রাজধানীর থেকেও উন্নত নতুন বন্দে ভারত ট্রেন, জেনে নিন কী কী পরিষেবা পাওয়া যাবে

Vande Bharat Express: বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের প্রতিটি কামরা হতে চলেছে অত্যন্ত উন্নতমানের ধাতু দিয়ে তৈরি।

Sourish Das
৭ মিনিট
রাজধানীর থেকেও উন্নত নতুন বন্দে ভারত ট্রেন, জেনে নিন কী কী পরিষেবা পাওয়া যাবে

বিগত কয়েক বছর যাবৎ ভারতীয়দের মধ্যে বিমানযাত্রার প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও, এখনও সিংহভাগ ভারতীয়র কাছেই সুবিধাজনক ভারত সরকারের রেল পরিষেবা। নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার পর থেকেই ভারতীয় রেলযাত্রার মানোন্নয়নের দিকে নজর দিতে শুরু করেছিলেন। একটা সময় পর্যন্ত যে সমস্ত ভারতীয় ট্রেনে যেতে নাক সিঁটকোতেন, তাঁরাও কিন্তু আজ ট্রেন সফর করছেন। তবে এর কৃতিত্ব অবশ্য দিতে হয়, শতাব্দী, রাজধানীর মতো কিছু উন্নতমানের ট্রেনকে। এই তালিকায় এবার যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের নাম। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ভারতীয় রেলের মানোন্নয়ন করে রেল সফরের একেবারে ভোল বদলে দিতে ভারত সরকার নিয়ে আসছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। ভারত সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, এই বিশেষ ট্রেন গুণমানে এবং গতিতে নাকি রাজধানী কিংবা শতাব্দীকেও দশ গোল দিতে পারে। এই বছরের বাজেট বক্তৃতায়, ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করেছেন, আগামী ৩ বছরের মধ্যে ভারত সরকার ৪০০টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করতে চলেছে। ইতিমধ্যেই, ২০০টি স্লিপার বন্দে ভারতের টেন্ডার ডেকে ফেলেছে ভারত সরকার। সঙ্গে থাকবে ১০০টি চেয়ার কার অপশনও।

ভারতীয় রেলের সবথেকে উন্নত ট্রেন রাজধানী এক্সপ্রেসের থেকেও উন্নত হতে চলেছে এই ট্রেনের প্রযুক্তিগত এবং গুণগত দিক। ভারতীয় রেলের অধিকর্তারা বলছেন, এই মুহূর্তে যাত্রীদের সুবিধার দিক থেকে দেখতে গেলে, ভারতের সবথেকে উন্নত ট্রেন হতে চলেছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। আরামদায়ক এবং সম্পূর্ণরূপে প্রযুক্তিগতভাবে স্বয়ংক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি, এই নতুন ট্রেনে নান্দনিকতাকেও সমান প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

৩৫ বছরের জন্য এই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সবক'টি ট্রেন সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় থাকতে পারবে। এই এক্সপ্রেসের প্রত্যেকটি ট্রেন সম্পূর্ণরূপে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। টেন্ডারের নথিপত্র থেকে জানা যাচ্ছে, এই সমস্ত স্লিপার ট্রেন তৈরি হবে স্টেনলেস স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়ামের মতো কোনও একটি ধাতু দিয়ে। এতদিন পর্যন্ত ভারতের ট্রেন তৈরি হতো লোহা দিয়ে। তাই ভারতীয় রেলের জন্য এটা একটা বড় পরিবর্তন হতে চলেছে। এই বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের দুই দিকেই থাকবে ড্রাইভিং বগি। অর্থাৎ, যে-কোনও দিকেই কোনও লোকোমোটিভ ছাড়াই চলতে পারবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। ১৬ কামরার এই সমস্ত ট্রেনের মধ্যে ১১টি এসি থ্রি-টায়ার কোচ থাকবে। অন্যদিকে ২০ কামরার ট্রেনের মধ্যে ১৫টি হবে এসি থ্রি-টায়ার কোচ এবং ২৪ কামরার ট্রেনের মধ্যে ১৯টি হবে এসি থ্রি-টায়ার। এছাড়াও প্রত্যেকটি ট্রেনে ৪টি করে এসি টু-টায়ার কোচ থাকবে। সঙ্গেই একটি থাকবে এসি ফার্স্ট ক্লাস কোচ।

১. ইন্টেরিয়র ফার্নিশিং

বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের প্রতিটি যাত্রীকে উন্নতমানের পরিষেবা দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর ভারত সরকারের রেল মন্ত্রক। তাই, এই বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রত্যেকটি কামরা হতে চলেছে অত্যন্ত উন্নতমানের ধাতু দিয়ে তৈরি। এই সমস্ত কামরায় রং ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই, কোনওরকম গ্রাফিটি, কোনওরকম দাগ থাকবে না এই সমস্ত কামরায়। পাশাপাশি, এই সমস্ত কামরার দেওয়াল হবে এমন জিনিস দিয়ে তৈরি, যেগুলো খুব সহজে পরিষ্কার করা যায়।

