CAA-র জন্য প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে কী হবে? যা জানালেন শাহ

CAA Implementation: কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যাদের কাছে সেই প্রয়োজনীয় নথি নেই, অথচ তাঁরা বছরের পর বছর ধরে ভারতে রয়েছেন, তাঁদের কী হবে!

Sohini Das
৩ মিনিট
CAA-র জন্য প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে কী হবে? যা জানালেন শাহ

দেশ জুড়ে ভোটের আগেই চালু হয়ে গেল সিটিজেনশিপ অ্যামেন্টমেন্ট অ্যাক্ট (CAA)। সেই সিএএ কার্যকর করা নিয়ে তোলপার দেশ। সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম অর্থাৎ হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষ যারা ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট নথি ও শর্ত মিলিয়ে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেবে ভারত।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যাদের কাছে সেই প্রয়োজনীয় নথি নেই, অথচ তাঁরা বছরের পর বছর ধরে ভারতে রয়েছেন, তাঁদের কী হবে! অনেকেই বন্যায়, ঝড়ে ঘর হারিয়েছেন। ঘরের সঙ্গে ভেসে গিয়েছে সমস্ত নথিপত্র। কারওর ঘর পুড়েছে। কেউ বা যত্ন করে রাখেননি নথিপত্র। মোদ্দা কথা, তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি নেই, যা দিয়ে তাঁরা উর্ত্তীর্ণ হতে পারে এই সিএএ পরীক্ষায়। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবশ্য বলেছেন, যেসব উদ্বাস্তুর কাছে প্রয়োজনীয় নথি নেই, তাদের জন্য শীঘ্রই কোনও একটা উপায় বের করবে বিজেপি সরকার। কিন্তু কবে? ততদিন কী হবে সেই সব মানুষগুলোর। একটা দেশ হারিয়ে আরেকটা দেশে এসে শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন যাঁরা বহু কষ্ট করে, কোথায় যাবেন তাঁরা?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
CAA-তে কেন বাদ মুসলমানরা? বিতর্কিত প্রশ্নের বিস্ফোরক উত্তর দিলেন অমিত শাহ

Amit Shah on CAA: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলছেন, দেশভাগের সময় পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ ছিল হিন্দু। এখন তা কমে হয়েছে ৩.৭ শতাংশ।

এই সিএএ অগ্নিপরীক্ষায় পাশ করতে গেলে কোনও একজনকে দুটি নথি দিতে হবে। তাঁকে এমন কাগজ দেখাতে হবে, যাতে প্রমাণ হয় যে কোনও ভাবেই ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছিলেন উক্ত ব্যক্তি। পাশাপাশি যে তিন দেশের নাম করা হয়েছে আইনে, ওই তিন দেশ থেকেই যে তাঁরা এসেছেন, সেই প্রমাণও দিতে হবে উদ্বাস্তুদের।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, সরকারি তথ্য বলছে, এই প্রকল্পের অধীনে যাঁরা আবেদন করতে চাইছেন, তাঁদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ মানুষের কাছেই প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। যে ১৫ শতাংশ মানুষের কাছে সেই নথি নেই, সরকার তাঁদের কথাও ভাবছে। শীঘ্রই তাঁদের জন্য কোনও না কোনও পথ খুঁজে বের করবেন তাঁরা। আবেদনকারীদের কাছে এখনও সময় রয়েছে বলেও জানিয়ে দেন শাহ। সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট পোর্টাল ও ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনের পর ভারত সরকারের তরফ থেকে সেই ব্যক্তিকে একটি ইন্টারভিউতে ডাকা হবে। আবেদনকারীর সময়ানুযায়ী সেই ইন্টারভিউ রাখার নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। এরপর আবেদনকারীর জমা করা সমস্ত নথিপত্র অডিট করবে। এবং এরপর আরও একটি মুখোমুখি সাক্ষাৎকার। তার পরেই নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
CAA-র পর বিজেপির NRC-জিগির! বাংলা-বিহার-ঝাড়খণ্ডে যে সঙ্কটের মুখে মুসলিমরা

CAA Implementation: তবে এই সিএএ আইন সে রাজ্যে বসবাসকারী শেহশাহবাদিয়া মুসলিমদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে ব। ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতামন্ত্রীরা এনআরসি কার্যকর করার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে।

সিএএ কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশ জুড়ে হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে। এর আগে এনআরসি-বিক্ষোভ দেখেছে দেশ। তত বড় রূপ না নিলেও জায়গায় জায়গায় সিএএ বিরোধী আন্দোলনও চলেছে। এমকে স্ট্যালিন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বহু মুখ্যমন্ত্রীই এই আইনের সমালোচনা করেছেন। তারা নিজের রাজ্যে এই সিএএ কিছুতেই কার্যকর হতে দেবেন না বলেও দাবি করেন। অনেকেই মনে করছে, ভোটের আগে বিভাজনের রাজনীতিকে খুঁচিয়ে তোলার নয়া জিগির এই সিএএ। আর বিজেপি সেটাই চায়। বহু জায়গাতেই আশঙ্কা করা হচ্ছে, বহু মানুষ, বিশেষত মুসলিম সংখ্যালঘু অভিবাসীদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চাল এই নয়া আইন।

যদিও অমিত শাহের বক্তব্য, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে নিপীড়ত সংখ্যালঘুদের সাহায্য করার জন্য়ই এই আইনেক প্রয়োজন। তিনি এ-ও বলেন, ভারতীয় সংবিধান সমস্ত ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকেই ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার অনুমতি দেন। তা-ই যদি হবে, তা হলে কী দোষ করলেন এ দেশে আশ্রয় নেওয়া মুসলিমরা। এতগুলো বছর ভারতের জলহাওয়ার বেঁচেবর্তে থাকার পর হঠাৎ করে কেন তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। অথচ এতদিন ধরে তাঁরা ভোট পর্যন্ত দিয়েছে। তাঁদের আয়করের টাকায় রাস্তাঘাট সেজেছে। ভোট হয়েছে। তবে তাঁরা কীকরে রাতারাতি অ-নাগরিক হয়ে গেলেন। যদিও শাহ বলেছেন, মুসলমানদেরও এ দেশে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার অধিকার আছে। কারওর জন্যই দরজা বন্ধ করেনি ভারত সরকার।

তবে মুখে যা-ই বলুন না কেন, হিন্দুরাষ্ট্র গড়ার কারিগরদের প্রধান নিশানা যে মুসলিমরাই, তা কার্যত স্পষ্ট। লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই রমজান শুরুর প্রথম দিনেই এই বিজ্ঞপ্তি আনার নেপথ্যে সেই কারণ খানিকটা হলেও কাজ করেছে বলে দাবি বিরোধীদের। যদিও বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক লাভের প্রশ্ন এখানে নেই। বিজেপির প্রধান লক্ষ্য পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের হাতে অধিকার ও ন্যায়টুকু তুলে দেওয়া। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের প্রধান বৈশিষ্ট্যই তার ধর্মনিরপেক্ষতা। তবে নতুন এই আইন রাষ্ট্রের শরণার্থীদের আদতে ভাগ করছে ধর্মের ভিত্তিতেই। পরবর্তীতে এ দেশের সংখ্যালঘুদের জন্য সত্যিই কি কোনও পদক্ষেপ করবে বিজেপি সরকার! প্রশ্ন এবং সংশয় দু'টোই থেকে যায়।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।