ডিজিটাল কন্ডোম! অনলাইনে বিপদ থেকে বাঁচার কী এই নয়া অস্ত্র?

Digital Condom: বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে, ৪০% এরও বেশি ব্যক্তি সম্মতিহীন রেকর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
ডিজিটাল কন্ডোম! অনলাইনে বিপদ থেকে বাঁচার কী এই নয়া অস্ত্র?

ডিজিটাল কন্ডোম। নিরাপদ যৌনতা নিশ্চিত করা ও অবাঞ্ছিত যৌন রোগ এবং গর্ভধারণ থেকে কন্ডোম কিছুটা নিরাপত্তা জোগায় ঠিকই। কিন্তু ডিজিটাল কন্ডোম? ডিজিটাল গোপনীয়তা নিয়ে ক্রমেই বিশ্বে উদ্বেগ বাড়ছে। এবার সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা জোগাতে ডিজিটাল কন্ডোমের আবির্ভাব! আসলে এটি একটি নতুন অ্যাপ। ধরা যাক, কারও সঙ্গে কথা বলছেন আপনি। সে আপনার অনুমতি ছাড়াই আপনার সেই কথোপকথন রেকর্ড করে রাখল। এমন অসম্মতিমূলক রেকর্ডিং থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষিত করাই এই 'ডিজিটাল কন্ডোম'-এর লক্ষ্য।

জার্মানির একটি যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্র্যান্ড এই অ্যাপ তৈরি করেছে। মানুষের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলিকে নিরাপদে রাখতে চায় এই অ্যাপ। অ্যাপটি ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাছাকাছি থাকা অন্য ডিভাইসগুলিতে রেকর্ডিং ফাংশনগুলিকে ব্লক করে দেয়, আপনার গোপনীয়তা রক্ষা করে৷ এই অ্যাপের ডেভেলপাররা বলছেন, "এটি আপনার ফোনে ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন ব্লক করে দেয়। ফলে আপনার সম্মতি ছাড়াই ফটো, ফিল্ম বা রেকর্ডিং করা সম্ভব হয় না।" এই অ্যাপে সামান্য সোয়াইপ করলে এই 'ব্যারিয়ার'-টি সক্রিয় হয়ে যায়। ফলে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলি নিরাপদ থাকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এআই প্রয়োগে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম: কতটা বিপদের মুখে আপনি?

AI misuses in India: শুধু ভুয়ো ভিডিও বা গলা নকল করার মাধ্যমে নানা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর সীমাবদ্ধ থাকছে না। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আর্থিক জালিয়াতির নানা ঘটনা।

কিন্তু পৃথিবীতে এত তালা সত্ত্বেও চুরি তো কমেনি। তাই যদি অ্যাপ ব্যবহার করে রেকর্ডিং ব্লক করানো যায়, অন্য অ্যাপ দিয়ে সেই শেকল ভাঙা যাবে না এমন নিশ্চয়তা আছে কি? নির্মাতারা জানাচ্ছেন, এই অ্যাপটিতে একটি বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যদি কেউ বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বা ডিভাইসগুলির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে, তবে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে দিয়ে একটি অ্যালার্ম বাজবে। যা অ্যাপের গোপনীয়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। অ্যাপ নির্মাতারা বলছেন, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সম্মতিহীন ডিজিটাল রেকর্ডিংয়ের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। এই ভয়াবহ সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে কাজ করছে এই অ্যাপ। গোপন কোনও কথা বা মুহূর্ত অজান্তে রেকর্ড করে নিয়ে পরে সেই মুহূর্তের ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করে হেনস্থা করা নতুন ঘটনা নয়। এই ঘটনাগুলির ফলে যে তীব্র মানসিক আঘাত তৈরি হচ্ছে তাতে ডিপ্রেশনের মতো সমস্যা তো বাড়ছেই, বিচার হওয়ার আগেই চাকরি হারাচ্ছেন মানুষ, এমনকী আত্মহত্যার চিন্তাভাবনাও করছেন। এই সঙ্কটের আবহে এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন অ্যাপ নির্মাতারা।