২. বার্থ

বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রত্যেকটি বার্থে উন্নতমানের কুশনিং ব্যবস্থা দেওয়া হবে। এসি টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ কোচে থাকবে আলাদা আলাদা পার্টিশনের ব্যবস্থা। অন্যদিকে, এসি ফার্স্ট ক্লাস কম্পার্টমেন্টে দেওয়া হবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কিউবিকল এবং দরজা। এই সমস্ত ট্রেনে সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

৩. কোচ নিরিখে ফিচার

প্রত্যেকটি স্লিপার কোচে আলাদা আলাদা হালকা ওজনের বেড দেওয়া থাকবে। চলাচল করার জন্য থাকবে যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা। ল্যাপটপ এবং মোবাইল চার্জ করার জন্য থাকবে সকেট। প্রত্যেকটি সকেট ভালোভাবে কাজ করবে এবং প্রত্যেকটি সিটের জন্য থাকবে ইউএসবি কেবল। এছাড়াও রিডিং লাইট, ম্যাগাজিন পাউচ, বটল হোল্ডার প্রত্যেক যাত্রীর জন্য আলাদা আলাদা হবে।

প্রত্যেকটি প্যাসেঞ্জার কোচে এলইডি নাইট লাইট দেওয়া থাকবে। বিছানার চাদর এবং কম্বল রাখার জন্য আলাদা জায়গা থাকবে প্রত্যেকটি কোচে। প্রত্যেকটি প্যাসেঞ্জার কোচের জন্য এক একজন স্টাফ থাকবেন। এসি টায়ার-৩ কামরায় ৪ জন যাত্রীর জন্য একটি স্ন্যাকস টেবিল দেওয়া হবে। এসি টায়ার-২-এর ক্ষেত্রে প্রতি ৩ জন যাত্রীর জন্য থাকবে একটি স্ন্যাকস টেবিল এবং প্রতিটি ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচের জন্য প্রতিটি কেবিনে থাকবে একটি করে এলইডি ডিসপ্লে এবং প্রতি যাত্রীর জন্য থাকবে আলাদা করে স্ন্যাকস টেবিলের বন্দোবস্ত।

৪. টয়লেট

নতুন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনে জিরো ডিসচার্জ বায়ো টয়লেট ব্যবহার করা হবে। প্রত্যেকটি ড্রাইভিং কোচে দু'টি করে টয়লেট দেওয়া হবে এবং বাকি সমস্ত কোচে থাকবে ৩টি করে টয়লেট। এই ৩টির মধ্যে একটি হবে ইন্ডিয়ান স্টাইলের এবং বাকিগুলি ওয়েস্টার্ন স্টাইলের এবং তার সঙ্গেই থাকবে যথাযথ সিট কভার এবং হেলথ ফসেট। এসি ফার্স্ট ক্লাসের প্রতিটি টয়লেটে আলাদা করে শাওয়ারের জায়গা থাকবে এবং থাকবে গরম জলের ব্যবস্থা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতের প্রথম বেসরকারি ট্রেনের অন্দরে কী কী ব্যবস্থা থাকছে?

রেল বাজেটে সরকার ঘোষণা করেছিল ১৫০ টি ট্রেনকে বেসরকারি পর্যটন সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। রেলের তরফে এই ঘোষণার পরেই অনেক সংস্থার তরফ থেকেই রেলের পরিকাঠামো ব্যবহার করে পর্যটন ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় রেল মন্ত্রককে।

এছাড়াও প্রতিটি টয়লেটে অটোমেটিক ফ্লাশ সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। লিকুইড সোপ ডিসপেনসার, টয়লেট পেপার ডিসপেন্সার, ওয়াশ বেসিন, সবকিছুর ব্যবস্থা থাকবে এই সমস্ত টয়লেটে। এছাড়াও আয়না, কোট ঝোলানোর জায়গা, টয়লেট ফ্রেশনার লিকুইড অথবা ট্যাবলেট, গ্র্যাব হ্যান্ডেল-সহ একাধিক উন্নত মানের জিনিস ব্যবহার করা হবে এই ট্রেনে।

