India-US trade: ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তি! কেন সমস্যায় ভারত?

Trump's Trade Deal: ট্রাম্প আগেও একাধিকবার এ কথা বলেছেন। আবার স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে ঢুকতে দিলেই এই চুক্তি করা হবে।

inscript
৩ মিনিট
India-US trade: ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তি! কেন সমস্যায় ভারত?

নতুন শুল্ক নীতি আনতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিছু মাস ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনা এখনো চলছেই। ভারত এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। কেন ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের সমস্যা?

সম্প্রতি আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ''আমার মনে হয়, আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে চলেছি। এটা এমন এক চুক্তি হবে, যেখানে আমরা (বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের) ভিতরে ঢুকতে পারব। ভারত সাধারণত কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেয় না। আমার মনে হয়, এবার হয়তো তারা দেবে। ভারত যদি এমনটা করতে দেয়, তাহলে আমরা অনেক কম শুল্কে চুক্তি করতে পারব।''

ট্রাম্প আগেও একাধিকবার এ কথা বলেছেন। আবার স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে ঢুকতে দিলেই এই চুক্তি করা হবে। ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত দেশের বিভিন্ন সংস্থা, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দিতে অনেকটাই শুল্ক নেয়। তাঁর কথায়, আমরা চাইছি, ভারত এই শুল্ক কমাক এবং কৃষি, ডেয়ারির ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য ও সংস্থার বাজার আরও খুলে দিক। আর তা না হলে ভারতীয় পণ্যে চড়া শুল্ক বসানো হবে যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পণ্য ঢোকার পথ বন্ধ করে দেওয়া যায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে এখন যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে সেখানে ভারতের তরফে প্রতিনিধিদলের নেতা হলেন রাজেশ আগরওয়াল। এর মধ্যেই তাঁর ভারতে ফিরে আসার কথা থাকলেও তা হয়নি কারণ, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে এখনও আলোচনা শেষ হয়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু যৌথ হামলা! পরমাণু প্রকল্প বন্ধ রাখবে ইরান?

Iran-Israel Conflict: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প তাঁকে থামিয়ে মার্কিন হামলার নির্দেশ দেন।

নিউজউইক-কে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বলেছেন, ''খুবই জটিল বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। আমরা আশা করছি, আলোচনা সফলতা পাবে। কিছু গিভ অ্যান্ড টেক (দেওয়া-নেওয়ার বিষয়) থাকবে।''

ওয়াশিংটন সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের রিচার্ড রসো বিবিসি-কে বলেছেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ভারতের কৃষিক্ষেত্রে যেন তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত আর্থিক ও রাজনৈতিক কারণে তাঁদের কৃষকদের রক্ষা করতে চায়।''

ওয়াশিংটন চাইছে আপেল, বাদাম, জেনেটিক্যৈালি মডিফায়েড(জিএম) শস্যের উপর ভারত শুল্ক কমিয়ে দিক। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেশে সব কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র দুধ ও দুধজাত পণ্যের উপরেও শুল্ক কমাতে চাইছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে মুনাফা লুটছে মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট?

Gaza: প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও অ্যামাজন ইজরায়েলকে তাদের ক্লাউড ও এআই-এর বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে।

ডিডাব্লিউ লিখেছে, তাদের সূত্র জানাচ্ছে, ভারত চায় এখন চুক্তি হোক কিন্তু তাতে দুধ ও দুধজাত পণ্য ও জিএম শস্য বাদ থাক। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়, ভারত শুল্ক কমিয়ে শস্য ঢোকার সুযোগ করে দিক। এর বিনিময়ে দেশটি ভারতীয় পণ্য যাতে আরও বেশি বাণিজ্য করতে পারে তার জন্য শুল্ক কমাবে। ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তির মূল উদ্দেশ্য এটাই।

ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসের প্রাক্তন কর্মকর্তা এবং কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুমিত দত্ত মজুমদার ডিডাব্লিউ-কে বলেছেন, ''কৃষি ক্ষেত্রে শুল্ক কম করা হলে ভারতের কৃষকরা তো অসুবিধেতে পড়বেনই।''

এখানে বলে রাখা দরকার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের সঙ্গে ভারতের কৃষকদের কোনো ভাবেই তুলনা করা যায় না। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ৮০ লক্ষ কৃষক এবং ভারতের প্রায় ১৫ কোটি কৃষক। তাঁদের ৮৯ শতাংশ শুধু ছোট ও মাঝারি কৃষক। ফলে তাদের সুরক্ষার কথা ভাবতেই হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকার তাদের দেশের কৃষকদের ভর্তুকি দেয়। তার পরিমাণও ভারতের কৃষকদের তুলনায় অনেকটাই বেশি। ফলত ভারতীয় কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

দ্য সেক্রেটারিয়েট-এর সম্পাদক এবং দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা করা জয়ন্ত রায়চৌধুরী ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ''কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ভারত শুল্ক কমাবে। কিন্তু চাল-গমের মতো খাদ্যশস্যের উপর নয়। তেমনই ডেয়ারির ক্ষেত্রে স্পেশালাইজড চিজের মতো কিছু পণ্যে শুল্ক কমবে। কিন্তু বাকি পণ্যে কমার সম্ভাবনা কম।''

কৃষি ও ডেয়ারিতে শুল্ক কমালে, সরকারকে কৃষক-বিরোধী বলে মনে করবেন অনেকেই। কারণ, ভারতে ডেয়ারির সঙ্গে প্রায় আট কোটি মানুষ জড়িত। পেস্তা, হ্যাজেলনাট, অ্যামন্ড-এর মতো পণ্য ভারত অনেকটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করে। দেশটি দাবি করছে, আপেলের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কমাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সোয়াবিন ও কর্ন-এর মতো পণ্য এ দেশে রপ্তানি করতে চায়। এ ক্ষেত্রে দেশটির ভারতের বাজার দরকার। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সব অন্যায্য দাবি মেনে নিলে ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার রাজনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়বে। আর সরকার তা চাইছে না। অন্যদিকে আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যর সম্পর্ক থাকাটাও জরুরি। এই পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে, কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের দাবি চাপিয়ে চুক্তি করতে চাইছে ভারত।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি আপাতত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন ট্রাম্প। সেই সময়সীমা শেষ হবে আগামী ৯ জুলাই। এর মধ্যেই দুই দেশের বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখন এটাই দেখার শেষ অবধি এই চুক্তি হয় কিনা, হলেও কোনো দাবি মেনে হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।