র সরকারের দিকে কেজরিওয়াল অভিযোগের আঙুল তুলতেন, এখন তাহলে কী বলবেন? দিল্লিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি’র অন্যতম যে দু'টো প্রতিশ্রুতি ছিল; তার অন্যতম ছিল তাঁরা দিল্লিতে বায়ু দূষণ কমাবেন এবং যমুনাকে পরিশ্রুত করবেন। যথারীতি দু'টো প্রতিশ্রুতির একটাও তারা রাখতে সক্ষম হয়নি। উল্টে যমুনাকে পরিষ্কার দেখানোর উদ্দেশ্যে তারা নদীর পাশেই একটি বড় জলাশয় কেটে, পাইপ করে সেই জলাশয়ে পরিষ্কার জল ঢেলে তাতে প্রধানমন্ত্রীকে ছট পুজোর সময়ে সেইখানে স্নান করানোর বন্দোবস্ত করেছিলেন। পরে তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে খবর হওয়ার পরে, বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়। দিল্লি শহরের এই দূষণ প্রতি বছর বাড়ছে। দিল্লি শহরের প্রতিটি শিশু বিশেষজ্ঞ ইদানিং বলছেন, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ এখন স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বেশি দিন নেই এই রোগে ভারতের রাজধানীর প্রতিটি শিশু আক্রান্ত হবে।

এই অসম্ভব অবস্থার জন্য কে দায়ী, তা কিন্তু দিল্লির নাগরিকদের জানার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তাঁরা চান একটা সুস্থ পরিবেশ, যেখানে সমস্ত শিশু একটু প্রাণভরে নিশ্বাস নিতে পারবে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, দিল্লির বাতাস আবারও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। সরকারী পরিসংখ্যান এটিকে 'খুব খারাপ' হিসাবে বর্ণনা করলেও কিন্তু আমরা সকলেই অস্বীকারের ভাষাটাও চিনি। যতই সরকারের তরফ থেকে দূষণের মাত্রা কমিয়ে দেখানো হোক, বাচ্চাদের বাবা-মা এবং নাগরিকরা তাঁদের চোখ দিয়ে কিন্তু ধোঁয়াশা দেখতে পাচ্ছেন এবং তাঁদের ফুসফুসে অনুভব করতে পারছেন; যে বাতাস ফুসফুসে নিশ্বাস হিসেবে ঢুকছে তা তো সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইতালিতে ভয়াবহ দূষণ ছড়ানো কারখানা এবার ভারতে?

India’s Silent Chemical Threat: বিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিন পিএফএএস-এর সংস্পর্শে থাকলে ক্যানসার, লিভার-কিডনির সমস্যা, প্রজনন-জনিত জটিলতা এবং ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

গত ৯ নভেম্বর দিল্লির ইন্ডিয়া গেট চত্বরে তাই বেশ কিছু মানুষ একত্রিত হয়েছিলেন। তার মধ্যে যেমন ছিলেন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা, সাংবাদিকেরা, তেমনই ছিলেন সাধারণ নাগরিকেরা যাঁরা প্রতিনিয়ত এই দূষণের শিকার হচ্ছেন। কেউ কিন্তু সংগঠিত করেনি এই জমায়েত। সবাই নিজের বাঁচার তাগিদেই জড়ো হয়েছিলেন। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বারংবার প্রশ্ন করা হয়েছে কারা এই আন্দোলনের পিছনে আছে? এক স্বাধীন গবেষক এবং ৭ বছরের এক সন্তানের মা হিসেবে নম্রতা যাদব একটি ইংরেজি দৈনিকে লিখেছেন,

তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে; তিনি বলেছেন, তিনি বাঁচার তাগিদেই এসেছেন, কারও আহ্বানে আসেননি। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে একটাই আর্তি— ইন্ডিয়া গেট শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের স্থান, সেই জায়গাকে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে কেন ঘেরা? মানুষের সুস্থ বাতাস নেওয়ার জন্য অহিংস আন্দোলন করা কি অন্যায়? তা কি আইনত অপরাধ?

