বিজেপির শরণে শরদ পাওয়ার? ৫ বছর আগে আদানির 'গোপন' নৈশভোজে কী ঘটেছিল?

Sharad Pawar Adani Relation: শরদ পাওয়ার আদানির সঙ্গে তাঁর নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও বলেছেন। যখন তাঁকে তেমন কেউই চিনত না সেই সময় থেকেই এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন শরদ।

Paranjoy Guha Thakurta
৩ মিনিট
বিজেপির শরণে শরদ পাওয়ার? ৫ বছর আগে আদানির 'গোপন' নৈশভোজে কী ঘটেছিল?

২০১৯ সালে আদানির দিল্লির বাড়িতে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। আর সেই নৈশভোজ ঘিরেই ফের চর্চায় উঠে এলেন আদানিরা। ওই নৈশভোজে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের কি-ফ্যাক্টর এনসিপির রুটম্যাপ নিয়ে নাকি বিশেষ আলোচনা হয়েছিল। এমনটা বলছেন খোদ মহারাষ্ট্রের বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। নির্বাচন কমিশন বলেছে, অজিত পাওয়ারের এনসিপিই হচ্ছে আসল এনসিপি। একটি পোর্টালে প্রকাশিত শ্রীনিবাসন জৈনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অজিত পাওয়ার জানিয়েছেন, আদানির ওই নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন আদানি, অমিত শাহ এবং শরদ পাওয়ার অর্থাৎ অজিত পাওয়ারের কাকা। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শরদ পাওয়ারের হাতেই মূল এনসিপির প্রতিষ্ঠা। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে তৎকালীন অবিভক্ত এনসিপি সমর্থন করবে কিনা, এ নিয়ে নাকি খোদ আদানির দিল্লির বাসভবনের ওই নৈশভোজে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কৃষি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের মধ্যে বিস্তর আলাপ-আলোচনা হয়েছিল।

তবে জানা যায়, সেই সময়ে অবশ্য এই নিয়ে আলোচনা ব্যর্থই হয়েছিল। দুই বছর পরে, ঠাকরের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। ২০২২ সালের ৩০ জুন একটি নতুন সরকার মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাভার গ্রহণ করে। একনাথ শিণ্ডে (শিবসেনার বিদ্রোহী অংশ, যার নেতৃত্বে শিবসেনা টুকরো হয়ে যায়) মুখ্যমন্ত্রী হন এবং বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবীশ রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন। এর পরেই অজিত পাওয়ার যুগ্ম উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশের রদবদল কি আদানিদের বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সুখবর?

Bangladesh Adani Power deal: ২০১৭ সালে তদানীন্তন হাসিনা সরকার আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিদ্যুৎচুক্তি স্বাক্ষর করে, যার আওতায় ঝাড়খণ্ডে আদানিদের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডান হাত অমিত শাহ। বছর পাঁচেক আগে নয়াদিল্লির অভিজাত গল্ফ লিঙ্কস এলাকায় আদানির বাসভবনে একটি নৈশভোজে যেখানে অমিত শাহ তো নিমন্ত্রিত ছিলেনই, পাশাপাশি সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মহারাষ্ট্রের প্রভাবশালী আরও নেতাদের। ২০ নভেম্বর মহারাষ্ট্রে নির্বাচন হওয়ার কথা৷ রাজ্যের ২৮৮ সদস্যের বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল এর তিন দিন পরে জানা যাবে৷ ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিরোধীরা ইতিমধ্যেই আদানির বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে কারণ আদানিকে রাজ্যের রাজধানী মুম্বইতে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম বস্তিগুলির মধ্যে অন্যতম, ধারাভি পুনর্গঠনের চুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে (শিবসেনা উদ্ধব শিবির) এবং সংসদের নিম্নকক্ষে বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধি (কংগ্রেস) দু'জনেই বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে বলেছেন যে, ধারাভি পুনর্গঠনের চুক্তি মঞ্জুর করা হয়েছে। যদি মহাবিকাশ আঘাড়ী (MVA) জোট - যার মধ্যে আছে শিবসেনা, কংগ্রেস এবং জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) অংশ রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তাহলে আদানির হাত থেকে ওই চুক্তি সরিয়ে দেওয়া হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেশের মঙ্গল আদানির শ্রীবৃদ্ধিতেই? মোদির হাত ধরে যেভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছে আদানি গোষ্ঠী

বহু সময়েই 'বন্ধু' শিল্পপতির স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে পড়শি দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আঘাত করে বসেছেন মোদি। কেন? লিখছেন পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা ও আয়ুশ জোশী

