অবশেষে রহস্যভেদ! যে বাগানে নিষিদ্ধ ফল খেয়েছিল আদম ইভ, জানেন বাস্তবে কোথায় অবস্থিত?

Adam and Eve Eden garden Location: বাগানটি এমন জায়গায় অবস্থিত ছিল যেখানে চারটি নদী মিলিত হয়েছে। আমরা এই নদীগুলির মধ্যে দু'টিকে চিনিও: টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস

inscript
৩ মিনিট
অবশেষে রহস্যভেদ! যে বাগানে নিষিদ্ধ ফল খেয়েছিল আদম ইভ, জানেন বাস্তবে কোথায় অবস্থিত?

ইডেন গার্ডেন। নাহ, কলকাতা শহরের খেলার মাঠ নয়। বাইবেলে লেখা এমন একটি স্থান যা খ্রিস্টধর্ম এবং ইহুদি ধর্মের কল্পনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু এই ইডেন গার্ডেন কি সবটাই কল্পনা? নাকি বাস্তবে কোনও জায়গা ছিল সত্যিই? যদি থেকে থাকে তাহলে সেটি কোথায়? এ নিয়ে সন্দেহই নেই যে ইডেন গার্ডেন এক আস্ত প্রতীক এবং এই কাহিনির এমন অনেক দিক রয়েছে যা যুক্তিসঙ্গত অবস্থান থেকে বোঝা সম্ভবই নয় (যেমন কথা বলা সাপ)! কিন্তু ইডেন গার্ডেন কি বাস্তবে রয়েছে কোথাও? কোন জায়গায় রয়েছে সেই বাগান যেখানে আদম আর ইভ 'নিষিদ্ধ ফল' খেয়েছিলেন?

ইডেনেই মানুষ প্রথম তৈরি হয়েছিল। প্রথম দুই মানুষ, অ্যাডাম এবং ইভ, নগ্ন দুই আদিম চরিত্র এই বাগানেই ঘুরে বেড়াত। একদিন একটি নিষিদ্ধ ফল তাদের (এবং সমস্ত মানবজাতিকে) গভীর সমস্যায় ফেলল। বাইবেলের প্রতীকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই গল্পটিতে বোঝানো হয় যে, কীভাবে মানুষ শিশুসদৃশ নিষ্পাপ মন এবং আনন্দ থেকে ধীরে ধীরে স্বাধীন ইচ্ছা এবং জ্ঞান এবং সেইসঙ্গে যা কিছু খারাপ আর মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।

বাগানের অবস্থান বোঝাতে লেখা হয়েছে, “এবং বাগানে জল দেওয়ার জন্য একটি নদী বেরিয়েছিল ইডেন থেকে; সেখান থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে চারটি শাখা হয়ে গেল। প্রথমটির নাম পিশোন; এটাই হাবিলার সমগ্র দেশকে ঘিরে আছে। এই দেশে সোনা আছে, বিডেলিয়াম এবং গোমেদ পাথর আছে। আর দ্বিতীয় নদীর নাম গিহোন; এই নদী কুশের সমস্ত দেশকে ঘিরে রেখেছে। আর তৃতীয় নদীর নাম টাইগ্রিস; সেটিই আশূরের পূর্ব দিকে যাচ্ছে। আর চতুর্থ নদী হল ইউফ্রেটিস।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অবশেষে রহস্য উদ্ধার! কোথায় বসে আছেন ভিঞ্চির মোনালিসা? জানলে চমকে উঠবেন...

Mona Lisa Painting Location: ১৫০১ থেকে ১৫০৩ সালের মধ্যে এই সেতুটি ছিল এলাকার অন্যতম ব্যস্ত সেতু।

তাহলে বোঝা যাচ্ছে, এই বাগানটি এমন জায়গায় অবস্থিত ছিল যেখানে চারটি নদী মিলিত হয়েছে। আমরা এই নদীগুলির মধ্যে দু'টিকে চিনিও: টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস, যা তুরস্কে উৎপত্তি হয়ে সিরিয়া এবং ইরাকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পারস্য উপসাগরে পড়েছে। যাইহোক, পিশোন এবং গিহোন আসলে কোন নদী তা বোঝা যাচ্ছে না স্পষ্টভাবে। গত কয়েক শতাব্দী ধরে, কিছু ধর্মতত্ত্ববিদ অনুমান করেছেন যে, এই দু'টি নদী ভারতের গঙ্গা এবং মিশরের নীল নদও হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে যা দূরত্ব দাঁড়ায় তা খুব একটা যুক্তিসঙ্গত নয়।

টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর উল্লেখের উপর ভিত্তি করে অনুমান করা যায় যে ইডেন উদ্যানটি ইরাক এবং ইরানের একটি এলাকা হতে পারে যেখানে এই দু'টি নদী পারস্য উপসাগরের কাছে মিলিত হয়েছে। বিশেষ করে, ইরান-ইরাক সীমান্তে শাট আল-আরব নামে একটি নদী রয়েছে যা ইউফ্রেটিস এবং টাইগ্রিস নদীর সঙ্গমস্থলে গঠিত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আদিম মানুষের ক্যালেন্ডার আবিষ্কার হলো যেভাবে...

Ancient Cave Art Calendar: গুহার ভিতর বসবাসের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব, এই গুহাগুলিতে মানুষের যাতায়াত ছিল কেবলমাত্র ছবি আঁকার তাড়নায়। আর্ট স্কুল?

ইডেন উদ্যান তাহলে কোথায় অবস্থিত?

আরও বৈজ্ঞানিক দিক দিয়ে ভাবতে হলে, যদি আমরা বিশ্বাস করি যে ইডেন গার্ডেন মানুষের উৎপত্তির প্রতীক, তাহলে নিঃসন্দেহে আফ্রিকার দিকেই তাকাতে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় জোহানেসবার্গের প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এই ইডেন গার্ডেনের অবস্থা হতে পারে। এই জায়গাটিতেই মানুষের পূর্বপুরুষের অবশেষের মিলেছে সবচেয়ে বেশি। এখানে পাওয়া হাজার হাজার জীবাশ্মের মধ্যে, গবেষকরা অস্ট্রালোপিথেকাসের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন। অস্ট্রালোপিথেকাস একটি প্রাথমিক বানরের মতো মানব প্রজাতি যাদের বয়স প্রায় ৩.৪ থেকে ৩.৭ মিলিয়ন বছর।

২০০,০০ থেকে ৩০০,০০০ বছর আগে আধুনিক হোমো স্যাপিয়েন্স বিবর্তিত হয়নি। আফ্রিকাই ছিল মানুষের ক্রমবিকাশের অবস্থান। আধুনিক মানুষ সম্ভবত আধুনিক ইথিওপিয়ার আশেপাশে কোথাও আবির্ভূত হয়েছিল।

সুতরাং, ইডেন উদ্যান যদি সত্যিই থেকে থাকে তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইথিওপিয়াতেই তা থাকতে পারে৷ প্রাচীন চারটি নদী এখানে মিলিত হয়েছিল কিনা গবেষণা চলছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।