চিনের গোলামিই নেপালে কেপি ওলির পতন ডেকে আনল?

Pro-China KP Oli: নেপালের জনগণের একাংশ এটা দেশকে স্বাধীনভাবে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলেও, অনেকেই মনে করেন ওলির নীতিতে নেপাল অতিরিক্তভাবে চিনের প্রভাবের অধীনে চলে যাচ্ছে।

Sangita Ghorai
২ মিনিট
চিনের গোলামিই নেপালে কেপি ওলির পতন ডেকে আনল?

ছাত্রদের আন্দোলনের চাপে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ছাত্রদের বিক্ষোভের শুরু, কিন্তু তার অনেক আগে থেকেই নিজের পতনের বীজ পুঁতেছিলেন কেপি ওলি। দুর্নীতির অভিযোগ তো ছিলই, তারই সঙ্গে অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং তাঁর অতিরিক্ত চিন প্রীতিই তাঁকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কেপি ওলি বারবার চিনের প্রতি প্রকাশ্যে তাঁর সমর্থন জানিয়েছেন। এবং ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে।

ভারতকে পাশ কাটিয়ে নেপালকে চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এ যুক্ত করেছিলেন। ভারতের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে চিনের সঙ্গে ট্রানজিট ট্রেড চুক্তি করেছিলেন ওলি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, এই পদক্ষেপের কারণেই নেপালের উপর চিনের প্রভাব বেড়ে যায়।

ওলির শাসনকালে সবথেকে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যায় ভারত-নেপাল সম্পর্ক। সীমান্ত নিয়ে বড় দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ২০১৫ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী পদে বসে নেপাল সীমান্ত নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন ওলি। এছাড়া ২০২০ সালে ভারত যখন লিপুলেখে রাস্তা খোলে, তখন সংসদে নতুন মানচিত্র পাশ করার ওলি। যেখানে কালাপানি, লিপুলেখ আর লিম্পিয়াধুরা নেপালের অংশ বলে দাবি করা হয়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যেই অস্থিরতা বাড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নেপালের গণ অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের ছায়া কতটুকু?

Nepal Gen Z protest: কোভিডের মতো ঘাতক মহামারীকে গা-ছাড়া ভাবে নিয়েছিলেন ওলি। ফলে শিক্ষিত যুক্তিবাদী ছেলেমেয়েরা তাঁকে নিয়ে কখনই খুশি ছিল না। সেই দলে যোগ দিয়েছে সুযোগসন্ধানী দক্ষিণপন্থীরা।

শুধু তাই নয়, গত বছরই কেপি ওলি বলেন— “নেপালের ভূখণ্ডে কোনও ধরনের চীনবিরোধী কার্যকলাপ চালাতে দেওয়া হবে না”। ২০২৪-এর অক্টোবরে বালুয়াটার সরকারি বাসভবনে চিনের এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে ওলি এই মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওলির এই ঘোষণা মূলত চিনকে আশ্বস্ত করা ও চিনা বিনিয়োগ-সহযোগিতা বজায় রাখার কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত। তবে এটি একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাঁধা ও তিব্বতীয় কণ্ঠস্বর বা চিন-বিরোধী মানবাধিকার কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা।

বহু সময় একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়েছেন ওলি। একসময় তিনি বলেন, আসল অযোধ্যা নাকি নেপালেই! আর সেখানেই জন্মেছিলেন ভগবান রাম। এই মন্তব্য ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে। অনেকে এটাকে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা বলে মনে করেছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ছাত্র বিক্ষোভ থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ! যা যা ঘটল নেপালে

Nepal’s Prime Minister KP Sharma Oli: সরকার ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরেও জেন জি-র ছেলেমেয়েরা ৮ সেপ্টেম্বর সকালে টিকটক ও রেডিটের মতো বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একসঙ্গে হয়ে আন্দোলনে নামেন।

কোভিডের সময়ও বিতর্কিত মন্তব্য করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা বাড়িয়েছিলেন ওলি। তিনি বলেন, “ভারত থেকে আসা ভাইরাস নেপালে আরও প্রাণঘাতী।’ ভারতের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও কটাক্ষ করেছিলেন।”

তারই সঙ্গে প্রকাশ্যে চিনকে নিয়ে প্রশংসা করে গেছেন ওলি। তিনি বলেছিলেন, “চিন নেপালের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু।” এমনকি, নেপালের কমিউনিস্ট দলগুলির একীভূত হওয়ার পিছনেও চিনের ভূমিকা ছিল। আর সেই ভূমিকা তিনি অস্বীকার করেননি।

এ’সব কারণেই কেপি শর্মা ওলিকে বলা হয় ‘চরম চিনপন্থী’। তাঁর নীতি ও মন্তব্য একদিকে চিনের সঙ্গে নেপালের সম্পর্ক মজবুত করেছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছে। নেপালের জনগণের একাংশ এটা দেশকে স্বাধীনভাবে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখলেও, অনেকেই মনে করেন ওলির নীতিতে নেপাল অতিরিক্তভাবে চিনের প্রভাবের অধীনে চলে যাচ্ছে।

২০১৬ সালে পোখরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে নেপাল চিনের সঙ্গে ২০ বছরের চুক্তি সই করে। এই প্রকল্পের জন্য চিন এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে মোট ২২০ বিলিয়ন টাকা (প্রায় ২১৫.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ নেওয়া হয়। নেপালের উপর প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ রয়েছে, যার মধ্যে চিনের অংশ কম হলেও, ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। কেপি ওলির পতনের পিছনে অর্থনৈতিক অচলাবস্থাও অন্যতম প্রধান কারণ।

লিখেছেন
Sangita Ghorai
Sangita Ghorai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।