জি২০ সামিটে চিনের ধাক্কা! বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প থেকে সরে যেতে পারে ইতালি

Belt and Road Project : প্রশ্ন হচ্ছে, চিনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্পটি ঠিক কী ধরনের উদ্যোগ?

inscript
৩ মিনিট
জি২০ সামিটে চিনের ধাক্কা! বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প থেকে সরে যেতে পারে ইতালি

চিনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' বা সংক্ষেপে যাকে BRI প্রকল্প বলা হচ্ছে, তা থেকে কি হাত গুটিয়ে নিতে চলেছে ইতালি? জি-২০ বৈঠকে সে রকমই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। যাকে আবার কূটনৈতিক মহলের একাংশ ভারতের জয় হিসেবে দেখছে। প্রশ্ন হচ্ছে, চিনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্পটি ঠিক কী ধরণের উদ্যোগ? প্রকল্পটিতে চিনের কী সুবিধা? ইতালি কীভাবে এর সঙ্গে জড়িয়ে? আর ইতালি 'বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প' থেকে বেরিয়ে গেলে ভারতেরই বা আখেরে কী লাভ?

২০১৩ সালে চিন 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্পের ঘোষণা করে। তারও ৬ বছর পর, ১০১৯ সালে ইতালি গ্রুপ অফ সেভেন (G-7)জোটের একমাত্র সদস্য হিসেবে চিনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। জোটের বাকিরা অর্থাৎ কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপানের মতো দেশগুলি কেউই চিনের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নেই। ইতালির এখনকার প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তখন অর্থাৎ ২০১৯ সালে বিরোধী শিবিরের মুখ। সে সময় চিনের সঙ্গে হাত মেলানোর সিদ্ধান্তকে 'বিগ মিসটেক' বা 'বড় ভুল' বলে মন্তব্য করেন মেলোনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জি-২০-র ডিনারে কোন টেবিলে কার পাশে মমতা, নীতীশ? জোর চর্চা ইন্ডিয়া শিবিরে

Mamata at G20 Dinner : এটা বলা যাবে না যে শুধু অমিত শাহ আর যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গেই ডিনার টেবিলে ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

'বেল্ট অ্য়ান্ড রোড' BRI প্রকল্পকে চিন নতুন সিল্ক রুট বলে চিহ্নিত করেছে। পরিকাঠামো গত উন্নয়নের দিকটি মাথায় রেখে এই প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে চিন। 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্পের মাধ্যমে চিন নিজের দেশের সঙ্গে সরাসরি মধ্য এশিয়া হয়ে ইউরোপকে জুড়তে চলেছে। শুধু তাই নয় এই প্রকল্পের হাত ধরে আফ্রিকা, ওশানিয়া এবং লাতিন আমেরিকাতেও অর্থনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি করতে চাইছে জিং পিং-এর দেশ। 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্পের একটি সড়ক সরাসরি চিন এবং পাকিস্তানের গ্বাদর বন্দর শহরকেও জুড়তে চলেছে। এই অংশের সড়কই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের উপর দিয়ে যাবে। যা নিয়ে আপত্তি রয়েছে ভারতের। কেননা আজও পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ভারত-পাক কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে এক বিতর্কিত বিষয়।

চিনে তখন রাজতন্ত্র। রাজা হানের শাসনকাল। যিশুর জন্মেরও ২০৬ বছর আগেকার কথা। সিল্ক রুট দিয়ে পশ্চিম দেশে বাণিজ্যিক যাতায়াত শুরু হয়। চিন, আফগানিস্তান, কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান হয়ে ইওরোপের সঙ্গে পণ্য আদানপ্রদান শুরু করে চিন। একইসঙ্গে জুড়ে যায় ভারত এবং পাকিস্তান। তখন অবশ্য ভারত অবিভক্ত। এই সিল্ক রুটের বাণিজ্যিক আদান প্রদানের মধ্য দিয়েই মধ্য-এশিয়া শিল্প-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। যেখানে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের সংস্কৃতি, ধর্ম, লোকাচার সবকিছুরই মেলবন্ধন ঘটে। চিনা সিল্ক, মশলা, জেড পাথরের কদর বাড়ে ইওরোপে। ইওরোপ থেকে চিন নিয়ে আসে সোনা, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতু, আইভরি এবং কাচ। মধ্যযুগের বাইজেনটাইন সভ্য়তায়, এবং চিনে তাং রাজত্বে সিল্ক-রুট বাণিজ্য ফুলেফেঁপে ওঠে। নতুন এই সিল্ক-রুটের কী পরিকল্পনা করেছে চিন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আমিষ নয়, অতিথিদের কেন নিরামিষ খাওয়াল ভারত?

G20 Summit Veg Food: দেবদেবীদের পুজোয় মাংস অর্পণ করা হত, বৌদ্ধদের মধ্যেও মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল।

২০১৩। ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান সফরে যান চিনা প্রেসিডেন্ট ঝি জিং পিং। ওই সফরেই প্রথম বার 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্পের ঘোষণা করেন চিনা প্রেসিডেন্ট। প্রকল্পের দুই ডানা। একটা স্থলপথে সিল্ক রোড বাণিজ্যিক বেল্ট, অন্যটি সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই দুই ডানাকেই এক করে এখন 'রোড অ্যান্ড বোল্ট' প্রকল্প বলা হচ্ছে। কী করতে চাইছে চিন? রেলপথের মাধ্যমে এক বড় মাপের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাইছে। যেখানে থাকবে এনার্জি পাইপলাইন, হাইওয়ে, সহজ সীমান্তপার বাণিজ্যনীতি। যে যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে উত্তরে একদা সোভিয়েত সাম্রাজ্যের পাহাড় পেরিয়ে, আবার থাকবে দক্ষিণে ভারত বা পাকিস্তান এমনকি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গেও। চিনের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বেশি করে চিনা মুদ্রা রেনমিনবির লেনদেন। চিন সেই লক্ষ্যেই হাজার হাজার এসইজেডে বিনিয়োগ করেছে। শিল্পাঞ্চল এলাকা তৈরি করেছে। কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা করেছে। চিনের বৃহৎ টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা হুয়াওয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশকে প্রযুক্তিগত সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।

ভারতের নজর অবশ্যই চিন-পাকিস্তান বাণিজ্যিক করিডরের দিকে। চিনের কাশগর থেকে কারাকোরাম হাইওয়ে হয়ে যে সড়ক পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ভিতর দিয়ে পাকিস্তানে ঢুকছে। শেষ হচ্ছে বালুচ প্রদেশের গ্বাদর বন্দরে। চিনের লক্ষ্য আরব সাগরে বাণিজ্য সম্ভার বৃদ্ধি। এই প্রকল্পে চিন ইতিমধ্যেই এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা সব মিলিয়ে প্রকল্পের খরচ ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎআট লক্ষ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলতে পারে।

বিতর্কিত পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ভিতর দিয়ে বাণিজ্যিক করিডর নিয়ে যাওয়ার অর্থ, কূটনৈতিক ভাবে পাকিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়া। অন্তত দখলে রাখা কাশ্মীরের জমির প্রশ্নে। চিনের এই পদক্ষেপ ভারতকে ভাবাচ্ছে। তাই গ্রুপ অফ সেভেন গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য ইতালি যদি সত্যিই শেষপর্যন্ত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যায়, তা হলে চিন খানিকটা হলেও ধাক্কা খাবে। জি-২০-র সামিটে এই বিষয়টাকেই ভারতীয় কূটনৈতিক শিবিরের একাংশ দেশের জয় হিসেবে দেখছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।