টানা লোডশেডিংরাজ্য জুড়ে, কোন সত্য গোপন করছে বিদ্যুৎ দফতর?

Power Cut: কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি, কোথাও বা রক্ষনাবেক্ষণের কাজের মতো নানা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ দফতরের তরফে। তবে অন্দরের খবর বলছে অন্য কথা। জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রায় ২৫০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে।

Sohini Das
৩ মিনিট
টানা লোডশেডিংরাজ্য জুড়ে, কোন সত্য গোপন করছে বিদ্যুৎ দফতর?

মেঘের ফাঁক দিয়ে উঁকি মারছে শরৎ। পুজো আসতে আর মাস দুয়েকও বাকি নেই। অথচ বঙ্গে গরমের কমতি নেই এক ফোঁটা। তার মধ্যে গোদের উপর বিষফোঁড়া লোডশেডিং। না কোনও একটি বা দুটি জায়গায় নয়, গোটা রাজ্য জুড়েই বেড়েছে লোডশেডিংয়ের প্রকোপ। গরমে নাজেহাল মানুষ, লোডশেডিংয়ের ফলে যেভাবে কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে, তাতে বিরক্তি বেড়েছে আরও কয়েকগুণ।

কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি, কোথাও বা রক্ষনাবেক্ষণের কাজের মতো নানা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ দফতরের তরফে। তবে অন্দরের খবর বলছে অন্য কথা। জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রায় ২৫০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। আর সেই ঘাটতি কমাতেই জেলায় জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে দফতর। তবে সেই তথ্যটা সাধারণ মানুষের কান অবধি পৌঁছতে দেওয়া হচ্ছে না। যান্ত্রিক বিভ্রাটের মলাটে তাকে গোপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগের কাঠগড়ায় নবান্নও।

পাওয়ার ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (পিডিসিএল) সূত্রের খবর, শুক্রবার বেলা তিনটে পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা পৌঁছেছিল প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াটে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে মাত্র ২৪০০ মেগাওয়াট। ফলে ব্যাপক ঘাটতি যে রয়েই গিয়েছে, তা তো বলাই বাহুল্য। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এই বিদ্যুতের ঘাটতি! উঠেছে প্রশ্ন।

তার অবশ্য সঙ্গত কারণ এবং যুক্তি, দুই-ই রয়েছে বিদ্যুৎ দফতরের কাছে। তাদের দাবি, দৈনিক ৪২৬৫ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় রাজ্যে। তবে সেই উৎপাদন সম্প্রতি বেশ খানিকটা কমেছে সাগরদিঘি, বক্রেশ্বর, কোলাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশ কয়েকটি করে ইউনিট বন্ধ থাকার জন্যে। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে সম্প্রতি রক্ষনাবেক্ষনের কাজ শুরু হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ৩৭৫৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হাওয়ার কথা। কিন্তু শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৪০৯ মেগাওয়াট।

আর এ সময়েই রাজ্য জুড়ে বেড়েছে ব্যাপক বিদ্যুতের চাহিদা। তার একটা কারণ ভ্যাপসা, দমবন্ধকর আবহাওয়া তো বটেই। শুক্রবার বিকেল তিনটে পর্যন্ত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা পৌঁছে যায় ৫ হাজার মেগাওয়াটে। এদিকে রাজ্যে চাহিদার অর্ধেক পরিমাণও বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়নি ওই দিন। ফলে সেই ঘাটতি মেটাতে বাধ্য হয়েই সরবরাহ বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ দফতর। যার জেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে থাকছে রাজ্যের বিভিন্ন অংশ। যদিও তা মানতে নারাজ বিদ্যুৎ দফতর। লোডশেডিং শব্দটাই মানতে চাইছে না তাঁরা। 'লোকাল ফল্ট' বলে দায় সারছেন তাঁরা।

আর এই কূটবুদ্ধির কারণেই গ্রামেগঞ্জে জনরোষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে একাধিক বিদ্যুৎকর্মীদের। প্রায়শই গ্রাহকেরা নানারকম ভাবে নিশানা করছেন তাঁদের। উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ। বোলপুর ডিভিশনের হাতিয়া এলাকায় সাব-স্টেশনের বাইয়ে এসে ক্ষোভ দেখান গ্রামের মানুষ। হুমকি দেওয়া হয়। এমনকী চলে গুলিগালাও। যদিও কোনও হতাহতের খবর নেই। শুধু বীরভূম নয়, দিন কয়েক ঘরেই মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর, ডোমকল-সহ একাধিক জায়গা থেকে বারবার লোডশেডিংয়ের খবর এসেছে। এক ঘণ্টা থেকে দু-ঘণ্টা, কোথাও আবার আরও বেশিসময় ধরে বন্ধ থাকছে বিদ্যুৎ পরিষেবা।

এই বিদ্যুৎ ঘাটতির জন্য প্রকৃতিকেও দুষছে বিদ্যুত দফতর। একে তো কয়লার জোগান অপ্রতুল, তার উপর বর্ষার কারণে কয়লা ভিজে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাগনে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিদ্যুৎকর্মীদের। ঝাড়খণ্ড, রানীগঞ্জ ও তার সংগলগ্ন এলাকা থেকেই কয়লা আসে বাংলায়। এদিকে ঝাড়খণ্ডের পাঁচওয়ারার কয়লাখনি থেকে কয়লা আসার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকদিন ধরেই গোলযোগ হচ্ছে। আপাতত ইসিএল থেকে কয়লা নিয়েই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে বিদ্যুৎমন্ত্রক।

যদিও অভিজ্ঞদের বক্তব্য, এ কোনও নতুন ব্যাপার নয়। প্রতিবছরই বর্ষার জন্য এমন সঙ্কটের মুখে পড়তে হয় দেশকে। তবে এবার সেই সঙ্কট এত ভয়াল আকার ধারণের পিছনে রয়েছে রাজ্যসরকার ও বিদ্যুৎদফতরের দুরদর্শিতার অভাব। আরও আগে থেকে পরিকল্পনা নেওয়া উচিত ছিল এ ক্ষেত্রে। অন্যান্য বছর এ সময় রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল, তা বিচার করেই পরিকল্পনা করা উচিত ছিল বলে মত অভিজ্ঞদের। তবে এই যে ঘাটতি, তার পিছনে মানুষেরও অবদান কম নয়। দীর্ঘকাল ধরে যেভাবে আমরা বিদ্যুতের অপচয় চালিয়ে এসেছি, তাতে এ দিন যে দূরে নয়, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। প্রতিমুহর্তে আমরা আমাদের প্রাকৃতিক সমস্ত শক্তিকে ফুরিয়ে ফেলছি। নিঃশেষিত করে দিচ্ছি পৃথিবীকে। ক্রমশ আরও বড় কোনও সঙ্কটের দিকে দ্রুত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। তারই আরও একটি শুরুয়াৎ এই দুর্বিসহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের ঘাটতি।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।