৫. সর্বাধিক গতি

এই বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের সর্বাধিক গতি হবে ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। প্রথমে এই ট্রেনের সর্বাধিক গতি ১৮০ কিলোমিটার রেকর্ড করা হলেও, পরবর্তীকালে কিছুটা কমানো হয় এই ট্রেনের গতি। সাধারণ বড় লাইনে অথবা হাই স্পিড লাইনে এই ট্রেনের গতি থাকবে সর্বাধিক। বাকি জায়গায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। লেবেল ট্র্যাকের ওপর মাত্র ১৪০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে ০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা থেকে ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি অর্জন করতে পারবে বন্দে ভারত, যা এই মুহূর্তে ভারতীয় রেলের কোনও ট্রেনের পক্ষে সম্ভব নয়।

৬. স্বয়ংক্রিয় দরজা

প্রত্যেকটি কোচে আলাদা আলাদা করে অন্তর্বর্তী দরজা এবং অটোমেটিক প্লাগ টাইপ দেওয়া থাকবে। আপনাকে এই ধরনের দরজা খুলতে খুব একটা কসরত করতে হবে না। যদি কেউ দরজা খুলে রেখে চলে যান, তাহলে নিজে থেকেই এই দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারবে।

৭. সাব-প্যান্ট্রি

বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের প্রতিটি ট্রেনে জলে জলের বোতল ঠান্ডা করার জায়গা, ডিপ ফ্রিজার, জল গরমের জায়গা, প্যাসেঞ্জার ট্রলি এবং খাবার গরম করার জায়গা দেওয়া থাকবে।

৮. সিসিটিভি ক্যামেরা

বন্দে ভারতের স্লিপার ট্রেনে প্রতিটি কামরার বাইরের করিডরে সিসিটিভি ক্যামেরার বন্দোবস্ত রাখা হবে। অন্যদিকে, উন্নতমানের কামরায় যাত্রীদের জায়গাগুলির জন্যও রাখা হবে সিসিটিভি ক্যামেরার বন্দোবস্ত।

৯. প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম

জিপিএস-নির্ভর একটি প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হবে স্বয়ংক্রিয় ঘোষণার জন্য। এই সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি যাত্রীকে হিন্দি, ইংরেজি এবং স্থানীয় ভাষায় গন্তব্যস্থল এবং নির্দিষ্ট একটি স্টেশনের নাম জানানো হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বুলেট ট্রেনের চেয়েও দ্রুত ছুটবে নতুন বন্দে ভারত, চোখ ধাঁধিয়ে দেবে এই ট্রেনের অন্দর

Vande Bharat Express: নতুন বন্দে ভারতে এক্সপ্রেস ট্রেনে আপনারা পেয়ে যাবেন এমন ১৫টি অত্যাধুনিক ফিচার, যা এখনও পর্যন্ত ভারতের কোনও ট্রেনেই উপলব্ধ নেই।

১০. আবহাওয়ার পরিস্থিতি

সাপ্লায়ারদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে ভারতীয় রেলওয়ে তাদের বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনে প্রত্যেকটি আবহাওয়ার পরিস্থিতির জন্য পৃথক পৃথক সিস্টেম তৈরি করার অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষত, ভারী বর্ষায়, বন্যা পরিস্থিতিতে, এবং প্রচণ্ড গরমে যাতে যাত্রীদের কোনওরকম সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টা খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে।

১১. ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক-নির্ভর ইনফোটেনমেন্ট সার্ভিস

বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রতিটি যাত্রীর জন্য ওয়াইফাই-নির্ভর ইনফোটেনমেন্ট সার্ভিস দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেলওয়ে।

১২. বিপদকালীন অ্যালার্ম এবং এক্সিট

এই বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রতিটি বগিতে ন্যূনতম দু'টি করে এমারজেন্সি এক্সিট দেওয়া হবে, যদি যাত্রীসংখ্যা ৪০-এর কম থাকে। আর যে কামরায় যাত্রীসংখ্যা ৪০-এর বেশি থাকবে, সেই সমস্ত কামরায় ৪টি করে এমারজেন্সি এক্সিট দেওয়া হবে। এমারজেন্সি অ্যালার্ম সিগন্যাল ব্যবহার করে লোকো পাইলট এবং প্রধান গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। এমারজেন্সি হ্যান্ডল চেপে ট্রেন থামানো যাবে এবং সঙ্গেই আপনারা রেল পুলিশের সাহায্য পেতে পারবেন। প্রত্যেকটি বগিতে এমারজেন্সি টক-ব্যাক সিস্টেম চালু করা থাকবে। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এলইডি লাইট সুইচ অন করা যাবে। যদি ট্রেন কোনওভাবে বেলাইন হয়ে যায়, তাহলেও এই বিশেষ সুইচ জ্বালিয়ে রেল পুলিশ এবং লোকো পাইলটের সাহায্য নিতে পারবেন আপনারা।

