মহম্মদ ইউনূসই অন্তত আরও চার বছর দায়িত্বে? নির্বাচন কবে হবে বাংলাদেশে?

Muhammad Yunus: ইউনূস স্বীকার করেছেন যে, হিন্দু সহ সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশে বিক্ষোভের পর হিংসার সম্মুখীন হয়েছেন ঠিকই কিন্তু এটি তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়।

inscript
৩ মিনিট
মহম্মদ ইউনূসই অন্তত আরও চার বছর দায়িত্বে? নির্বাচন কবে হবে বাংলাদেশে?

বাংলাদেশ এখন অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে। অর্থাৎ স্থায়ী সরকার নেই। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হচ্ছেন নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস। এই অবস্থায় বাংলাদেশে নতুন নির্বাচন প্রয়োজন। যার মাধ্যমেই নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠে আসবেন যিনি দেশকে পরবর্তী মেয়াদে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বাংলাদেশ জুড়ে নির্বাচন কবে এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে। এরই মাঝে হাসিনা পরবর্তী অস্থির বাংলাদেশ কবে স্থায়ী সরকার পাবে এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ইউনূস ইঙ্গিত দিয়েছেন, কমপক্ষে আরও চার বছর দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারেন তিনিই। কারণ "সংস্কারে সময় লাগবে"।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের ১০০তম দিনে আল জাজিরাকে একটি সাক্ষাত্কারে ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলার যে খবর সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলছেন, তা আসলে ভারত থেকে জাগিয়ে তোলা এক 'প্রোপাগান্ডা'। ইউনূস বলেন, "শুধু নির্বাচন করলেই নতুন বাংলাদেশ আসবে না... নতুন বাংলাদেশের অর্থ হলো আইনি ব্যবস্থার সংস্কার... পুলিশ ব্যবস্থা নতুনভাবে পরিকল্পিত হবে এবং এর জন্য সংবিধানের সবচেয়ে বেশি সংস্কার প্রয়োজন।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধর্ম বা রাজনীতি দিয়ে কোনও বাংলাদেশির সঙ্গে বৈষম্য হবে না! ইউনূসের আপ্তবাক্য ফলবে?

Muhammad Yunus: ইউনূস বলেছিলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নিয়ে 'বাড়িয়ে কথা বলা হয়েছে'।

তাহলে ইউনূস আপাতত নির্বাচন নিয়ে ভাবিতই নন? ইউনূস ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, “দুটি সমান্তরাল জিনিস চলছে। এক হচ্ছে নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং অন্যটি সমস্ত সংস্কারের প্রস্তুতি। এটা জনগণের উপর নির্ভর করে, রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নেয় কোন পথে যেতে হবে... আমরা চিরস্থায়ী সরকার নই। নিয়মিত সরকার পাঁচ বছরের জন্য। নতুন সংবিধানে চার বছর বলা হতে পারে কারণ জনগণ দ্রুত সরকারের মেয়াদ চায়। সুতরাং এটি চার বছরের নিচে হওয়া উচিত, এর কমও হতে পারে, সবটাই নির্ভর করছে জনগণ কী চায়?”

তাহলে ইউনূসই আরও চার বছর থেকে যাবেন দায়িত্বে? মেয়াদের প্রশ্নে নির্দিষ্ট করে কিছুই বলেননি ইউনূস কিন্তু বলেছেন, "চার বছরই সর্বোচ্চ মেয়াদ হতে পারে।" অর্থাৎ ইউনূস ইউনূস ইঙ্গিত দিচ্ছেন খুব তাড়াতাড়ি তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান পদ থেকে সরছেন না। কেন চার বছরে এত জোর দিচ্ছেন তিনি? তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নিযুক্ত বিভিন্ন কমিশন সংস্কারের জন্য পরামর্শ জানাতে কিছুটা সময় নেবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এবার বাংলাদেশকে 'কালো তালিকায়' ফেলবেন ট্রাম্প? কীভাবে সামলাবেন ইউনূস?

Muhammad Yunus-Donald Trump Relation: হিন্দু, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং গণহত্যার জন্য দায়ীদের দ্রুত বিচারের জন্য ঢাকাকে চাপ দিতে পারেন ট্রাম্প।

দেশের সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে গত জুলাই মাস থেকে পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের পর অগাস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। জুন মাসে, বাংলাদেশ হাইকোর্ট ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা ফিরিয়ে আনে, যা ২০১৮ সালে হাসিনার সরকারই বাতিল করেছিল। বিক্ষোভের ফলে হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। হাসিনার পদত্যাগের পর, বাংলাদেশে বিক্ষোভের রেশ ধরে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসতে থাকে যেখানে দাবি করা হতে থাকে যে বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের লক্ষ্য করে হিংসা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ হচ্ছেন হিন্দু। ইউনূস দাবি করেন, এই প্রচার অনেকটাই মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইউনূস স্বীকার করেছেন যে, হিন্দু সহ সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশে বিক্ষোভের পর হিংসার সম্মুখীন হয়েছেন ঠিকই কিন্তু এটি তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয় বরং তাঁদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে। তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘুরা হাসিনার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সদস্য। বিক্ষুব্ধ বাংলাদেশিরা আসলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই অসন্তুষ্ট, তাই এই হিংসা। ট্রাম্প হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসা নিয়ে যে বক্তব্য প্রচার করছেন, সেসবের নিন্দা করে ইউনূস বলেছেন, “এটি বেশিরভাগই প্রোপাগান্ডা। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অপপ্রচার। এটা দুর্ভাগ্যজনক। সম্ভবত এই উত্তেজনাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই প্রচারের বেশিরভাগটাই করা হচ্ছে ভারতের পক্ষ থেকে। বাস্তবে, এসবের অস্তিত্ব নেই। হিন্দুদের সবচেয়ে পালিত পুজো উদযাপনের উদাহরণ দেখুন। হাজার হাজার পুজোর জায়গায় কোনও হিংসার ঘটনা ছাড়াই উদযাপন হয়েছে।”

ইউনূস আর ট্রাম্পের সম্পর্ক মধুর নয়। তিনি ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক। এই অবস্থায় ট্রাম্প আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়াতে বাংলাদেশে নির্বাচনের চাপ বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। যদিও ইউনূস বলছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনে নতুন প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণ করলেও বাংলাদেশের প্রতি মার্কিন নীতির পরিবর্তন হবে বলে আশা করেন না তিনি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।