উত্তরবঙ্গ জুড়ে বীভৎস বন্যা, দায় এড়াতে মোদী-মমতার দড়ি টানাটানি

Modi-Mamata Debate: উত্তরবঙ্গে ত্রাণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। এই নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে খণ্ডযুদ্ধ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে। সোমবারের ঘটনার নিন্দা করে এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন নরেন্দ্র মোদী।

inscript
৩ মিনিট
উত্তরবঙ্গ জুড়ে বীভৎস বন্যা, দায় এড়াতে মোদী-মমতার দড়ি টানাটানি

শনিবার রাতের বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছে উত্তরবঙ্গ। সোমবার রাত পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ। পাহাড় জুড়ে স্বজনহারা মানুষের হাহাকার। দার্জিলিং, মিরিকে ধস নেমেছে। ভেঙে গিয়েছে দুধিয়া ব্রিজের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেতু। উত্তরবঙ্গে পাহাড় থেকে সমতল— সর্বত্র ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এক রাতের বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠে তিস্তা, তোর্সা, বালাসন, রায়ডাক, জলঢাকা নদী। বন্ধ হয়ে যায় জাতীয় সড়ক ১০। জলের তোড়ে ভেসে যায় বহু ঘর-বাড়ি। জলদাপাড়া অভয়ারণ্য থেকে ভেসে আসে গণ্ডার। এক রাতের বৃষ্টিতেই অবরুদ্ধ হয়ে যায় উত্তরের জনজীবন, আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে বন্যপ্রাণ।

পুজোর আগেই সতর্ক করেছিল আবহাওয়া দফতর। কিন্তু প্রশাসন কেন সেই মতো প্রস্তুতি নেয়নি? প্রশ্ন উঠছে। বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। রাজ্য-কেন্দ্র এক অপরকে দোষারোপ করা তো চলছেই, আবার রাজ্য ও কেন্দ্রকে একই আসনে বসিয়ে কেউই দায় অস্বীকার করতে পারে না বলে তোপ দাগছে কংগ্রেস-সিপিএম। তারই সঙ্গে সমালোচিত হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন রবিবারই উত্তরবঙ্গে না গিয়ে কলকাতায় কার্নিভালে মেতে রইলেন মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন তুলছেন রাজ্যবাসীর একাংশ।

সব হারিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে উওরবঙ্গবাসী। সোমবার জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা এলাকায় ত্রাণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ও সাংসদ খগেন মুর্মু। উত্তেজিত জনতার রোষের মুখে পড়ে রক্তাক্ত হয়েছেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, ‘দিদির সৈনিক’ বলে কয়েকজন তাঁদের আক্রমণ করেন। নদী থেকে পাথর তুলে গাড়িতে ছুঁড়ে মারে। গাড়ির সিটের তলায় শুয়ে না পড়লে তাঁকেও রক্তাক্ত হতে হতো বলে দাবি শঙ্কর ঘোষের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৯৬৮ থেকে ২০২৫: যেভাবে বারবার বন্যায় লণ্ডভণ্ড উত্তরবঙ্গ

North Bengal Flood History: শনিবারের বিপর্যয় মনে করাচ্ছে ১৯৬৮ সালের ভয়াবহ রাতের কথা। ৪ অক্টোবর রাতের একটানা বৃষ্টি বন্যা ডেকে আনে উত্তরবঙ্গে। সেবারের বন্যায় ২১৬ জন (সরকারি হিসাবে)-এর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর এক্স হ্যান্ডেলে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে। সোমবারের ঘটনার নিন্দা করে এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে যেভাবে আমাদের দলের সাংসদ-বিধায়করা আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিন্দনীয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের সংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুন রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন।”

যেভাবে আমাদের দলের সহকর্মীরা—যাদের মধ্যে একজন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কও রয়েছেন—পশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুণ রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন।

আমার…

— Narendra Modi (@narendramodi)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বন্যার মাঝে কার্নিভালে মুখ্যমন্ত্রী! অমানবিক রাজনীতির কৈফিয়ত কী?

Darjeeling-Dooars Floods: রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং মুখ্যমন্ত্রী ৬ অক্টোবর উত্তরবঙ্গ যাবেন সেই ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু এই সমস্ত কথা কি উঠবে? তখন কি কোনো একজন সাংবাদিকের সাহস হবে এই প্রশ্নগুলো করার?

তিনি আরও লিখেছেন, “আমার একান্ত কামনা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস এই কঠিন পরিস্থিতিতে এই কঠিন পরিস্থিতিতে হিংসায় লিপ্ত না হয়ে মানুষের সাহায্যে আরও মনোযোগী হোক। আমি বিজেপি কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাই, তারা যেন জনগণের পাশে থেকে চলতি উদ্ধার কাজে সহায়তা করে যান।”

এরপরই এক্স হ্যান্ডেলে পাল্টা লেখেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক, প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে সামনে রেখে রাজনীতিকরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী প্রমাণিত তথ্য, তদন্ত বা প্রশাসনিক রিপোর্ট ছাড়া সরাসরি তৃণমূল ও রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করেছেন। এটা শুধু রাজনৈতিক শালীনতার নয়, বরং সাংবিধানিক নীতিরও লঙ্ঘন।”

এটা খুবই দুর্ভাগ্যের এবং গভীর উদ্বেগের বিষয় যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোনো উপযুক্ত অনুসন্ধানের জন্য অপেক্ষা না করেই – তা-ও আবার যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ ভয়াবহ বন্যা ও ধসের সঙ্গে যুঝছেন।

যখন সমগ্র স্থানীয় প্রশাসন ও…

— Mamata Banerjee (@MamataOfficial)

সোমবারই উত্তরবঙ্গে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মৃতদের পরিবার পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। এরই সঙ্গে এটিকে ‘ম্যান মেড’ বন্যা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সিকিম ও ভুটানের জলে ভেসেছে উত্তরবঙ্গ। এরই সঙ্গে কেন্দ্রের দিকেও আঙুল তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, ডিভিসির জলে ভাসে দক্ষিণবঙ্গ। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড— কত রাজ্যের জল সামলাবে বাংলা?

পশ্চিমবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রের বঞ্চনার কথাও তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “বন্যা ব্যবস্থাপনার জন্য কেন্দ্র কোনও অর্থ দেয় না। গঙ্গা পরিষ্কারের জন্য ‘গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান’-ও বন্ধ করে দিয়েছে। এটা বাংলার প্রতি বৈষম্য এবং বঞ্চনা।”

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।