স্মার্টফোনের রেকর্ডিং বিষয়টি ব্লক করতে ব্লুটুথ ব্যবহার করে গোপনীয়তা রক্ষা কতটা কার্যকর? Neurix.ai-এর প্রতিষ্ঠাতা পোরাস প্রতাপ সিং বলছেন, "ডিজিটাল কন্ডোমের মতো ব্লুটুথ-বেসড প্রাইভেসি টুল নিরাপদ ব্লুটুথ সংযোগ স্থাপন করে স্মার্টফোন ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনগুলিকে ব্লক করে দেয়৷ এই পদ্ধতিতে চাইলেই অননুমোদিত রেকর্ডিং করা যায় না কিন্তু হ্যাঁ, এরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছেই। ব্লুটুথ হ্যাকিং এবং নানা ডিভাইসে সেই ব্লুটুথের সংযোগের সামঞ্জস্যের সমস্যাগুলি বাস্তব এক্ষেত্রেও।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: যন্ত্রের যন্ত্রণা নাকি আধুনিক যুগের শাণিত হাতিয়ার?

Artificial Intelligence: কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞান— সব ক্ষেত্রেই জয়জয়কার এই কৃত্রিম মেধার। AI-এর ছাতার এই যে বহুমুখী বিস্তার, এর কোনও ক্ষতিকর দিক নেই তো?

তিনি আরও জানিয়েছেন, "সাইবারসিকিউরিটি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ব্লুটুথ সিস্টেমের 'ম্যান-ইন-দ্য-মিডল' আক্রমণের দুর্বলতা তুলে ধরা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে হ্যাকাররা ডেটা আটকায়। তাই যতই প্রতিশ্রুতি দিক না কেন, নিরাপত্তার এই সমাধানগুলি ১০০% গ্যারান্টি দিতে পারে না। কার্যকরী থাকার জন্য ঘন ঘন আপডেটের প্রয়োজন হতে পারে।"

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্মতিহীন রেকর্ডিং, বিশেষ করে অন্তরঙ্গ বা ব্যক্তিগত কোনও মুহূর্তের কথা ও ভিডিও ফাঁস করে দেওয়া গোপনীয়তার বিধির গুরুতর লঙ্ঘন। মানসিক যন্ত্রণা, ব্ল্যাকমেল এবং দুর্নামের মতো নানা জটিলতায় পড়ে কোনও ব্যক্তির স্থায়ী মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি হতে যেতে পারে। এই ডিজিটাল কন্ডোমের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনের অ্যাক্সেস ব্লক করা হয়, অর্থাৎ এই জাতীয় আক্রমণগুলির সম্ভাবনাকে হ্রাস করে দেওয়া হয়। ডিজিটাল গোপনীয়তা আইন নিয়ে হওয়া বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে, ৪০% এরও বেশি ব্যক্তি সম্মতিহীন রেকর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে। তারা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপে ভুগেছেন।

মনোবিদরা বলছেন, এই ধরনের অ্যাপ যদি মানসিক সুস্থতা আর সামাজিক নিরাপত্তা বজ্য রাখতে পারে তাহলে তা বেশ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মানুষরা ঘন ঘন অনলাইন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। কীভাবে ডিজিটালি নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায় সেই বিষয়ে যদি প্রযুক্তিই মানুষকে সাহায্য করতে পারে তাহলে ক্ষতি কী! জার্নাল অফ অ্যাডোলসেন্ট হেলথ-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে ৬০% তরুণ, যারা অনলাইনে হেনস্থার শিকার হয়েছেন তারা জানিয়েছেন, প্রবল মানসিক চাপে ভুগেছেন তারা। কোণঠাসা হয়ে গেছেন, বাড়ি থেকে না বেরিয়ে নিজেকে নিজেরাই একঘরে করে নিয়েছেন। ফলে ডিজিটাল কন্ডোমের মতো গোপনীয়তা রক্ষকারী অ্যাপের গুরুত্ব অস্বীকার করা যাচ্ছে না।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?