হাসিনার পর সাজা ঘোষণা জয় পুতুলের! কী অভিযোগ, কী শাস্তি?

Purbachal plot corruption case: রায়ে ঘোষণার সময় বিচারক উল্লেখ করেন, কোনো আবেদনপত্র ছাড়াই এবং এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ করা হয়েছিল। সরকারি সম্পত্তি নিজের নামে নিয়ে ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন শেখ হাসিনা।

inscript
৩ মিনিট
হাসিনার পর সাজা ঘোষণা জয় পুতুলের! কী অভিযোগ, কী শাস্তি?

বাংলাদেশে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে করা তিনটি মামলায়ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আবেদনপত্র ছাড়াই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছিল শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে। একই মামলায় শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে পৃথক দুই মামলায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তাবেষ্টনী ঘিরে বিচারক দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় পলাতক থাকায় শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুল কেউই আদালতে হাজির ছিলেন না।

রায়ে ঘোষণার সময় বিচারক উল্লেখ করেন, কোনো আবেদনপত্র ছাড়াই এবং এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ করা হয়েছিল। সরকারি সম্পত্তি নিজের নামে নিয়ে ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন শেখ হাসিনা। বিচারক আরও বলেন, “চারবারের প্রধানমন্ত্রী কীভাবে মিথ্যা তথ্য গোপন করে ও জাল হলফনামা দিয়ে প্লট নিজেদের সুবিধামতো নেন, এটি আদালতের কাছে অবিশ্বাস্য।” এই দিন ২৩ আসামির মধ্যে ২১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছিলেন রাজউকের কর্মকর্তা খুরশিদ আলম, তিনি তিন মামলায় এক বছর করে মোট তিন বছরের সাজা পেয়েছেন এবং একমাত্র তিনিই কারাগারে আছেন।

প্রধান আসামিদের সাজা:

শেখ হাসিনা: তিন মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড, তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৮ মাস কারাবাস।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল: এক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা।

সজীব ওয়াজেদ জয়: এক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা।

অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যাদের সাজা হয়েছে:

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঠিক কোন কোন অভিযোগে শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ড পেলেন

PM Sheikh Hasina: আশুলিয়ায় জীবিত একজন-সহ ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগও ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়। এই ভয়াবহ অপরাধে নেতৃত্বদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

• সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ– মোট ১৮ বছর সাজা

• সাবেক সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার– মোট ১৮ বছর সাজা

• অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসি উদ্দিন– মোট ১৮ বছর সাজা

• রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান মিঞা– মোট ১৫ বছর সাজা

• রাজউকের সদস্য নাসির উদ্দিন– মোট ৯ বছর সাজা

• সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার– মোট ৩ বছর সাজা

• রাজউক কর্মকর্তা খুরশিদ আলম– মোট ৩ বছর সাজা

• প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন– মোট ১২ বছর সাজা

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে ভারত?

Sheikh Hasina Death Sentence: বাংলাদেশ গত বছরের ডিসেম্বরে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইতে ভারতকে ‘ভার্বাল নোট’ পাঠায়। তবে ভারত এরপর থেকে সে বিষয়ে আর একটি শব্দও বলেনি।

একজনকে আগেই চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়, আর বাংলাদেশের গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার তিন মামলাতেই খালাস পান।

রায়ের পর দুদকের আইনজীবী খান মো. মইনুল হাসান জানান,

“শেখ হাসিনা তিন মামলারই প্রধান আসামি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। যাদের একাধিক মামলায় সাজা হয়েছে, তারা প্রতিটি মামলার সাজা পৃথকভাবে খাটবেন।”

তিনি আরও বলেন,

“রায়টি ভবিষ্যতের রাষ্ট্রনায়কদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

রায়ে রাজউক ও বাংলাদেশের গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের জন্য একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে:

• অবৈধ প্লট বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবিলম্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ থেকে অপসারণ।

• প্লট বরাদ্দে ডিজিটাল লটারি সিস্টেম বাধ্যতামূলক করতে হবে।

• বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় সিভিল সোসাইটি, নগর পরিকল্পনাবিদ ও দুর্নীতি দমন সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে স্বাধীন কমিটি গঠন।

• অবৈধ বরাদ্দে জড়িত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি ও ফৌজদারি বিচার নিশ্চিত করা।

• ‘স্পেশাল ক্যাটাগরি’তে প্লট বরাদ্দের সুপারিশ বা নির্দেশনা দেওয়া বন্ধ করতে বাংলাদেশে গৃহায়ন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা।

রায় ঘোষণার আগে বিবিসি বাংলা-কে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন,

আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে যাতে আমরা নির্বাচন করতে না পারি।

তিনি দাবি করেন, তাঁরা আইন লঙ্ঘন করেননি, বাংলাদেশে তাঁদের সম্পত্তি নেই। পৈত্রিক সম্পত্তি ছাড়া তাঁরা প্রথমবার নিজস্ব অর্থে প্লট কিনেছিলেন। আর ‘যাদের জমি নেই তারা প্লট পেতে পারে’ এই আইনি বিধানের ভিত্তিতেই তারা সুযোগ পান। তবে দুদক আদালতে স্পষ্ট বলেছে, ঢাকায় শেখ হাসিনা ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বাড়ি, প্লট ও সম্পত্তির তথ্য তাঁদের হাতে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। জানুয়ারি ২০২৪-এ ছয়টি মামলা হলে সেগুলোর তিনটিতে শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলকে আসামি করা হয়। অনিয়ম করা মোট জমি ৩০ কাঠা। মামলার সাক্ষী ৯১ জন, পলাতক আসামি ২০-এরও বেশি। শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকদের বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলার রায় আগামী ১ ডিসেম্বর ঘোষণা হবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।