‘তুই বাঁচবি না'! জয়ন্ত গ্রেফতার হতেই সৌগত-মদনকে হুমকি! আমজনতা আদৌ নিরাপদ?

Jayant Singh Madan Mitra: মদন মিত্রের দাবি, রাতের বেলায় তাঁর মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে।

inscript
৩ মিনিট
‘তুই বাঁচবি না'! জয়ন্ত গ্রেফতার হতেই সৌগত-মদনকে হুমকি! আমজনতা আদৌ নিরাপদ?

জয়ন্ত সিং আড়িয়াদহের ত্রাস। মা ছেলেকে ফেলে পেটানোর ঘটনায় অবশেষে 'জায়ান্ট' সিংকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। অভিযোগ ছিল শাসকদলের নেতাদের ছায়াতে থেকেই এই বাড়বাড়ন্ত তাঁর। সেই জয়ন্ত সিং জেলে যেতেই হুমকি ফোন পেতে শুরু করলেন তৃণমূলের নেতারা। অভিযোগ, কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের হাত ধরেই এলাকায় প্রতিপত্তি বাড়িয়েছিল জয়ন্ত। জয়ন্ত জেলে জেতেই সেই মদন মিত্রের অভিযোগ, মাঝরাতে তাঁকে হুমকি দিতে ফোন করা হয়েছিল। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে বলেন, ‘‘তুই বাঁচবি না। কামারহাটিকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছিস। তোকে গুলি করে দেব। গুলি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হ।’’

মদন মিত্রের দাবি, রাতের বেলায় তাঁর মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে তাঁকে স্পষ্ট বাংলা ভাষায় হুমকি দেওয়া হয়। ফোন করে ওই ব্যক্তি মদন মিত্রকে খুনের হুমকি দেয়। মদন মিত্র বলছেন, ৪৬ সেকেন্ড কথা হয় তাঁর। অজানা ওই ব্যক্তি তাঁকে খুনের হুমকি দিলেও তিনি ভদ্র ভাষাতেই কথা বলেছেন তাঁর সঙ্গে। মদন বলছেন, তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘‘কে আপনি? এ ভাবে কেন কথা বলছেন?’’ তবে এই প্রশ্নের সদুত্তর তিনি দেননি। মদন মিত্র জানাচ্ছেন, দু’বার ওই ফোন এসেছিল। দ্বিতীয়বার ফোনটি আসে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩৮ মিনিটে। তবে মদন মিত্রের সঙ্গে ওই ব্যক্তির রাতেই একবার কথা হয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘আড়িয়াদহের ঘটনা পুরনো!’ শাসকদলের নাম জড়াতেই তড়িঘড়ি সাফাই প্রশাসনের?

Alapan on Jayanta Singh: আড়িয়াদহের ঘটনা নিয়েই এবার সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা।

হুমকি পেয়েও কেন ফোন রেকর্ড করলেন না মদন মিত্র? মদন মিত্র বলছেন, তিনি ফোন রেকর্ড কীভাবে করতে হয় তা জানেন না। তবে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কী কী কথা হয়েছে, তা মনে রেখেই বলেছেন তিনি। মদন মিত্রের দাবি, ‘‘পরিষ্কার বাংলা ভাষায় আমার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কোনও বিহারের জেল, কোনও সুবোধ সিং বা অর্জুন সিং ফোন করেননি। স্থানীয় কেউ ফোন করেছেন। যদিও অর্জুনের মতো কেউ বা কারা যে ফোনের পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন, তা আমি ভালোই বুঝতে পেরেছি।’’

কে ফোন করেছেন বা কারা ফোন করিয়েছেন বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন মদন? মদন মিত্র বলেছেন, ‘‘আমার কাছে খবর আছে, কামারহাটিতে বহু জায়গায় অর্জুন এবং শুভেন্দু অধিকারী যোগাযোগ করছেন। তাঁরাই এই ফোন করিয়েছিলেন।’’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শেখ শাহজাহান, জেসিবি, জয়ন্ত: পাড়ায় পাড়ায় বাহুবলী এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি?

Sheikh Shahjahan, JCB, Jayant Singh: সরকার পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা যদি তৈরি না হতো কেউ কি কোনওদিনও শেখ শাহজাহানের দাপটের আঁচ পেত?

