ভারতের প্রথম পাঁচ ধনকুবের কারা? আম্বানি-আদানি আর...?

অতিমারী, লকডাউনের কারণে দেশের অর্থনীতি ধুঁকলেও বিন্দুমাত্র আঁচ পড়েনি ভারতীয় শিল্পপতিদের। মন্দার বাজারেও শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে আম্বানি আদানিদের। সদ্য প্রকাশ হওয়া 'ফোর্বস'-এর ভারতীয় বিলিয়নিয়রের তালিকাই তার প্রমাণ। তবে শুধু রিলায়েন্স বা আদানি গোষ্ঠী নয়, আগের তুলনায় বিগত এক বছরে ভারতীয় কোম্পানিগুলির সর্বসাকুল্যে আয় বেড়েছে ১৫.৬  বিলিয়ন ডলার। ফলস্বরূপ, এই মুহূর্তে ভারতীয় বিলিয়নিয়রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬, যা গত বছর ছিল ১৪০। রেকর্ড সংখ্যায় বেড়েছে ভারতীয় বিলিয়নিয়রের সংখ্যা। এঁদের সম্মিলিত সম্পদ প্রায় ২৬% বেড়ে হয়েছে ৭৫০ বিলিয়ন ডলার।


তবে ২০২১ সালের তালিকায় শীর্ষস্থানে যে তিনটি নাম ছিল, এবারেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এ-বছরও মুকেশ আম্বানি তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭% বাড়িয়ে প্রথম স্থান ধরে রেখেছেন। তাঁর কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি। এশিয়ার সবচেয়ে ধনী এবং বিশ্বের দশম ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানি।


ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন গৌতম আদানি। সাম্প্রতিক অর্থবর্ষে রেকর্ড পরিমাণ সম্পদ বেড়েছে তৃতীয় স্থানে থাকা শিব নাদারের। তবে এবার চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান সাইরাস পুনাওয়ালা।পঞ্চম স্থানে রয়েছেন অভিজ্ঞ স্টকমার্কেট বিনিয়োগকারী রাধাকৃষ্ণণ দামানি।জেনে নেওয়া যাক প্রথম পাঁচ ভারতীয় বিলিয়নিয়রের সম্পত্তির পরিমাণ-

১. মুকেশ আম্বানি
মোট সম্পত্তি: ৯০.৭ বিলিয়ন ডলার


তেল, গ্যাস এবং পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের ওপর নির্ভর করে বাজার দখল করলেও বর্তমানে একাধিক নতুন ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করছেন মুকেশ আম্বানি। আগামী ১৫ বছরে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদনে ৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর কর্ণধারের। পশ্চিম ভারতের জামনগরে কোম্পানির তেল শোধনাগারের কাছাকাছি চারটি বড় কারখানার সমন্বয়ে প্রয়াত পিতা এবং রিলায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ধীরুবাই আম্বানির নামে নতুন একটি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে, যা উল্লিখিত বিনিয়োগের অন্তর্ভুক্ত।


২. গৌতম আদানি
মোট সম্পত্তি: ৯০ বিলিয়ন ডলার


শেষ দু'বছরে গৌতম আদানির সম্পত্তির পরিমাণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সৌরবিদ্যুৎ-উৎপাদনকারী 'আদানি গ্রিন এনার্জি'-র শেয়ার বৃদ্ধির কারণেই এ-বছরও শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে তাঁর। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনে দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে চলেছেন গৌতম আদানি। মোট ৭০ বিলিয়ন ডলার অর্থ বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। আদানির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা।


. শিব নাদার
মোট সম্পত্তি: ২৮.৭ বিলিয়ন ডলার


শিব নাদার প্রতিষ্ঠিত 'এইচসিএল টেকনোলজিস' ভারতের বৃহত্তম সফটওয়্যার সার্ভিস প্রদানকারী কোম্পানিগুলির একটি। এই সংস্থার বার্ষিক আয় ১১.২ বিলিয়ন ডলার। মেয়ে রোশনি নাদার মালহোত্রা বর্তমানে কোম্পানির মালিক হলেও শিব নাদার সংস্থার সাম্মানিক ও কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে বোর্ডে রয়েছেন। ৫২ দেশের বিভিন্ন শাখায় ১ লক্ষ ৯৮ হাজার কর্মচারী কাজ করেন এই কোম্পানির হয়ে।


৪. সাইরাস পুনাওয়ালা
মোট সম্পত্তি: ২৪.৩ বিলিয়ন ডলার


এখনও পর্যন্ত ভারতীয়দের দেওয়া ১.৮ বিলিয়ন কোভিড টিকার সবই উৎপাদন করেছে সিরাম ইনস্টিটিউট। এই সংস্থার মালিক সাইরাস পুনাওয়ালা। এই সংস্থাই কোভিশিল্ড উৎপাদনে অস্ট্রোজেনেকার থেকে থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত। গত বছর এই সংস্থার আয় রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যার জেরেই তিনি জায়গা করে নিয়েছেন প্রথম পাঁচে। সম্প্রতি ভারত সরকার তাঁর এই প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে পদ্মভূষণ সম্মানও প্রদান করেছে।


৫. রাধাকৃষ্ণণ দামানি
মোট সম্পত্তি: ২০ বিলিয়ন ডলার


প্রবীণ এই স্টকমার্কেট বিনিয়োগকারী দুই দশক আগে একটি মুদির দোকান থেকে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে সুপারমার্কেট চেনে পরিণত হয়েছে ডি-মার্ট নামে পরিচিত এই ব্যবসা। দেশজুড়ে ২৭টি দোকান রয়েছে এদের। ফোর্বসের নতুন তালিকায় পঞ্চম এবং বিশ্বে ১০১তম ধনী এই ভারতীয়। গত বছর দামানি এবং তাঁর বিলিয়নিয়র ভাই দক্ষিণ মুম্বইতে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি দামে একটি বাড়ি কিনেছেন বলে জানা যায়।

More Articles

;