ইরানে ইজরায়েলি হামলা! নিন্দা থেকে কেন সরে দাঁড়াল ভারত?

Shanghai Cooperation Organisation: ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)। এ সংস্থার সদস্য হলেও ইসরায়েলকে নিন্দা জানানোর আলোচনা থেকে ভারত নিজেদের দূরে রেখেছে।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
ইরানে ইজরায়েলি হামলা! নিন্দা থেকে কেন সরে দাঁড়াল ভারত?

ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)। এ সংস্থার সদস্য হলেও ইসরায়েলকে নিন্দা জানানোর আলোচনা থেকে ভারত নিজেদের দূরে রেখেছে। নিন্দা জানানোর সিদ্ধান্তেও সমর্থন দেয়নি বলে জানানো হয়েছে। ভারত কেন আলোচনায় অংশ নিতে বা ইজরায়েলের আক্রমণের বিষয়ে এসসিওর অবস্থানকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানাল? ভারত কি ইজরায়েলকে সমর্থন করছে?

ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে বিশ্ব নেতারা বারবার মধ্যস্থতা করার কথা বলছেন। ১৩ জুন ভোররাতে ইজরায়েল এক নজিরবিহীন সামরিক অভিযানে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলিতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। শুধু পারমাণবিক স্থাপনাই নয়, বরং ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারি, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, অস্ত্রাগার, পরীক্ষাগার এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বাসভবনও টার্গেট ছিল। ইজরায়েলের হামলার ফলে ইরানের তেল শোধনাগার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেলের মজুদে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তেহরান পাল্টা জবাব দিতে ইজরায়েলি শহর তেল আবিব এবং হাইফায় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুঁড়েছে। তেহরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনাও স্থগিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল হামলার নিন্দা করেছে এসসিও।

এসসিও-র নিন্দা

এসসিও হলো ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা জোট। এসসিও-তে চিন, বেলারুশ, ভারত, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান রয়েছে। ২০২৩ সালে ইরান এসসিও-তে যোগদান করে। বর্তমানে এসসিও-র সভাপতিত্ব করছে চিন।

১৪ জুন শনিবার, এসসিও একটি বিবৃতি জারি করে এসসিও-র সদস্য রাষ্ট্রগুলি ইরান-ইজরায়েলের সংঘর্ষের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং ইরানের ভূখণ্ডে ইজরায়েল সামরিক হামলার নিন্দা জানাচ্ছে। এসসিও-র বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইজরায়েলের "বিদ্যুৎ ও পরিবহন-সহ বেসামরিক এলাকাগুলিকে টার্গেট করায়, বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণ গিয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন"। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, "এসসিও সদস্য দেশগুলি কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণ, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক উপায়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।"

ভারত দুই দেশের সাথেই সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করছে

ভারতের উভয় দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তেহরানে ইজরায়েলের হামলার পর, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে ফোনে কথা বলেন। জয়শঙ্কর সংঘর্ষের তীব্রতাকে "আন্তর্জাতিক স্তরে গভীর উদ্বেগের" বলে জানান। জয়শঙ্কর "দ্রুত মধ্যস্থতার আহ্বান" করেছেন।

ম্যাসাচুসেটস-আমহার্স্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শান্তি ডি'সুজা আল-জাজিরাকে বলেন, "অন্যান্য এসসিও-র সদস্য দেশগুলির থেকে ভারত ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। কারণ, ইজরায়েলের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং ইরানের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।"

ভারত ইজরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র ক্রেতা। ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধের সময়, ভারতের অস্ত্র সংস্থাগুলি ইজরায়েলের কাছে রকেট এবং বিস্ফোরক বিক্রি করেছিল। আল-জাজিরার একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, একই সময়ে, ভারত মধ্য এশিয়া এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য করার জন্য ইরানের চাবাহার বন্দরে প্রবেশদ্বার বানিয়েছে। এটি তৈরি করতে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে কেন্দ্র।

ইরানে ইজরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে এসসিও যে বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে, নয়াদিল্লির কথায় তারা এই বিবৃতি নিয়ে কোনো রকম আলোচনায় অংশ নেয়নি।

ভারত কি ইজরায়েলকে সমর্থন করছে?

ভারত ইজরায়েল-ইরান সংঘর্ষে এসসিও-র অবস্থানে একমত না হয়ে, এসসিও-র নিন্দার বিবৃতিকে খানিক দুর্বল করেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসসিও-র বিবৃতি প্রকাশের আগের দিন, ভারত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গাজায় "নিঃশর্ত এবং স্থায়ী" যুদ্ধবিরতির দাবির খসড়া প্রস্তাবেও ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।

নয়াদিল্লি-ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর কবির তানেজার আল-জাজিরা কে বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত হয়তো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ভারতের ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করার সম্ভবনা রয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতীয় পণ্যের উপর ২৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি কার্যকর হওয়ার আগে এই চুক্তি স্বাক্ষর করার চেষ্টা করছে ভারত। তানেজা বলেন, যদিও চিন এবং রাশিয়া ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সেই মতো ভারতের আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে "এসসিওর বিবৃতি মেনে নেওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভব ছিল না"। তিনি আরও বলেন, ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী এবং প্রতিপক্ষ দুজনের সঙ্গেই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারদর্শী- তা সে আমেরিকা এবং রাশিয়া, ইজরায়েল এবং ফিলিস্তিন অথবা সৌদি আরব এবং ইরান যেই হোক না কেন।

উল্লেখ্য, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে ভবিষ্যতে ভারতের অবস্থান বদলায় কিনা সেটাই এখন দেখার।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।