শুধু মদন মিত্র নন, এর আগে খুনের হুমকি পেয়েছেন বলে দাবি করেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ও। জয়ন্ত সিংয়ের গ্রেফতারির পর সৌগত রায় অভিযোগ করেন, জয়ন্তকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়াতে হবে, এই হুঁশিয়ারি দিয়ে কেউ বা কারা ফোন করেছিলেন তাঁকে। দমদমের সাংসদ সৌগত রায়ের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত তিনটে নাগাদ ফোন করে বাংলা ও হিন্দিতে প্রথমে তাঁকে গালাগালি করা হয়। বলা হয়, "জয়ন্ত সিংকে ছাড়ানো না হলে তোকে গুলি করব! তুই আড়িয়াদহে আয়।" মিনিট সাতেক পর নাকি অন্য আরেকটি নম্বর থেকে ফোন করে একই কথা বলা হয়। সৌগত জানিয়েছেন, বুধবার ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অলোক রাজোরিয়াকে ঘটনাটি ফোনে জানিয়েছেন তিনি। সিপি অলোক রাজোরিয়া তদন্তও শুরু করেছেন। মদন মিত্র বলছেন, ‘‘সৌগত রায়কে যেখান থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেই ফোনের লোকেশন খুঁজে বার করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কারণ ওঁকে ফোন করার পরের দিনই আমার কাছে ফোন এল।’’

কিন্তু প্রশ্ন হলো, জয়ন্তর ঘটনা নতুন নয়। বছরের পর বছর জয়ন্ত বাহিনী এই এলাকায় অত্যাচার চালিয়েছে। সবটাই সকলের জানা থাকলে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। হ্যাঁ, জয়ন্ত একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে, একাধিকবার মুক্তিও পেয়েছে আর এলাকায় যথেচ্ছ গুন্ডাগিরি চালিয়েছে। অভিযোগ ছিল শাসকদলের নেতাদের হাত রয়েছে তার মাথায়। মদন মিত্রের সঙ্গে একই মঞ্চে বহুবারই দেখা গেছে জয়ন্তকে। সেই মদন মিত্রকেই ফোনে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে? যদি মদন মিত্রের অভিযোগ সত্য হয় তাহলে এই ঘটনার অভিঘাত যে কী মারাত্মক তা সহজেই অনুমেয়। শাসকের ছায়াতে বেড়ে ওঠা দুষ্কৃতী এতই ক্ষমতা ধরে যে সেই শাসককেই হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে! এই যদি বিধায়ক সাংসদের অবস্থা হয় তাহলে আম জনতা এতদিন কোন ত্রাস শিয়রে নিয়ে ঘুমোতে যেতেন? সাধারণ মানুষ কোন আতঙ্কে প্রাণ হাতে নিয়ে আড়িয়াদহে রোজ জীবন কাটান? পুলিশ এই মুহূর্তে যতটা সচেষ্ট দীর্ঘদিন ধরে সেই একই তৎপরতা দেখায়নি কেন?

জয়ন্ত সিং, সৈকত মান্না ওরফে জঙ্ঘা এবং সুদীপ সাহা ওরফে গুড্ডুকে আগেই আড়িয়াদহে মা ও ছেলেকে রাস্তায় ফেলে পেটানোর ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। জেল হেফাজতেই ছিল তারা। শুক্রবার নতুন মামলায় তাদের ফের গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিষেক বর্মন ওরফে ছোটু, সুভাষ বেরা এবং সুমন দে-কেও। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, এর আগেও পাঁচবার জয়ন্ত গ্রেফতার হয়েছে। তারপরেও আড়িয়াদহে মা ছেলেকে ফেলে পেটানোর সাহস যে রাখে, সে যে গ্রেফতারিতে ডরায় না তা প্রমাণ হয়েই গেছে। মদন মিত্র এর আগে তাঁর সঙ্গে জয়ন্তর সম্পর্ক অস্বীকার করেছিলেন। যদি কোনও সম্পর্ক না থাকে, তাহলে জয়ন্তর গ্রেফতারির পরে কেন খামোখা তাঁকে প্রাণের হুমকি দেওয়া হলো? প্রশ্নগুলো সহজ, আর উত্তরও তো...

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।