আমিষ নয়, অতিথিদের কেন নিরামিষ খাওয়াল ভারত?

G20 Summit Veg Food: দেবদেবীদের পুজোয় মাংস অর্পণ করা হত, বৌদ্ধদের মধ্যেও মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল।

inscript
৩ মিনিট
আমিষ নয়, অতিথিদের কেন নিরামিষ খাওয়াল ভারত?

জি২০ সামিট উপলক্ষে সেজে উঠেছিল রাজধানী দিল্লি। দেশ-বিদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের জন্য নৈশভোজের আয়োজনও ছিল এলাহি। কিন্তু নিরামিষ খাবার কেন? ভারতের খাদ্যাভ্যাস কি নিতান্তই নিরামিষাশী? প্রশ্ন উঠছে সামাজিক মাধ্যম থেকে চায়ের ঠেকে। চলছে বিতর্ক। নৈশভোজের খাদ্যতালিকা যে আসল ভারতের সংস্কৃতির পরিচায়ক তা কে না জানে! প্রথমে দেখে নেওয়া যাক কী ছিল খাদ্য তালিকায়।

খাদ্য তালিকা:

বাজরার উপস্থিতি জি২০-এর খাদ্যতালিকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। চলতি ২০২৩ বর্ষটিকে বাজরা বর্ষ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। তাই কি বাজরার আধিক্য দেখা গেল প্রতিনিধিদের পাতে? প্রতিটি খাদ্যেরই নামকরণ করা হয়েছিল ভারতীয় কায়দায়। যেমন কোনওটার নাম ছিল 'পাত্রম' তো কোনওটার নাম 'মধুরিমা'। পানীয়ের তালিকায় ছিল দার্জিলিং চা, কফি এবং কাশ্মীরি কাহওয়া। এছাড়া ছিল, বাজরার রুটি, মুম্বইয়ের পাওভাজি, টক দই, কাঁঠাল এবং মাশরুম সহযোগে নির্মিত ভাত ইত্যাদি। জানা গেছে, বাংলার রসগোল্লা, বিভিন্ন চাট,এমনকি ফুচকাও জায়গা করে নিয়েছে জি২০ সম্মেলনে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জি২০: লাভের গুড় ঘরে তুলতে পারল ভারত?

Resolutions of G20 summit 2023: সকলে আশঙ্কা করেছিলেন ইউক্রেন সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চিন এবং রাশিয়া বিরোধিতা করবে।

খাদ্যগুণ:

আমিষ খাবার মূলত প্রোটিন সর্বস্ব। নিরামিষ খাবার খেয়ে প্রোটিনের সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব? উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ সম্ভব। কিন্তু তা সম্ভব জি২০ -এর নৈশভোজে। মিড ডে মিলের পাতে নয়। কারণ তার দ্রব্যমূল্য বেশি, এবং বাজারে মেলে কম। আসা যাক জি২০ -এর বিশেষ আকর্ষণ বাজরা প্রসঙ্গে। বাজরা চাষ করা সহজ। যেকোনও ধরনের মাটিতে বাজরা চাষ করা যায়। বাজরা প্রোটিন, তন্তু, খনিজ এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার। যা এশিয়া এবং আফ্রিকার জনজাতির মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। মিলেটের খাবারকে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে ভারত নিজস্ব ঘরানার খাদ্যদ্রব্যকেই পরিচিতি এনে দিতে চেয়েছে।

প্রাচীন ভারতের খাদ্যাভ্যাস:

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইন্ডিয়া নয়, ভারতেই জোর মোদির! জি-২০ তে স্পষ্ট হচ্ছে যেসব ইশারা

G20 Prime Minister of Bharat : ৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই ভারতের টুইটার ট্রেন্ডিং তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে রয়েছে 'Prime Minister of Bharat'।

ভারতের খাদ্যাভ্যাস প্রায় ৮০০০ বছর ধরে চলে আসা ইতিহাসের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। এই খাদ্যাভ্যাসে যেমন ধর্মের প্রভাব রয়েছে, একইভাবে রয়েছে সংস্কৃতির প্রভাব, ভৌগলিক প্রভাব। নদীমাতৃক অঞ্চলে মাছ খাওয়ার অভ্যাস বেশি গড়ে উঠেছে। এছাড়াও চাষাবাদের রীতি অনুযায়ী অঞ্চলভেদে খাদ্যাভ্যাস নির্ভর করেছে। প্রাচীন ভারতে যদিও নিরামিষ ভোজনের কোনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নিয়ম দেখা যায়নি। বরং, দেবদেবীদের পুজোয় মাংস অর্পণ করা হত, বৌদ্ধদের মধ্যেও মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল। আবার অনেকেই ছিলেন যাঁরা নিরামিষভোজী। কিন্তু ভারতের সংবিধান গড়ে ওঠার পর, ক্রমশ সমন্বয়ের বার্তার মধ্যে দিয়ে সমস্ত সংস্কৃতিই ঐক্যের পথে হেঁটেছে।

কেন নিরামিষ খাবার:

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে নিরামিষভোজী। তাঁর পছন্দেই কি খাদ্যতালিকায় নিরামিষ খাবারের ছড়াছড়ি? উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু ভারতের সংস্কৃতি ঐক্যের বার্তা দেয়। এই ভারতে দক্ষিণ ভারতীয় ধোসা,ইডলি যেমন প্রচলিত, তেমনই প্রচলিত লক্ষ্ণৌ- এর কাবাব, বাংলার মাছ। যদিও, বর্তমান কেন্দ্র সরকার বহুদিন থেকেই নিরামিষ খাওয়ার প্রচলনকে কিছুটা জোর করেই চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এসেছে। যার প্রমাণ গান্ধিজির জন্মদিনকে 'নিরামিষ দিবস' ঘোষণা, নবরাত্রিতে হরিয়ানা,উত্তরপ্রদেশে মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করা, এমনকি একাধিক রাজ্যের মিড-ডে মিলে আমিষ বন্ধ করা। এই ভারতেই গো-মাংস খাওয়ার 'অপরাধে' খুন হতে হয়েছে মহম্মদ আখলাককে। প্রশ্ন জাগে এই নিরামিষ আগ্রাসনের পেছনে আসলে কোন রাজনীতি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে শুক্রবার রাতেই পৌঁছোতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে। উল্লেখ্য, তাঁর নৈশভোজেও নিরামিষ ছোঁয়াই দেখা গেল। সোনা-রুপোর তৈরি থালায় তাঁকে খেতে দেখা গেছে বাংলা বিহারের নানা ধরনের পদ। সব বিতর্কের পরে এই কথা উল্লেখ করতেই হয়, নিঃসন্দেহে খাদ্যতালিকা নির্বাচনে ভারত কূটনৈতিক বুদ্ধির পরিচয় দেখিয়েছে। বর্তমানে শাসকদল এক দেশ,এক নাম, এক নির্বাচনের পথে হাঁটছে। জি-২০-র খাদ্যশস্য নির্ভর খাদ্যতালিকাও বহুত্বকে নস্যাৎ করে একের পুজোই করল না কি?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।