অখিলেশ যাদব পুজো দেওয়ার পর কেন গঙ্গাজল দিয়ে মন্দির সাফ করল বিজেপি?

Akhilesh Yadav Kannauj Viral Video: মন্দিরের বাইরে একটি বোর্ড রয়েছে, তাতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, অ-সনাতনীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

inscript
৩ মিনিট
অখিলেশ যাদব পুজো দেওয়ার পর কেন গঙ্গাজল দিয়ে মন্দির সাফ করল বিজেপি?

কনৌজ আসন থেকে লোকসভা নির্বাচনে লড়ছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। প্রচার শুরুর আগে সিদ্ধপীঠ বাবা গৌরী শঙ্কর মহাদেব মন্দিরে প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর সেখানে পুজোর পরের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, অখিলেশ যাদব মন্দির চত্বর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে বিজেপির কর্মীরা মন্দির সাফাই করছেন। গঙ্গাজল দিয়ে গৌরী শঙ্কর মহাদেব মন্দির পরিষ্কার করছেন সেই কর্মীরা। ভারতীয় জনতা পার্টির অভিযোগ, অখিলেশের সঙ্গে বেশ কয়েকজন মুসলিম নেতা জুতো পরে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছিলেন। তাই মন্দিরটিকে গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে শুদ্ধ করতে হয়েছিল।

বিজেপির নগর সভাপতি শিবেন্দ্র কুমার গোয়ালের মতে, অখিলেশের সঙ্গে থাকা কিছু মুসলিম নেতা এবং অন্যান্য কর্মীরা যে শুধু জুতো পরে মন্দিরে ঢুকেছিলেন তাই নয়, সেখানে থুথুও ফেলেছিলেন। গোয়াল বলছেন, অখিলেশ যাদবের সফরে কোনও আপত্তি ছিল না, কারণ তিনি 'নির্বাচনী হিন্দু'। কিন্তু মন্দিরের বাইরে একটি বোর্ড রয়েছে, তাতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, অ-সনাতনীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

অভিযোগের জবাবে, সমাজবাদী পার্টির নেতা আইপি সিং X-এ লিখেছেন, "অখিলেশ যাদব অনগ্রসর শ্রেণির, তাই বিজেপি মন্দির চত্বরটি গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়েছে। এর আগে বিজেপির লোকেরা লখনউতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনও ধুয়েছিল। বিজেপি বিশ্বাস করে যে দলিত, বঞ্চিত ও শোষিতদের হিন্দু মন্দিরে পুজো করার অধিকার নেই।

In

's

,

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জিতেছিলেন বাবা-মা দু'জনেই! স্মৃতির থেকে আমেঠি ছিনিয়ে আনতে পারবেন রাহুল গান্ধি?

Amethi Lok Sabha History: রাহুল তাঁর প্রথম নির্বাচনেই আমেথি জিতে নেন। ২০০৯ সালে ৩.৭০ লক্ষ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ফের নির্বাচিত হন তিনি।

workers cleaned the temple with 'Gangajal' after

leader

visited it.

— Hate Detector 🔍 (@HateDetectors)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গত চারমাসে ১৪৮ বার শাস্তি! বিজেপির বিরুদ্ধে বললে কী কী করেছে মোদি সরকার?

Modi Against Freedom of Speech: উত্তরাখণ্ড বাকস্বাধীনতা হননের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই রাজ্যে ১০টি ক্ষেত্রে বাকস্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। এরপরেই রয়েছে হরিয়ানা।

কনৌজ লোকসভা আসনের অন্তর্গত পাঁচটি বিধানসভা আসনের মাত্র একটিই, বিধুনা আসনটি সমাজবাদী পার্টির দখলে। বাকি সমস্ত আসনে জয়ী বিজেপিই। ২০০০ সালের উপনির্বাচনে এই আসনে ক্ষমতায় আসেন অখিলেশ। তার আগে এই আসন ছিল তাঁর বাবা মুলায়ম সিং যাদবের দখলে। ২০১২ সালের উপনির্বাচনে এই আসনে জেতেন অখিলেশের স্ত্রী ডিম্পল যাদব। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির হাত থেকে এই আসন ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। জয়ী হন সুব্রত পাঠক।

কনৌজ ভারতের ঐতিহাসিক স্থান। উত্তরপ্রদেশের এই অঞ্চলের জনবিন্যাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। কনৌজ লোকসভা কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা ১৩ শতাংশের কিছু বেশি আর তপশিলি জাতির মানুষের সংখ্যা ২২ শতাংশের সামান্য বেশি (২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী)। এই অঞ্চলে যাদব ভোট নিজের দখলে রাখতে মরিয়া অখিলেশ। লোকসভার তৃতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে শ্যাম লাল পালকে দলের রাজ্য সভাপতি হিসাবে নিযুক্ত করেছেন তিনি। আসলে পাল, ধানগড়, গারেদিয়া বাঘেল গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে চেষ্টা করছে সপা। সমাজবাদী পার্টি এবার বিদায়ী সভাপতি নরেশ উত্তম প্যাটেল সহ ১১ জন কুর্মি সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রার্থী করেছে। তবে আকবরপুর-রানিয়া আসন থেকে কেবলমাত্র একজন পাল প্রার্থী রয়েছেন, রাজারাম পাল। তাই শ্যাম লাল পালকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করে আসলে যাদব বলয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সত্যপাল সিং বাঘেলের প্রভাব হ্রাস করতে চাইছে সপা। সত্যপাল বাঘেল সমাজবাদী পার্টিরই নেতা ছিলেন। পরে তিনি বহুজন সমাজ পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০১৫ সালে অবশেষ বিজেপিতে যান।

Former Chief Minister

performed pooja in the temple today.

After this the

leaders washed the temple. Said that he had come to the temple wearing shoes and slippers. Akhilesh Yadav is seen barefoot in this video.

— Bagmaru Munawwar (@BagmaruSpeaks)

পাল সম্প্রদায় অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) মধ্যে সর্বাধিক অনগ্রসর জাতির (এমবিসি) একটি। এই এমবিসিরাই গত দু'টি নির্বাচনে বিজেপির পাশেই দাঁড়িয়েছে। তাই ওবিসি ভোট টানতে এবার সমস্ত চেষ্টাই করছে সপা। ইতিমধ্যে ছয়জন নিষাদ এবং বিন্ড প্রার্থীকে টিকিট দিয়েছে দল। যদি কুর্মি, কুশওয়াহা এবং নিষাদ তাদের সম্প্রদায়ের ভোটের ৩০%-ও পায়, তাও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে সমাজবাদী প্রার্থী।

এবার প্রশ্ন হচ্ছে, বিজেপির এই মন্দির ধোয়ার ভিডিও কি সমাজবাদী পার্টির প্রতি আস্থা ফেরাবে দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের? বিজেপি যেভাবে নিচু সম্প্রদায়ের বা মুসলিম সম্প্রদায়ের মন্দিরে প্রবেশকে 'ঘৃণ্য' করে দেখাতে চাইছে, যেভাবে 'অচ্ছ্যুত' বিষয়টিকে আবারও স্বাভাবিক করে তুলতে চাইছে তাতে কি ভোটবাক্সে প্রভাব পড়বে না? নাকি হিন্দু উচ্চবর্গের ভোটের পাশাপাশি অপমান করেও, লাঞ্ছনা করেও দলিত ভোট টানার কৌশলও ঘুরপথে রপ্ত করে ফেলেছে মোদির বিজেপি?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।