এক হ্যায় তো সেফ হ্যায় মন্ত্রেই ম্যাজিক? কীভাবে মহারাষ্ট্র দখল করল বিজেপি?

Maharashtra Election Result 2024: লোকসভা নির্বাচনের পরেই 'লাডলি বহিন যোজনা' চালু করার পরে রাজ্যের আড়াই কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে চার মাসের টাকা একসঙ্গে পাঠানো হয়।

inscript
৩ মিনিট
এক হ্যায় তো সেফ হ্যায় মন্ত্রেই ম্যাজিক? কীভাবে মহারাষ্ট্র দখল করল বিজেপি?

মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে বিজেপি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিল বছর খানেক আগেই। বালাসাহেবের দল যে ভেঙে টুকরো হয়ে যেতে পারে, বালাসাহেবের বংশই যে ক্রমে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে তা ক্রমেই বাস্তব হয়ে গেল। তবু, কিঞ্চিৎ আশা ছিল গত লোকসভা ভোটেও। মে মাসে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাড়ি মহারাষ্ট্রের মোট ৪৮টি আসনের মধ্যে ৩০টি আসন জিতেছিল। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই ছবিটা সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলছেন, এই জয় উন্নয়নের জয়, সুশাসনের জয়। সত্যিই কি উন্নয়ন আর সুশাসনের বলে মহারাষ্ট্র দখল করল বিজেপি?

লোকসভা ভোটের ফলাফলের পরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছিলেন, জিততে মরিয়া বিজেপি এত সহজে হাল ছাড়বে না। লোকসভায় হার ছিল কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে। আবার একাংশের বিশ্লেষকরা বলছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও তার নেতৃত্বাধীন ‘মহায়ুতি’ জোট বড়সড় ধাক্কা খাবে আবার। কিন্তু মহারাষ্ট্র নির্বচনের ফল দেখিয়ে দিল, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট কেবল বিপুল সংখ্যক আসনে জেতেনি, বিজেপি একাই রাজ্যের বৃহত্তম দল হিসাবে উঠে এসেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মহারাষ্ট্র নির্বাচন ২০২৪: কেন মোদি বা রাহুলের হাতেই নেই এই নির্বাচনের ফলাফল?

Maharashtra Assembly Election 2024: এবারের মহারাষ্ট্র নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হবে কীভাবে প্রার্থীরা নিজেদের অর্থবল দিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর লোকজনকে নিজের দিকে নিতে পারবেন তার উপর।

লোকসভায় ভরাডুবির পর কী এমন ম্যাজিক বিজেপি ঘটাতে পারল যাতে বিধানসভা মাত্র পাঁচ মাসে চলে এল দখলে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, লোকসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘মহায়ুতি’ জোট যে ভুল করেছিল, তা এবারে আর করেনি। ‘মহায়ুতি’ জোট অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি অর্থাৎ ওবিসি ভোটারদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করেছিল। উত্তর মহারাষ্ট্রে, যেখানে সবথেকে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়, সেখানে কৃষকরা পেঁয়াজ রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। সরকার তাদের জন্য স্পষ্ট নীতি ঘোষণা করেছে। ফলে আস্থা ফিরেছে মানুষের।

এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়েছেন অজিত পাওয়ার। গত কয়েক বছরে কেবল তো শিবসেনায় শিবির ভাগ হয়নি। ভেঙেছে শরদ পাওয়ারের এনসিপিও। বর্ষীয়ান নেতা শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার বিজেপির হাত ধরেছেন, আলাদা এনসিপি শিবির গড়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগের ভোটে বিজেপি ভোটার এবং দলীয় কর্মীদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছিল যে জোটসঙ্গী অজিত পাওয়ারের এনসিপি দলকে কেন ভোট দেওয়া দরকার। লোকসভায় হারের পর থেকে অজিতের এনসিপি শিবিরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভোট চেয়েছে বিজেপি। লাভের গুড় ঘরেও তুলেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোন মন্ত্রে ওয়ানাড়ে রাহুল গান্ধির চেয়েও বেশি ভোটে জয় প্রিয়াঙ্কা গান্ধির?

Priyanka Gandhi’s Wayanad victory: রাহুল গান্ধির রেকর্ড ভেঙে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি কেরলের ওয়ানাড় লোকসভা কেন্দ্রে একাই প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

তবে এর চেয়েও বড় কিস্তিমাৎ হয়েছে একটি প্রকল্পে। মহারাষ্ট্রে 'লাডলি বহিন যোজনা' প্রকল্পটিই হয়েছে ‘গেম চেঞ্জার’। লাডলি বহিন প্রকল্পে প্রতি মাসে মহিলারা ১৫০০ টাকা পেয়ে থাকেন। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম, সেসব পরিবারের ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পান। খানিকটা এই বাংলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মতোই। এই রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যেমন তৃণমূলকে ক্ষমতায় থাকতে বিপুল ভোট জোগায়, মহারাষ্ট্রেও এবার একই ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, লোকসভা নির্বাচনের পরেই 'লাডলি বহিন যোজনা' চালু করার পরে রাজ্যের আড়াই কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে চার মাসের টাকা একসঙ্গে পাঠানো হয়। এত বড় সংখ্যক টাকা পিছিয়ে পড়া, অর্থনৈতিকভাবে পরাধীন থাকা মহিলাদের ভোট বিজেপিতে নিশ্চিত করেছে।

এর পাশাপাশি আছে হিন্দুত্বের নীতি। বিজেপি এবার স্লোগান তুলেছিল 'বাটেঙ্গে তো কাটেঙ্গে’। এমন উস্কানিতে হিন্দুভোটও বিজেপির শিবিরেই গেছে। বৌদ্ধ ও দলিত ভোট আর মুসলিম ভোট বিরোধীরা পেলেও তাতে লাভ হয়নি। মোদি বারবার বলেছেন 'এক হ্যায় তো সেফ হ্যায়'। এই দু'টি স্লোগানে হিন্দু ভোট একজোট হয়েছে সফলভাবেই। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি বিজেপির মূল অস্ত্র কিন্তু কংগ্রেস পাল্টা কোনও রাজনীতির ধারা তৈরি করতে পারেনি। যার ফলে এই জয় ছিল অবশ্যম্ভাবী।

মহারাষ্ট্র নির্বাচনে বিরোধী ‘মহা বিকাশ আঘাড়ি’ জোটে ১০১টি আসনে লড়েছিল কংগ্রেস। তবে লোকসভা ভোটের ম্যাজিকটি আর কাজ করেনি। মহায়ুতি সরকারের ১৫০০ টাকার লাডলি বহিন প্রকল্পের ব্যাপক সমালোচনা করেছিল মহা বিকাশ আঘাড়ি জোট। তারপর আবার নিজেরাই নিজেদের নির্বাচনি ইস্তেহারে মেয়েদের ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রকল্পের কথা বলে। এই বিষয়টি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। কংগ্রেস-শিবসেনায় মতানৈক্য এই হারের পিছনে বড় কারণ। রাহুল গান্ধি বুঝতে পারেননি, মহারাষ্ট্রে দাঁড়িয়ে আদানি, ধারাভি বস্তি এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো ইস্যু দিয়ে আর ভোটে জেতা যায় না।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।