যোগীরাজ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা! হাথরসে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু শতাধিকের
Hathras Stampede Incident: হাথরসের ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে এই টাকা দেওয়া হবে।

যোগীরাজ্যে বড়সড় দুর্ঘটনা। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল শতাধিক মানুষের। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে হাথরসে দলিত তরুণীর গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল দেশ। ফের শিরোনামে হাথরস। এবার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল অসংখ্য মানুষের। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
হাথরাসের সিকান্দারা রাউ শহরের রতিভানপুরে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছিল। বিশেষভাবে তৈরি করা তাঁবুতে এক ধর্ম প্রচারক তাঁর অনুগামীদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন বলে খবর। আলিগড় রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল শলভ মাথুর বলেন, 'ভোলে বাবা নামে এক ধর্ম প্রচারকের সৎসঙ্গ সভা ছিল সেখানে। মঙ্গলবার বিকেলে এটাহ ও হাথরাস জেলার সীমান্তে জমায়েত হওয়ার জন্য সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।' অনুষ্ঠান শেষ হতেই একটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ওই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী জমায়েত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়। হাথরাসের পুলিশ সুপার নিপুন আগরওয়াল বিবিসির সংবাদদাতা দিলনাওয়াজ পাশাকে নিশ্চিত করেছেন যে ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ৬০ জন মারা গেছেন। তবে অন্যান্য মাধ্যম সূত্রের খবর, মৃতের সংখ্যা ১১৬। আরও বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা।
এটার পুলিশ সুপার রাজেশ কুমার সিংহ অবশ্য বলেন, “হাথরসের মুঘলাগড়ি গ্রামে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেই সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কেন এবং কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রাথমিক ভাবে শিশু এবং মহিলা-সহ ১৫ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে এটা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেলা ইটাহ-র হাসপাতালেও প্রাথমিক ভাবে ২৭টি মৃতদেহ নিয়ে আসা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ২৩ জনই নারী। এছাড়া তিনটি শিশু ও একজন পুরুষের মৃতদেহও সেখানে রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দেহগুলিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জেলার প্রধান মেডিক্যাল অফিসার উমেশ কুমার বলেছেন যে, আহতদের অনেককে ইটাহ-র হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সিকান্দ্রারাউ শহরের একটি ট্রমা সেন্টারে। তিনি জানিয়েছেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ১৫০ জনের মতো মানুষ আহত হয়ে ভর্তি আছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিকন্দরারাউ হাসপাতালে আহতদের নিয়ে গেলেও সেখানে চিকিৎসা করার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক ছিল না। এদিন হাসপাতালে মাত্র এক জন চিকিৎসক ছিলেন। চিকিৎসার গাফিলতিরও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পর দেড় ঘণ্টা কেটে গেলেও প্রশাসনের কোনও আধিকারিক আসেননি। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘটনাটির খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন আগরার অতিরিক্ত ডিজি। ঘটনার খবর পেয়ে মুঘলাগড়ি গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী লক্ষ্মীনারায়ণ চৌধরী এবং সন্দীপ সিংহ। রাজ্য পুলিশের ডিজিও ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। এদিন লোকসভা অধিবেশনে ভাষণ দিতে দিতে বক্তৃতা থামিয়ে হাথরসের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেন মোদি। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ইতিমধ্যেই হাথরসের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। হাথরসের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, পশ্চিমবঙ্গের মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Delhi Airport Roof Collapses: ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টার্মিনালের পিক-আপ এবং ড্রপ এলাকায় পার্ক করা গাড়িগুলির উপরই ছাদের অংশ এবং বিমগুলি ভেঙে পড়ে৷
उत्तर प्रदेश के हाथरस जिले में हुई दुर्घटना में महिलाओं और बच्चों सहित अनेक श्रद्धालुओं की मृत्यु का समाचार हृदय विदारक है। मैं अपने परिवारजनों को खोने वाले लोगों के प्रति गहन शोक संवेदना व्यक्त करती हूं तथा घायल हुए लोगों के शीघ्र स्वस्थ होने की कामना करती हूं।
— President of India (@rashtrapatibhvn)
जनपद हाथरस की दुर्भाग्यपूर्ण दुर्घटना में हुई जनहानि अत्यंत दुःखद एवं हृदय विदारक है।
मेरी संवेदनाएं शोक संतप्त परिजनों के साथ हैं।
संबंधित अधिकारियों को राहत एवं बचाव कार्यों के युद्ध स्तर पर संचालन और घायलों के समुचित उपचार हेतु निर्देश दिए हैं।
उत्तर प्रदेश सरकार में मा.…
— Yogi Adityanath (@myogiadityanath)
Just now learnt that in a sad incident of stampede, at least 27 devotees (including 23 women and 3 children) have succumbed to death at Hathras, UP. My heart goes out to their family members. Sincere condolences to the bereaved kins.
उत्तर प्रदेश के हाथरस में सत्संग के दौरान मची भगदड़ से कई श्रद्धालुओं की मृत्यु का समाचार अत्यंत पीड़ादायक है।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Hajj Deaths: এই মুহূর্তে সৌদি আরবের মক্কার তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৫১ ডিগ্রি। ফলে চরম গরমে তীর্থ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বহু পুণ্যার্থী।
सभी शोकाकुल परिजनों को अपनी गहरी संवेदनाएं व्यक्त करते हुए घायलों के शीघ्र स्वस्थ होने की आशा करता हूं।
सरकार और प्रशासन से अनुरोध है कि घायलों को हर संभव उपचार एवं…
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) July 2, 2024
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) July 2, 2024
প্রধানমন্ত্রীর দফতর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, ‘‘হাথরসের ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে এই টাকা দেওয়া হবে। আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’’ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এক্সে লিখেছেন, ‘‘হাথরসে মহিলা এবং শিশু-সহ বহু মানুষের মৃত্যুর খবর দুঃখজনক। যাঁরা নিজের পরিজনকে হারিয়েছেন, তাঁদের সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’’
The Prime Minister Shri
Ji has announced an ex-gratia of Rs. 2 lakh from PMNRF for the next of kin of each deceased in the mishap in Hathras. The injured would be given Rs. 50,000.
— PMO India (@PMOIndia)
শোক প্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশের হাথরসে পদপিষ্ট হয়ে ২৭ জন (২৩ জন মহিলা এবং তিন শিশু)-এর মৃত্যুর খবর শুনলাম। তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্সে জানিয়েছেন, এই খবর শুনে তাঁর মন ব্যথিত। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজে নেমেছে। মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন শাহ। আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেছেন।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলও শোকপ্রকাশ করেছেন এই ঘটনায়। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক। মৃতদের পরিজনকে সমবেদনা জানিয়েছেন রাহুল। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘‘সরকার এবং প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আহতদের যেন সব রকমের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। মৃতদের পরিবারকে সাহায্য করা হোক। ইন্ডিয়ার সকল কর্মকর্তাকে অনুরোধ, তাঁরা যেন উদ্ধারকাজে সাহায্য করেন।’’এক্সে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, আহতদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা-ও জানিয়েছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, ‘‘প্রভু শ্রীরামের কাছে প্রার্থনা, মৃতদের আত্মাকে তিনি যেন নিজের চরণে স্থান দেন, আহতদের শীঘ্রই সুস্থ করে দিন।’’
















