মশলাপথের দেওয়ালে মিশে থাকা ইতিহাসের ইতিবৃত্ত

New Spice Route: ভারতের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য,দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার বাণিজ্য প্রথা খ্রিস্টীয় ১ম শতাব্দি থেকেই প্রচলিত ছিল।

Manjima Dasgupta
৩ মিনিট
মশলাপথের দেওয়ালে মিশে থাকা ইতিহাসের ইতিবৃত্ত

জি-২০ উপলক্ষে একগুচ্ছ নতুন ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ইতিমধ্যেই আলোড়ন ফেলেছে অর্থনৈতিক মহলে। তা হল, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডর ঘোষণা। এই নতুন বাণিজ্যপথ কি বিশ্বের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল? চিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এই সিদ্ধান্ত, জল্পনা একাংশের মধ্যে।

ওল্ড স্পাইস রুট:

স্পাইস রুট একটি সামুদ্রিক গতিপথ যা পূর্ববিশ্বের সাথে পশ্চিমের যোগাযোগ রক্ষা করত।জাপানের পশ্চিম উপকূল থেকে, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জের মধ্য দিয়ে, ভারতের চারপাশে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে এই পথ প্রসারিত ছিল - এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তারিত ছিল ওল্ড স্পাইস রুট। ১৫০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল এই যাত্রাপথ। ইউনেসকো জানাচ্ছে, প্রাথমিকভাবে এই যাত্রাপথের অন্তর্গত ছোট ছোট বন্দর ধরে যাতায়াত শুরু হয়েছিল। কিন্তু শতাব্দীর সাথে সাথে বাণিজ্য জাহাজ ক্রমশই দূর-দূরান্ত পাড়ি দিতে শিখেছে এই পথ ধরে। মুখ্যত এই পথ ধরে বাণিজ্যের দিগন্তই খুলে গেছিল সারা বিশ্বের সামনে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জি২০: লাভের গুড় ঘরে তুলতে পারল ভারত?

Resolutions of G20 summit 2023: সকলে আশঙ্কা করেছিলেন ইউক্রেন সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চিন এবং রাশিয়া বিরোধিতা করবে।

নিউ স্পাইস রুট:

এ তো গেল ইতিহাসের কথা। আসা যাক বর্তমান প্রসঙ্গে। এখনও টাটকা স্মৃতি জি-২০ -এর সম্মেলন। সেখানেই ঘোষণা হয়েছে নতুন যাত্রাপথটির। ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপের বাণিজ্যিক যাতায়াতের প্রয়োজনে যে 'নিউ স্পাইস রুট'টির কথা ঘোষণা করা হয়েছে তা দুটি করিডোর নিয়ে গঠন করা হবে- 'ইস্ট ওয়েস্ট' বা পূর্ব পশ্চিম এবং 'নর্দার্ন করিডোর' অর্থাৎ উত্তরের যাত্রাপথ। প্রাথমিকভাবে জলপথে এবং ক্রমশ রেলপথে ভারতের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যোগাযোগ তৈরি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে যেমন চিনের 'বেল্ড এণ্ড রোড' কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। ঠিক তেমনই, পাকিস্তানের উপরও বাণিজ্যিক যাত্রাপথের জন্য নির্ভরশীল থাকতে হবেনা ভারতকে। জি-২০ -এর মঞ্চে এই অর্থনৈতিক যাত্রাপথের ঘোষণা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছেন, এই 'করিডোর' স্থাপনের মধ্যে দিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক নতুন দিশা পাবে।

গতিপথের রাজনীতি:

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইন্ডিয়া নয়, ভারতেই জোর মোদির! জি-২০ তে স্পষ্ট হচ্ছে যেসব ইশারা

G20 Prime Minister of Bharat : ৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই ভারতের টুইটার ট্রেন্ডিং তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে রয়েছে 'Prime Minister of Bharat'।

উল্লেখ্য, এই ঘোষণার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স এবং প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমন আল সাউদ, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন এবং

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই যৌথ ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত রাজনীতিবিদদের। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জগতে ভারতের যাতায়াত অনেক বেশি সুগম হবে তাই নয়, বহু ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের উপর নির্ভরতাও কমে যাবে।

কী ব্যবসা হত 'ওল্ড স্পাইস রুটে'?

সুতি, রঙ করা পাথর,মশলা,সুগন্ধী দ্রব্য,আয়ুর্বেদ ওষুধ প্রভৃতি একাধিক দ্রব্য সুপ্রাচীন কাল থেকে এই যাত্রাপথের মাধ্যমে রপ্তানি করে এসেছে ভারত। প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য,দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার বাণিজ্য প্রথা খ্রিস্টীয় ১ম শতাব্দি থেকেই প্রচলিত ছিল। বহু পরে এই বাণিজ্যপথটির নাম হয় 'সিল্ক রুট'। ভারত আয়ুর্বেদ চিকিৎসার জন্মভূমি হিসেবে ঔষদগুণ সমৃদ্ধ বহু গাছ,শিকড় সারা বিশ্বে রপ্তানি করত। খ্রিষ্টীয় উনিশ শতকে মধ্য এশিয়ায় একটি বৌদ্ধ স্তূপ আবিষ্কৃত হয়। সেখানে পাওয়া এক বৌদ্ধ চিকিৎসকের নোটবইতে ভারতের প্রাচীন ভেষজ উদ্ভিদের উল্লেখ পাওয়া যায়। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল ১২.৯.২৩ তারিখে 'Indian Express'- কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে ভারতের দারুচিনি, মুক্তো, হাতির দাঁতের চাহিদা ছিল প্রবল।

উনিশ শতকে কৃত্রিম রঙ উৎপাদনের আগে পর্যন্ত ইউরোপের কাছে ভারতই ছিল নীল রঙ এবং নীল রঙের সুতির প্রধান উৎসস্থল। ইউরোপের রেনেঁসাতেও ভারতীয় মশলা প্রায় অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছিল।

হারানো গৌরব ফেরাতে মরিয়া মোদি? নাকি নিছকই সারা বিশ্ব থেকে আগত প্রতিনিধিদের ঢাল করে পাকিস্তানকে কিস্তিমাত করা চাল চাললেন তিনি? চিনকে ফেলতে চাইলেন বিপাকে। সেই দিকে চোখ গোটা বিশ্বের। নতুন স্পাইস রুটে কী কী বাণিজ্য হবে? বিগত বেশ কিছু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য, সৌদি আরব, ইজরায়েলের মতো দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ কিছুটা হলেও মজবুত হয়েছে। নতুন স্পাইস রুটের মধ্যে দিয়ে পুরনো সম্পর্কই পুনর্স্থাপিত হতে চলেছে। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

লিখেছেন
Manjima Dasgupta
Manjima Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।