দলের অন্দরেই অসন্তোষ! ইরান আক্রমণ করে আইন ভেঙেছেন ট্রাম্প ?

Iran-Israel conflict : কোনো পক্ষের মতামত না নিয়ে একতরফা ভাবে ইরানের তিন পরমাণুঘাঁটিতে হামলার নির্দেশ দিয়ে ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের একাংশ।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
দলের অন্দরেই অসন্তোষ! ইরান আক্রমণ করে আইন ভেঙেছেন ট্রাম্প ?

সম্প্রতি ইরানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদিও হোয়াইট হাউস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা দু’সপ্তাহের মধ্যে জানা যাবে। কিন্তু সেই ঘোষণার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালায় আমেরিকা। হামলার দিন (২২ জুন) থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছিল। রিপাবলিকানের অনেকেই ইরান হামলার বিরোধিতা করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, ইরানে হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কতটা বৈধ? ইরান আক্রমণ করে কি আইন ভেঙেছেন ট্রাম্প?

কোনো পক্ষের মতামত না নিয়ে একতরফা ভাবে ইরানের তিন পরমাণুঘাঁটিতে হামলার নির্দেশ দিয়ে ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের একাংশ। ইরানে মার্কিন সেনার হামলা নিয়ে সে দেশের আইনসভা কংগ্রেসেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসের রিপাবলিকান সদস্য টমাস ম্যাসি এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘‘এই হামলা আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী বৈধ নয়।’’ তাঁর দাবি, মার্কিন আইন অনুযায়ী, হামলার সম্মুখীন না হয়েও যদি কোনো দেশে আক্রমন চালাতে হয় সে ক্ষেত্রে সেই দেশের কংগ্রেসের মতামত অপরিহার্য। কিন্তু ইরানের ফোরডো, নাতাঞ্জ, ইসফাহান পরমাণুকেন্দ্রে পেন্টাগনে আক্রমণের পূর্বে মার্কিন আইনসভাকে কিছুই জানানো হয়নি। রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান ওয়ারেন ডেভিডসন মঙ্গলবার (২৩ জুন) সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘এটি সাংবিধানিক ভাবে বৈধ, এমন কোনও যুক্তি কল্পনা করাই কঠিন।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন দু’সপ্তাহের কথা বলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা ট্রাম্পের?

Iran-Israelconflict: হামলায় ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিগুলি কতটা ধ্বংস হয়েছে তা জানতে সময় লাগবে। যদি এই অভিযানে সফল না হয় তবে ট্রাম্পের চাপ বাড়বে।

তবে ট্রাম্পের এই অসময়ে রিপাবলিকান নেতা তথা হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসের স্পিকার মাইক জনসন তাঁর পাশে রয়েছেন। ২৩ জুন তিনি বলেন, ‘‘অতীতেও আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের অনেকে জরুরি পরিস্থিতিতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’’

অন্যদিকে আবার শুধু রিপাবলিকান নেতারাই নন, দলের সমর্থকরাও ইরানে হামলার বিরোধিতা জানাচ্ছেন। হামলায় ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিগুলি কতটা ধ্বংস হয়েছে তা জানতে সময় লাগবে। যদি এই অভিযানে সফল না হয় তবে ট্রাম্পের চাপ আরও বাড়বে। এ হামলায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়াবে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ইরানে হামলা প্রসঙ্গে রিপাবলিকান সমর্থকদের কাছ থেকে বেশ কিছু মতামত সংগ্রহ করেছে। কিছুজন ট্রাম্পকে সমর্থন করলেও বিরোধী মতও উঠে এসেছে। সমর্থকদের যুক্তি, ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার অন্যতম কারণ হলো, আমার মনে করতাম ট্রাম্প উপসাগরীর অঞ্চলের সঙ্কটের পরিস্থিতি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখবেন। যুক্তরাষ্ট্রকে এর সাথে জড়াবেন না। কিন্তু উনি তাই করে ফেললেন। সমর্থকদের দাবি, , জিমি কার্টার পারেননি, ট্রাম্প পারলেন। উনি ইরানকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হলে বিপদ অনিবার্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে কী রয়েছে?

Iran-Israelconflict : প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করেছিল। সেখানে দেখা গিয়েছে, ৫ জুন ঘাঁটিতে হারকিউলিস সি-১৩০ কার্গো বিমান, গোয়েন্দা বিমান-সহ প্রায় ৪০টি সামরিক বিমান ছিল। তবে ১৯ জুনের ছবিতে দেখা গিয়েছে সেখানে মাত্র তিনটি বিমান।

ট্রাম্পের সমালোচকরা এই মুহূর্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের কথা বলছেন, যার নাম 'ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন'। ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় এই আইনটি আনা হয়। আইনটির উদ্দেশ্য ছিল- কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়ে প্রেসিডেন্ট যেন সহজে সংঘর্ষে জড়িয়ে না পড়েন, এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা। আইনটিতে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারলেও, যুদ্ধ বা সংঘর্ষে জড়ানোর আগে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের থেকে যতটা সম্ভব পরামর্শ নিতে হবে।

১৯৪২ সালে শেষবার কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তখন জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করে। এর আগে ১৮১২ সাল থেকে ১৯৪২ সালের মধ্যে প্রায় ১০ বার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মতোই এখন ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ক্ষেত্রেও তাড়াহুড়ো করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-ইজরায়েল ‘সংঘর্ষবিরতি’ ঘোষণার নেপথ্যে আসলে তাঁর দলের অন্দরেই তাঁকে নিয়ে বিরোধিতা। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে কোনো নতুন যুদ্ধ শুরু করেননি। নির্বাচনী প্রচারেও বারবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের নেতাদের বৈদেশিক সংঘাতে জড়ানোর নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির দূত’ বলে দাবি করেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি যদি আবার হামলা চালান তবে এবার দলের ভেতরেই তাঁকে সর্বাত্মক বিদ্রোহের মুখে পড়তে হতো। ট্রাম্পের হামলার পর ইরানের কাতার হামলায় আরও উদ্বেগ বাড়ছিল। এই সকল পরিস্থিতি কথা মাথায় রেখেই হয়তো সোমবার (২৩ জুন) রাতে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। তিনি নিজেই আবার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন। তেহরান-তেল আভিভ, দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করছেন।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।