লোকসভা থেকে হোয়াটসঅ্যাপ- ঘৃণার বারুদ ঘরে ঘরে, বাংলা যা ভাবছে...

Hate speech on floor on Bangla Ja Vabchhe: সুপ্রিম আদালত বলছে, ঘৃণাভাষণ মোকাবিলায় সরকারের নিজ উদ্যোগে পদক্ষেপ করা উচিত। কোনও মামলা দায়ের না হলেও সুয়োমোটো পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
লোকসভা থেকে হোয়াটসঅ্যাপ-  ঘৃণার বারুদ ঘরে ঘরে, বাংলা যা ভাবছে...

রাজধানী দিল্লিতে একটি বিশেষ শব্দের বিপুল চল আছে। শব্দটি অবশ্যই একটি খিস্তি, ভড়ওয়া। ভড়ওয়া অর্থাৎ ইংরেজিতে যাকে বলে পিম্প। বাংলা করলে অর্থ দাঁড়ায় যৌনকর্মীর দালাল। কিন্তু দিল্লিতে যে এই শব্দের 'চল' যে আছে তার প্রমাণ কী? এই ভড়ওয়া শব্দের সঙ্গে ভারতের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন দুইজন মানুষ, দুইজনই রাজনৈতিক নেতা। একজন হলেন বিজেপি নেতা, দক্ষিণ দিল্লির সাংসদ রমেশ বিধুরি। শ্রীবিধুরির আক্রমণের লক্ষ্য কার দিকে? তিনিও এক সাংসদ। বহুজন সমাজবাদী পার্টির। উত্তর প্রদেশের আমরোহা থেকে তিনি নির্বাচিত। নাম কুঁওর দানিশ আলি।

ইসলামোফোবিয়ার যে ঘৃণাপ্রচার আমরা হোয়াটাসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি, হালের এক্স একদা টুইটার ট্রোলবাহিনী বা টিভি স্টুডিওর প্রাইমটাইম চিৎকারে দেখতে পাই, রমেশ বিধুরির উচ্চারণ তা পৌঁছে দিল ভারতীয় গণতন্ত্রের পীঠস্থানে। নতুন সংসদ ভবনে। ভড়ওয়া, কাটুয়া (সুন্নত করা হয়েছে এমন ব্যক্তি), মুল্লা শব্দেরা হয়ে উঠল গণতন্ত্রের জরুরি আলোচনার বিষয়। সংসদ না কি বাজার? নাকি কোঠাবাড়ি? নাকি কোট আন কোট গোদি মিডিয়ার প্রাইম টাইম শো! 'ইস মুল্লা কো ম্যায় বহার দেখ লুঙ্গা'! দালাল, মুসলিম সন্ত্রাসবাদী বলেই ক্ষান্ত থাকেননি। সংসদ ভবনের বাইরে দেখে নেবেন বলে পাড়ার মস্তানের মতো হুমকিও দেন সাংসদ শ্রীবিধুরি।

এই অপমানে দানিশ আলি তাঁর আবেগ চেপে রাখতে পারেননি। কতটা অপমানিত বোধ করেছেন বোঝাই যায়। বোঝা যায় মানুষটির আত্মায় ঘা লেগেছে। অবশ্য এ নতুন কিছু না। বিধুরি তো তাঁর দলের 'মন কি বাত' থুড়ি মনের কথা বলেছেন। যারা মনে করে থাকেন, এ দেশের প্রথম নাগরিক হিন্দুরা। সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিমরা দ্বিতীয় শ্রেণির। তবে সংসদীয় ইতিহাসে এ ঘটনা বেনজির।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ কী? বাংলা যা ভাবছে...

Bangla Ja Bhabche : জোট আদৌ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন অবধি টিকবে তো? কী ভাবছে বাংলা?

রমেশ বিধুরি যখন এসব বলছেন, ঠিক পিছনেই আছেন বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ। রমেশ বিধুরি যখন তাঁর সুভাষিত উচ্চারণ করেন, তখন কি আপত্তি জানান হর্ষবর্ধন বা রবিশঙ্কর প্রসাদ?