পাঁচ বছর আগে নয়াদিল্লিতে ওই 'গোপন' নৈশভোজ হয়েছিল। হঠাৎ এখন তা নিয়ে এত আলোচনা কেন? শরদ পাওয়ার আদানির বাসভবনে এই নৈশভোজ ও বৈঠকের কথা কিন্তু অস্বীকার করেননি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, নৈশভোজের বৈঠক ছিল। তিনি এতে যোগ দিতে রাজি হয়েছিলেন কারণ নয়াদিল্লিতে বিজেপি সরকার এনসিপির সহকর্মীদের উপর 'মিথ্যা মামলা' চাপাচ্ছিল। এই নিয়ে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। ওই সহকর্মীরা বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন যে তাঁদের দল যদি বিজেপির সঙ্গ না দেয় তাহলে তাঁদের কোনও নিস্তার নেই।

শুধু এই নয়, শরদ পাওয়ার আদানির সঙ্গে তাঁর নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও বলেছেন। যখন তাঁকে তেমন কেউই চিনত না সেই সময় থেকেই এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন শরদ। এই সম্পর্ক নিয়ে কংগ্রেস দলের প্রতিক্রিয়া, মোদির প্রতি বিরোধিতা, মহারাষ্ট্রে চলতে থাকা নির্বাচন ইত্যাদি নিয়ে বিশদে ব্যাখ্যা করেছিলেন তিনি। ভাগ্নে অজিত পাওয়ারকে মূল এনসিপিতে ফেরানোর সম্ভাবনা নিয়েও সেই সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ কথাবার্তা বলেছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের ঠিক আগে আগে অজিত পাওয়ার আদানির সঙ্গে নৈশভোজের যে বোমাটি ফাটিয়েছেন তাতে তিনি আবার কাকার দলের শাখায় ফিরে আসবেন কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্নই উঠছে। তবে আম্বানি বা আদানিদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠক তো খুব একটা গোপনীয় বিষয় নয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের বিশেষ আরামের সম্পর্ক রয়েছে। তাই দেশের ক্ষমতাশালো ব্যবসায়ীরাই সরকারের নীতি এবং প্রকল্পগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে, যেমনটি তারা ধারাভি পুনরুন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে করছে। তবে মজার বিষয় হলো, অজিত পাওয়ার এবং পরবর্তীতে দেবেন্দ্র ফড়নবীস ওই নৈশভোজের বৈঠকের গুরুত্ব কমানোর চেষ্টা করলেও আদানি এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নাৎসি জার্মানি থেকে FTII–SRFTI: ফিল্ম স্কুল কেন ক্ষমতার চোখে এত গুরুত্বপূর্ণ?

History of Film school's against Fasicsm: ১৯৩৩ সালে নাৎসিরা ভাঙচুর করেছিল বার্লিনের ফিল্ম স্কুল টনফিল্মশুলে। ১৯৩৫ সালে মুসোলিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন ইতালির ফিল্ম স্কুল সিএসসি। ২০১৫ সালে ভারতে পুনের এফটিআইআইতে মোদী সরকারের নিয়োগ বিষয়ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৩৯ দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। ২০২৬-এ কলকাতার এসআরএফটিআইতে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইট-পাথরের হামলা সেই ইতিহাসকেই পুনরাবৃত্ত করল। হামলার পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্য আজও একই, স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও ইতিহাস বলে, ফিল্ম স্কুল কেবল একটি ভবন নয়, একটি ধারণা, একটি মতাদর্শিক বলয়।

জেলের ৭১৬ দিন: কী পড়তেন, কী ভাবতেন, কীভাবে লড়তেন ভগৎ সিং?

Bhagat Singh jail life: জেলখানায় ভগৎ সিংয়ের সবচেয়ে বড় সঙ্গী ছিল বই। দ্বারকাদাস লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান শাস্ত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলের ভিতর বই পাচার করতেন। এই ৭১৬ দিনে তিনি প্রায় ৩০০-র বেশি বই পড়েছেন ভগৎ সিংহ।

বাম বসন্ত ফিরবে বার্লিনে? শতাব্দীর সংগ্রাম শেষে আবার নতুন ভোর

Left-Wing Resurgence in Hitler’s Berlin: হিটলারের বার্লিনে ফিরছে বামপন্থা। তরুণরা সংক্রমিত। ইতিহাসের এই বিদ্রূপ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীপ্রাচীন দুঃস্বপ্নের নগরীতে।

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

তৃণমূল থেকে এনসিপি, দল ভাঙে, প্রতীক বদলায়, রাজনীতি কোনদিকে যায়?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।