১৩. কবচ

ভারত সরকারের রেল দপ্তরের তরফ থেকে কিছুদিন আগেই এই কবচ অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন সিস্টেম লঞ্চ করা হয়েছে। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের প্রত্যেকটি ট্রেনে এই কবচ সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। এটি মূলত কাজ করবে তখন, যখন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ব্রেক ফেল করবে। সেই সময় যদি সামনে কোনও অন্য ট্রেন থাকে, তাহলে তৎক্ষণাৎ এই কবচ সিস্টেম ব্যবহার করলে ট্রেন থেমে যাবে।

১৪. রিজার্ভেশনের তথ্য

প্রত্যেক যাত্রীর রিজার্ভেশনের তথ্য তার সিটের গায়ে কোথাও না কোথাও একটা ডিসপ্লে করা থাকবে। রেলওয়ে রিজার্ভেশনের অটোমেটিক আপগ্রেডেশনের নিয়মাবলি অনুযায়ী এই রিজার্ভেশন সিস্টেম ডিসপ্লে কাজ করবে। যে যাত্রীর জন্য সিট বরাদ্দ রয়েছে, শুধুমাত্র সেই যাত্রী ওই সিটে যেতে পারবেন, অন্য কেউ না।

১৫. ভয়েস কমিউনিকেশন সিস্টেম

লোকো পাইলট এবং ট্রেনের গার্ডদের জন্য একটি বিশেষ পাবলিক অ্যাড্রেস ব্যবস্থা রাখা থাকবে, যার মাধ্যমে তারা যাত্রীদের জন্য আলাদা করে কিছু জরুরি তথ্য জানাতে পারবেন।

১৬. প্রতিবন্ধীদের জন্য সুবিধা

ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য প্রতিটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনে আলাদা করে কিছু সুবিধা থাকবে। তাদের জন্য আলাদা করে হুইলচেয়ারের বন্দোবস্ত করা থাকবে। ড্রাইভিং ট্রেলার কোচের একেবারে শেষের দিকে হুইলচেয়ার রাখা থাকবে। অন্যদিকে, প্রতিটি কোচে এরকম মানুষদের জন্য আলাদা করে টয়লেটের বন্দোবস্ত করা থাকবে। এছাড়াও, প্রতিটি কোচে ২ জন করে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ২ জন অ্যাটেনডেন্ট রাখার সুবিধা থাকবে।

১৭. ডিসপ্লে বোর্ড

প্রতিটি কোচে আলাদা আলাদা করে দু'টি ডিজিটাল ডেস্টিনেশন বোর্ড দেওয়া থাকবে। এছাড়াও দু'টি এলইডি ডিসপ্লে বোর্ড থাকবে প্রতিটি কোচের দরজার ওপরে। এই সমস্ত ডিসপ্লে বোর্ডে আপনারা ট্রেনের ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবেন। কোন স্টেশন আসছে, এই মুহূর্তে ট্রেন কোন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে, পরবর্তীতে ট্রেনটি কোন স্টেশনে দাঁড়াবে, কতক্ষণের মধ্যে পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছবে, ট্রেন লেট চলছে কি না, ট্রেনের গতি কত, ট্রেনের লাইনে কোনও সমস্যা আছে কি না, সবকিছুই দেখা যাবে এই সমস্ত ডিসপ্লে বোর্ডে।

১৮. ফায়ার প্রোটেকশন

বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের প্রত্যেকটি কোচ সম্পূর্ণরূপে ফায়ার এবং স্মোক প্রোটেক্টেড। ন্যূনতম একটি আগুনের ফুলকি তৈরি হলেও সেই কামরার ফায়ার প্রোটেকশন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠবে। যদি কোনওরকম দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তা হলেও প্রতিটি কোচে দু'টি করে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা থাকবে।

১৯. সেন্ট্রালাইজড মনিটরিং সিস্টেম

বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রতিটি কোচে সেন্ট্রালাইজড কোচ মনিটরিং সিস্টেম রাখা হবে। প্রতিটি কোচে কোনওরকম সমস্যা হচ্ছে কি না, এসি কিংবা অটোমেটিক দরজাগুলিতে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, পাওয়ার সাপ্লাইতে সমস্যা আছে কি না, এই সবকিছুই যাচাই করবে এই কোচ মনিটরিং সিস্টেম।

২০. ক্যাটল গার্ড

ট্রেন লাইনে যখন কোনও পশু চলে আসে, তখন কোনও কোনও সময় ট্রেন বেলাইন হয়ে যায়, আবার কোনও কোনও সময় সেই পশুর প্রাণহানি হয়। এই কারণেই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের প্রতিটি ড্রাইভিং কোচের শেষের দিকে একটি করে ক্যাটল গার্ড দেওয়া হয়েছে, যাতে সর্বাধিক গতিতেও ৬০০ কিলোগ্রাম ওজন পর্যন্ত কোনও পশুর সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা না লাগে এই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের।

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।