না জানাননি। যেমন রমেশ বিধুরিকে সতর্ক করেননি স্পিকারের আসনে থাকা কোডিকুন্নিল সুরেশ। পরে অবশ্য টুইটারে নিজের নাম ট্রেন্ড হতে দেখে সাফাই দেন হর্ষবর্ধন। চাঁদনি চকের গলিতে তিনি কীভাবে মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে খেলতে বড় হয়েছেন তা মনে করিয়ে দেন। কিন্তু ছবি মিথ্যে বলে না। আহত, অপমানিত কুঁওর দানিশ আলি চিঠি লিখেছেন স্পিকার ওম বিড়লাকে। বিজেপি নোটিস পাঠিয়ে পনেরো দিনের মধ্যে উত্তর দিতে বলেছে শ্রীবিদুরিকে।

২০১৪ সাল। ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইসলামোফোবিয়ার প্যাটার্ন একেবারে বদলে গিয়েছে। একের পর এক কত নাম। আখলক। পহেলু খান। জুনেইদ। কত জায়গা, হাথরস। কাঠুয়া। উন্নাও। স্বঘোষিত গোরক্ষকবাহিনীর স্বঘোষিত আইন। বিলকিস বানোর ধর্ষকদের গলায় মালা। এ সব দেখতেই দেশ যেন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। উল্টো উদাহরণও আছে। আছে মিমের মতো রাজনৈতিক দল। লাগাতার ঘৃণাভাষণ আর ধর্মীয় উস্কানির বিষ আজ ঘিনঘিনে নর্দমার ঢুকে পড়েছে, এমনকী গণতন্ত্রের পীঠস্থানেও। স্বাধীন ভারতে এ ঘটনা নজিরবিহীন। ভয়ঙ্কর বিপদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রশ্ন করার সংস্কৃতি সাংবাদিকতা থেকে যে ভাবে হারাল...

Journalism in India: 'বাংলা যা ভাবছে' অনুষ্ঠানে 'গোদি মিডিয়ার কীর্তিফাঁস' সূচক আলোচনায় বক্তব্য রেখেছিলেন সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা, সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য, বাংলা পক্ষের প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায় এবং সাংবাদিক প্রতীক। প্রতীকের বক্তব্যের লিখিত সংরূপ তুলে ধরা হল ইনস্ক্রিপ্টের পাতায়।

এখন প্রশ্ন, বিজেপি সাংসদ রমেশ বিদুরির বিরুদ্ধে স্পিকার ওম বিড়লা কী ব্যবস্থা নেবেন? শাস্তি দেবেন? মনে রাখা দরকার সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন বসে নতুন ভবনে। যেখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন সংস্কৃতি শুরুর কথা বলেন। যেখানে নতুন আশা থাকবে। নতুন সম্ভাবনা থাকবে। ঘৃণাভাষণ থাকবে না।

এবার দেখা যাক, ভারতীয় সংবিধানের ১০৫ এবং ১৯৪ ধারায় কী কী বলা আছে? এই দুই ধারা সাংসদ এবং বিধায়কদের এই মর্যাদা দিয়েছে যে, তাঁরা সংসদে বা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পছন্দমত, প্রয়োজন যে কোনও বক্তব্য রাখতে পারবেন। সংসদভবন দাঁড়িয়ে কোনও বক্তব্যের জন্য কোনও সাংসদকে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না। একজন সাংসদ সহযোগী সাংসদের প্রতি যখন ঘৃণাভাষণ করছেন, তখন তিনি কি সাংসদ হওয়ার বিশেষ অধিকার বলে তিনি সংবিধানের রক্ষাকবচ পেতে পারেন? প্রশ্ন উঠছেই।

সুপ্রিম আদালত বলছে, ঘৃণাভাষণ মোকাবিলায় সরকারের নিজ উদ্যোগে পদক্ষেপ করা উচিত। কোনও মামলা দায়ের না হলেও সুয়োমোটো পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দেশের ধর্ম নিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষা করা জরুরি বলেও মনে করিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের কথা কি মেনে চলবে হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়গুচ্ছ? মেনে চলবেন এইসব সাংসদ, বিধায়করা? মেনে চলবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা? নাকি হেটস্পিচই হবে দেশের স্বাভাবিক বচন, সহিষ্ণুতার দেশে ঘৃণাই হবে একমাত্র বয়ান! বাংলা কী ভাবছে? দেখুন আজ সন্ধ্যায়। সাংবাদিক, বিশ্লেষকরা কী বলছেন?

আজকের পর্ব, লোকসভা থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ঘৃণার বারুদ ঘরে ঘরে। প্রতি সোম, বুধ, শুক্র সন্ধে ৭ টা থেকে - কলকাতা ২৪*৭ এর ইউটিউব চ্যানেল এবং inscript.me এর ফেসবুক পেজে চোখ রাখুন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।