কেন সরানো হল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে?

Justice Abhijit Gangopadhyay removed : টালমাটাল পরিস্থিতিতে যখন ক্রমেই অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে ঠিক তখনই যেন নতুন আলোর পথযাত্রী হিসেবে এলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, তাহলে এবার কী হবে আন্দোলনকারীদের?

inscript
৩ মিনিট
কেন সরানো হল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে?

পূর্বাভাস মিলল। কলকাতা হাইকোর্টের নিয়োগ দুর্নীত মামলা থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় মামলা চলাকালেই একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে জাস্টিস চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চে অভিযোগ জমা পড়ে গত সোমবারই। আজ কার্যত সেই কারণেই নিয়োগ মামলায় রায় দেওয়ার অধিকার হারালেন জাস্টিস গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে এস এস সি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার দায়ভার ছিল তাঁরই এজলাসে। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, আপাতত শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংক্রান্ত মামলা থেকেই সরানো হচ্ছে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। দুর্নীতি সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলিতে তাঁকে রাখা হলেও হতে পারে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে সরে মামলার ভার এখন কার উপর অর্পিত হবে, তাই নিয়েই জোর জল্পনা। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, এতদিন যে পর্যবেক্ষণগুলি তিনি দিয়েছেন, যার ভিত্তিতে বহু চাকরিও গিয়েছে, সেই রায়গুলি অপরিবর্তিত থাকবে কিনা।

দিনকয়েক আগের কথা। তৃণমূলের বহিস্কৃত নেতা কুন্তল ঘোষ অভিযোগ করেন, তাকে দিয়ে ইডি অভিষেকের নাম বলিয়ে নিতে চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে আদালতে চিঠিও দেন তিনি। এই ব্যাপারে জাস্টিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত ছিল, প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকবে ইডি-সিবিআই। জাস্টিস গঙ্গোপাধ্যায় এই মেয়াদেই টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন যাতে সংশ্লিষ্ট বিষয় উঠেও এসছে, এই অভিযোগে বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন কুন্তল মামলায়। এবার মামলাই সরিয়ে দেওয়া হল তাঁর এজলাস থেকে। বিচারপতির স্পষ্ট বক্তব্য সাক্ষাৎকার দিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় রায়দানের অধিকার হারিয়েছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সুপ্রিম পর্যবেক্ষণে তোলপাড়! নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় রায় দেওয়ার 'অযোগ্য' অভিজিৎ?

Calcutta High Court Justice Abhijit Ganguly: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ওই মামলার শুনানির জন্য নতুন বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।

আন্দোলনের মুখ খোঁজার প্রয়োজনীয়তা আগেও ছিল, আজও আছে। আর তাগিদ ছিল একটা 'সম্ভাবনা'র। সমস্ত অন্ধকারের মধ্যে আলো, সমস্ত মিথ্যার মধ্যে সত্য, সমস্ত দুর্নীতির মধ্যে মূল্যবোধ- এটুকুই চেয়েচিন্তে এসেছেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে চাকরি চেয়ে আন্দোলনরত মানুষ এমন সম্ভাবনা-সত্য-আলো-মূল্যবোধের পরাকাষ্ঠা হিসেবে যেন হঠাৎ মঞ্চে আবির্ভূত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। মঞ্চে অবশ্য ততক্ষণে জোর কদমে চলছে মহড়া। উপস্থিত সমস্ত চরিত্ররাই তৈরি। একদিকে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, কোটি কোটি টাকার খেলা এবং অন্য দিকে যোগ্যদের চাকরি না পাওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন, কেউ কাউকে এক চুল জায়গা ছাড়তে নারাজ। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া হাজার হাজার প্রার্থীদের পাকাপাকি জায়গা হয়েছে গাছতলা। হকের দাবি আদায়ের জন্য মরতেও প্রস্তুত এবার সকলে। ঠিক এরকম টালমাটাল পরিস্থিতিতে যখন ক্রমেই অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে ঠিক তখনই যেন নতুন আলোর পথযাত্রী হিসেবে এলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নামটুকুই যথেষ্ট।

বাংলায় আর কেউ চাকরি পায় না, চাকরি যায়! ক্রমেই যেন প্রবাদবাক্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল এটি। সর্ষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ভূতেদের টেনে টেনে বের করে আনছিলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতি নামক যে বিশাল নাটকটা এতদিন ধরে লেখা হয়েছিল অন্তরালে তাকে সমূলে উৎপাটন করাই কি তাঁর লক্ষ্য ছিল? উত্তরের খোঁজ করার আর বিশেষ প্রয়োজন পড়ে না। আন্দোলনে নামা মানুষ এই বিচারপতিকে সামনে রেখেই যে ফের আশা ভরসা পেয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দল যে ক্রমেই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছিলেন সে কথাও নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

ফলে এই পরিস্থিতিতে বিচারপতির কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতেই ফের আশঙ্কার মুখে পড়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেই আশঙ্কা ইতিমধ্যেই উস্কে দিয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। অবশেষে তাতেই শিলমোহর পড়ল আজ। নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে।

আসলে কোনও বিচারপতিই বিচারাধীন মামলা নিয়ে কোনও সাক্ষাৎকার দিতে পারেন না, এমনটাই নিয়ম সুপ্রিম কোর্টের। ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। টেলিভিশনে কোনও সংবাদমাধ্যমে অভিজিৎ কোনও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কিনা জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে শুক্রবারের মধ্যে এই বিষয়টি হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে সুপ্রিম কোর্টকে, এমনটাই নির্দেশ ছিল প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের। ইতিমধ্যে উঠে আসে বিভিন্ন তথ্যাদি। চাকরি হারাদের তরফে সামনে আনা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বলে। ফলে সেই ঘটনাকে সামনে রেখেই আজকের এই সিদ্ধান্ত পাকা হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই, তাহলে কি ইতিমধ্যেই তিনি যে রায়গুলি দিয়েছেন তা বহাল থাকবে? নাকি সেই বিষয়েও নতুন করে শুনানি হবে? আর যে প্রশ্নটা সবচেয়ে জোরালো তা হল, সত্যিই কি এই রায়ে মনে মনে হাসছেন না কেউই?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।