মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যোগীরাজ্যে! বাস দু' টুকরো হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু দেখল উন্নাও

Unnao Bus Accident: বাসের সঙ্গে দুধের কন্টেনারের সংঘর্ষ এতটাই মারাত্মক ছিল যে বাসটি দু'ভাগে ভেঙে যায় এবং ট্যাঙ্কারটিও উল্টে যায়।

১৪ জন পুরুষ, ৩ জন নারী, ১ জন শিশু। মৃত সকলেই। বুধবার সকালে ১৮ জনের মৃত্য দেখল উত্তরপ্রদেশ। উন্নাওতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহতও হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি মানুষ। এদিন সকালে লখনউ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি ডবল ডেকার বাস দুধের কন্টেনারকে পেছন থেকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যাত্রীদের। বাসের সঙ্গে দুধের কন্টেনারের সংঘর্ষ এতটাই মারাত্মক ছিল যে বাসটি দু'ভাগে ভেঙে যায় এবং ট্যাঙ্কারটিও উল্টে যায়। পুলিশ জানাচ্ছে, দুধের কন্টেনারটি বাসটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল, যে কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেহতা মুজাওয়ার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিএইচসি বাঙ্গরমাউতে ভর্তি করে। মরদেহগুলিও উদ্ধার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, যাত্রীবাহী দোতলা বাসটি বিহার থেকে দিল্লি যাচ্ছিল। আগ্রা-লখনউ এক্সপ্রেসওয়েতে সেটি একটি দুধের ট্যাঙ্কারে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান উত্তরপ্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। তিনি জানিয়েছেন, উন্নাওয়ের ট্রমা কেয়ার সেন্টারগুলিকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। মৃত ও আহতদের অধিকাংশই বিহারের বাসিন্দা। সেই রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন- হাথরাসে বিষাক্ত জিনিস ছড়িয়েছিল কেউ! ভোলেবাবার দাবি সত্য না মিথ্যে?

দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনাও করেছেন। শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, "উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে সড়ক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যারা এতে তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। এই কঠিন সময়ে ঈশ্বর যেন তাদের শক্তি দেন। আমিও শান্তি কামনা করি। আহতদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।" প্রধানমন্ত্রী মোদি উন্নাও দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। আহতদেরও ৫০,০০০ টাকা দেওয়া হবে। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের পরিবহন মন্ত্রীও।

 

বিহারের শেওহর জেলা থেকে দিল্লিগামী ওই স্লিপার বাসের দুর্ঘটনায় পূর্ব চম্পারণ জেলার মতিহারির মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একই পরিবারের সদস্য ছিলেন ৬ জন। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিহারের ফানহারা থানা এলাকার ইজোরওয়াদা গ্রামের তিনজনও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফেনহারা থানা এলাকার নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ আশফাক (৪২), তাঁর স্ত্রী মুনছুন খাতুন (৩৮), তাঁদের ছেলে সোহেব (৩)। মারা গেছেন মহম্মদ ইলিয়াস (৩৫), গুলনাজ (১২), কামরুল নেশা (৩০)। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৫ নাগাদ বিহারের শিবহার থেকে দিল্লির বাসে উঠেছিলেন সবাই। মহম্মদ আশফাক গত ৩০ বছর ধরেই মিরাটে থাকতেন। পেশায় দর্জি তিনি। বকরিদের উপলক্ষ্যে পরিবার নিয়ে গ্রামে এসেছিলেন। ছুটি কাটিয়ে ফিরতে গিয়ে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

More Articles