রাজভবনের কর্মীদের 'বিশেষ চিঠি'! শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ফের ভয়াবহ অভিযোগ

Molestation Case against Governor: রাজ্যপাল রাজভবনের কর্মচারীদের চিঠি লিখে নির্দেশ দেন, এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশ কোনওরকম যোগাযোগ করলে তা এড়িয়ে যেতে হবে।

inscript
৩ মিনিট
রাজভবনের কর্মীদের 'বিশেষ চিঠি'! শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ফের ভয়াবহ অভিযোগ

রাজ্যের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে। লোকসভা নির্বাচনের আবহে সারা পশ্চিমবাংলা এই নিয়ে তোলপাড়। রাজভবনের এক মহিলা কর্মী অভিযোগ এনেছিলেন, খোদ রাজ্যপাল তাঁর শ্লীলতাহানি করেছেন! এবার আরও ভয়ানক অভিযোগ তুলেছেন তিনি, সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগকারিণীর অভিযোগ করেছেন, রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস রাজভবনের কর্মীদের এই বিষয়ে কোনও রকম মুখ না খোলার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। রাজ্যপাল রাজভবনের কর্মীদের একটি চিঠি লিখেছেন। তাতে বলেছেন, এই শ্লীলতাহানির মামলার বিষয়ে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা যাবে না বা যোগাযোগ করা হলে তা এড়িয়ে যেতে হবে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, রাজভবনের একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী সেই মহিলার অভিযোগ, তিনি জানতে পেরেছেন যে রাজভবনের কর্মচারীদের রাজ্যপাল এবং তার অনুচররা হুমকি দিচ্ছে যাতে কেউ তদন্তে সহযোগিতা করতে সাহস না পায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নক্ষত্রের দোষ নাকি শত্রুর বাড়বাড়ন্ত, কেন বারবার খাদের অতলে তলিয়ে যান কুণাল ঘোষ?

Kunal Ghosh: সম্প্রতি তৃণমূলত্যাগী নেতা তাপস রায়ের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে। সেই নিয়ে বিতর্ক উস্কে ওঠে। সেই মঞ্চেই কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায় কুণালকে।

গত ৫ মে রবিবার, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজভবনের কর্মচারীদের চিঠি লিখে নির্দেশ দেন এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশ কোনওরকম যোগাযোগ করলে তা এড়িয়ে যেতে হবে। তিনি রাজভবনের কর্মীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, সংবিধান অনুসারে রাজ্যপালের কার্যকালের সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা করা যাবে না। কলকাতা পুলিশ রাজ্যপালের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করার পরই সিভি আনন্দ বোস এই চিঠি পাঠান। সংবিধানের ৩৬১ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তাঁদের কার্যকালের সময় কোনও আদালতে কোনওরকম ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না। সিভি আনন্দ বোস আরও লিখেছেন, যেহেতু রাজ্যপালের বিরুদ্ধে যে কোনও ফৌজদারি মামলা করা যাবে না এমনটা সাংবিধানিক নিয়মে আছে তাই পুলিশ কোনওভাবেই এই বিষয়ে তদন্ত করতে পারে না। করলে তা সংবিধান অবমাননা হয়।

অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, রাজ্যপাল যদি কোনও অন্যায়ই না করে থাকেন তবে কেন তদন্ত নিয়ে তাঁর এত আপত্তি? মহিলার প্রশ্ন, সিভি আনন্দ বোস দাবি করছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগগুলিই মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদি রাজ্যপাল বিশ্বাস করেই থাকেন যে, এই মহিলা একজন মিথ্যাবাদী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই কাজ করেছেন, তাহলে তিনি সাংবিধানিক ঢাল ব্যবহার করে নিজেকে বাঁচাতে চাইছেন কেন? কেন তদন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে না? তদন্তে কি সত্য প্রকাশের ভয় পাচ্ছেন রাজ্যপাল? প্রশ্ন ওই মহিলার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত খোদ বাংলার রাজ্যপাল? যে ভয়ানক অভিযোগ সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে

CV Ananda Bose: বৃহস্পতিবার রাতেই রাজভবনে রাত্রিবাসের কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তার আগেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানিয়ে বসলেন ওই মহিলা।

গত ৩ মে, শুক্রবার, রাজভবনের কর্মচারী ওই মহিলা কলকাতা পুলিশের কাছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রাজ্যপাল গোটা বিষয়টিকেই 'অযৌক্তিক নাটক' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাজ্যপাল বলেছেন, এইসব অভিযোগ তুলে কেউই তাঁকে দুর্নীতি ফাঁস এবং হিংসা রোধের প্রচেষ্টা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

অভিযোগকারিণী বলছেন, “আমি যে কোনও পরীক্ষার মুখোমুখি হতে রাজি, রাজ্যপালের সামনাসামনি বসতে রাজি...লাই ডিটেক্টর টেস্ট হোক বা যে কোনও উচ্চতর প্রযুক্তি হোক, আমি রাজি। যদি রাজ্যপাল নির্দোষ হন, তাহলে তিনি পালাচ্ছেন কেন?”

প্রশাসনের উপর এখনও আস্থা রাখছেন ওই মহিলা। পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও তাঁর দাবি। তবে রাজ্যপাল নিজের অবস্থানে অনড় থেকে প্রশাসন ও প্রশাসনের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে যাচ্ছেন। বিষয়টি বহিরঙ্গে তৃণমূল-বিজেপির দ্বন্দ্ব হয়েই রয়ে গিয়েছে। সিভি আনন্দ বোস বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা 'নোংরা' রাজনীতি করছেন। তবে "রাজ্যপালের কার্যালয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিদিগিরি" তিনি বরদাস্ত করবেন না।

কলকাতা পুলিশের সূত্র জানাচ্ছে, ডেপুটি কমিশনার (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশেষ দল ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষ দলে আটজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। শনিবার, ৪ মে, হেয়ার স্ট্রিট থানার আধিকারিকরা শ্লীলতাহানির ঘটনায় গভর্নর হাউজে নিযুক্ত তিন কর্মকর্তা এবং এক কর্মীকে তলব করেন। রাজভবনের কোনও আধিকারিক তদন্তের জন্য আসেননি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।