একদিকে নিশ্বাস নেওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে গলা টিপে ধরা হচ্ছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা ওই জমায়েতে দাঁড়িয়ে বলেন,

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কপ ৩০-এর প্রতি আবেদন: বাসযোগ্য ভবিষ্যতের জন্য, বড় দূষণকারীদের তাড়িয়ে দিন

cop 30: যেসব কর্পোরেশন পৃথিবীর জলবায়ু সংকটের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী, তারা একইসঙ্গে জলবায়ু আলোচনার নীতি প্রভাবিত করার সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের রাজধানীতে মানুষকে এখন হাতে ওষুধ নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে, যাতে একটু নিশ্বাস নিতে পারা যায়। এই বায়ুদূষণ এখন আর কেবল একটি পরিবেশগত সংকট নয়; এটি একটি জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা। তবুও, আমাদের দূষণ প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও কোনও কথা হয়না।

ইন্ডিয়া গেটে যে যে অভিভাবকরা গিয়েছিলেন এবং যা দাবি করেছিলেন তা কিন্তু কোনো বৈপ্লবিক দাবী নয়; এই দাবী কিন্তু অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। ওই সমাবেশ থেকে একটি স্বাধীন বায়ু গুণমান এবং জনস্বাস্থ্য কমিশনের দাবি উঠে এসেছিল যাঁদের হতে হবে স্বশাসিত। বিশেষজ্ঞ-নেতৃত্বাধীন ওই সংস্থা যেন সংসদের কাছে জবাবদিহি করে, কোনো রাজনৈতিক চক্রের কাছে যদি তাঁরা এই প্রশ্ন নিয়ে যায় তাহলে তার কোনো মূল্য থাকবে না। দাবী উঠেছে এমন একটি সংস্থা যা বিশুদ্ধ বায়ুর মান নির্ধারণ এবং প্রয়োগ করবে, স্বচ্ছতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সততার সাথে মানুষের কাছে সেই তথ্য পৌঁছে দেবে। ওই স্বশাসিত সংস্থা যেন সব সময়ে এই বায়ু দূষণের তথ্য রাখে এবং তা নাগরিক এবং গবেষক উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়; কারণ যদি ওই তথ্য অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন এর সঙ্গে সেই জবাবদিহি করার মানসিকতাও অদৃশ্য হয়ে যায়।

যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ছবির শেষ দৃশ্যের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। যদিও প্রসঙ্গ হয়ত আলাদা, কিন্তু একজন মানুষের বাঁচার আর্জি সেদিন একরকম ছিল আজও আছে আরেকরকম, কিন্তু বিষয়টা একই আছে।

“দাদা, আমি কিন্তু বাঁচতে চেয়েছিলাম!

দাদা, আমি যে সত্যি সত্যিই বাঁচতে চেয়েছিলাম!”

একজন মানুষ তো বাঁচতে ভালোবাসেন, তার চেয়ে বড় ভালবাসা তো কিছু হতে পারে না। জীবন তো সবচেয়ে বড় চাওয়া। সেই বাঁচার আর্তি নিয়ে বা দাবী নিয়ে কোনো মানুষ যদি পথে নামেন তার পরিণতি কী হতে পারে, তা সেদিন দিল্লির মানুষ দেখেছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে, শান্তিপূর্ণভাবে আসা ওই নাগরিকদের আটক করা হয় এবং পুলিশের আগ্রাসনের মুখোমুখি হতে হয়, যা কখনোই কাম্য নয়। এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের উপর নয়; বরং রাষ্ট্রের উপর আস্থা নষ্ট করে। এতে শেষ বিচারে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হয় বেশি, তা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, গণতন্ত্রের জন্যেও।

লিখেছেন
suman sengupta
suman sengupta
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।