পৃথিবীর জলভাগ ভরে যাবে অ্যাসিডে, ২৬০০০ বছরে প্রথম এই চরম সর্বনাশের মুখোমুখি পৃথিবী

আমরা সবাই জানি বিশ্ব উষ্ণায়নের কথা। সবাই জানি, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে কীভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Satyaki Tat
৩ মিনিট
পৃথিবীর জলভাগ ভরে যাবে অ্যাসিডে, ২৬০০০ বছরে প্রথম এই চরম সর্বনাশের মুখোমুখি পৃথিবী

গত ২৬,০০০ বছরে এত ক্ষতি হয়নি, যা ২০২১ সালে হয়েছে। আধুনিক মানবসভ্যতা এত কম সময়ে, মাত্র তিনশো বছরে পৃথিবীর যা ক্ষতি করেছে, তা অতুলনীয়।

কিন্তু কী এমন ঘটে গেল, যা এত হাজার বছরের রেকর্ড ভেঙে দিল? তার আগে ছোট্ট করে একটু প্রেক্ষিতটা বুঝে নিই।

পৃথিবীর তিন ভাগ জল, এক ভাগ স্থল। ছোটবেলাতেই আমরা আমাদের পাঠ্যপুস্তকে এই কথা জেনে নিয়েছি। কিন্তু সেই তিন ভাগ জলের গুরুত্ব কি বুঝেছি? আমাদের পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ বেঁচে থাকার জন্য তার গুরুত্ব কি উপলব্ধি করেছি? একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিই। আচ্ছা বলুন তো, সবথেকে বেশি অক্সিজেন কোথা থেকে আসে? খুব সোজা উত্তর, গাছ, উদ্ভিদ। একদমই ঠিক। কিন্তু কোথাকার? স্থলের? না জলের? উত্তর হল জলের। গবেষণা বলছে, পৃথিবীতে মোট যত পরিমাণ অক্সিজেন তৈরি হয়, তার ৫০-৮০ শতাংশ আসে সমুদ্র থেকে, আমাদের পৃথিবীর জলভাগ থেকে। যার পূর্ণ কৃতিত্ব ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাওয়া গেল বিরল গ্যাসের ভান্ডার, কতটা উপকার হবে মানবসভ্যতার?

ট্রিটিয়াম দিয়ে তৈরি পরমাণু বোমাকে (Atomic Bomb) পরীক্ষা করে দেখার সময়, যথেচ্ছ পরিমাণে হিলিয়াম-৩ তৈরি হয়ে বাতাসে মেশে।

সমুদ্র আমাদের বেঁচে থাকার জন্য ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে। এটা ছিল মাত্র একটা দিক। আরও অনেক অনেক উপায়ে সমুদ্র আমাদের গ্রহের বুকে প্রাণের স্পন্দনকে টিকিয়ে রেখেছে। যেমন, যে পরিমাণ গ্রিন হাউস গ্যাস আমরা বাতাসে নিঃসরণ করি, তার বেশিরভাগই শুষে নেয় এই তিন ভাগ জলের স্তর। পৃথিবীর ৯০ শতাংশ তাপ শুষে নেয় এই বিশাল জলের স্তর। আমাদের পৃথিবীকে এইভাবে ঠান্ডা রাখে, প্রাণের উপযুক্ত রাখে।

এবার ভাবুন, বাতাসে যদি গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ অতিরিক্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পায়? পৃথিবীর তাপমাত্রা যদি বাড়তে থাকে? সমুদ্রের তাপমাত্রা যদি বাড়তে থাকে?

আমরা সবাই জানি বিশ্ব উষ্ণায়নের কথা। সবাই জানি, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে কীভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যেক বছরই উষ্ণতার নিরিখে রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। World Meteorological Organization বা WMO-র নতুন রিপোর্ট বলছে, পৃথিবীর জলস্তরও উষ্ণতার নিরিখে রেকর্ড গড়ে ফেলেছে। গত বছর সমুদ্র সবথেকে বেশি উষ্ণ ছিল, শুধু তাই নয়, অ্যাসিডের পরিমাণও রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের চাঞ্চল্যকর দাবি, গত ২৬,০০০ হাজার বছরে সমুদ্র এত অ্যাসিডিক ছিল না যত ২০২১ সালে হয়েছে।

সেই সঙ্গে তারা এটাও উল্লেখ করেছে যে, পৃথিবীতে এখন যে যুদ্ধ চলছে, মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান, তার ফলে পৃথিবীর শক্তিশালী দেশগুলোর পরিবেশ রক্ষার্থে যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল, তা ব্যহত হয়েছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে গলতে থাকা বরফের চাদর, গলতে থাকা হিমবাহের বিপদ। যে হারে জলের স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে WMO।

এই বাড়তে থাকা জলস্তরে যেভাবে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ছে, তা নিয়ে খুবই চিন্তায় রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ছে, কারণ বাতাসে গ্রিন হাউস গ্যাস, মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 420 PPM (Particle Per Million)। গত কুড়ি লক্ষ বছরে যা সর্বাধিক। এই কার্বনকে সমুদ্র শুষে নিচ্ছে, এবং আরও অ্যাসিডিক হয়ে পড়ছে।

সমুদ্রের জল এই পরিমাণে অ্যাসিডিক হয়ে যাওয়ার ফলে আরও বিপদ বৃদ্ধি পাবে। কারণ, এর ফলে সামুদ্রিক সমস্ত প্রাণী বিপন্ন হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য এবং যার সরাসরি প্রভাব পড়বে স্থলের প্রাণীদের ওপর, যার মধ্যে আমরা, মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব।

তাছাড়া একথা বলাই বাহুল্য, যে হারে সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করা হচ্ছে, অথচ তাদের প্রজনন প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে না, তাতে এমনিতেই কিছু দশক পরে সমুদ্রে প্রাণীর চেয়ে বেশি প্লাস্টিকের কণা থাকবে। এর ফলে কী হবে? শুরুতেই লিখেছি, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের কথা। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এই প্ল্যাঙ্কটনরা আর জন্ম নেবে না, যার ফলস্বরূপ, অক্সিজেন তৈরি হবে না। তার পরিণতি কী ভয়াবহ হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য!

লিখেছেন
Satyaki Tat
Satyaki Tat
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।