বাংলায় ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার মুখে কেন ক্ষমা চাইতে হল অধীরকে?

Adhir Chowdhury Conveys His Regrets: জোট প্রসঙ্গে একটু যেন পিছিয়ে পড়ল কংগ্রেস। ক্ষমা চাইতে হল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে।

Sindhu Som
২ মিনিট
বাংলায় ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার মুখে কেন ক্ষমা চাইতে হল অধীরকে?

ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা বাংলায় প্রবেশ করেছে। ঠিক সে'সময় জোট প্রসঙ্গে একটু যেন পিছিয়ে পড়ল কংগ্রেস। ক্ষমা চাইতে হল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েনের কাছে এক্স হ্যান্ডেল থেকে ট্যুইট করে সর্বসমক্ষে ক্ষমা চেয়েছেন অধীর।

বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের আসন সমঝোতা হচ্ছে কিনা প্রশ্নের উত্তরে ডেরেক বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘বাংলায় জোট ভেস্তে যাওয়ার প্রথম কারণ অধীর চৌধুরী, দ্বিতীয় কারণ অধীর চৌধুরী, তৃতীয় কারণও অধীর চৌধুরীই।’’ বিজেপি এবং অধীরকে এক বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন ডেরেক। বলেছিলেন, ‘‘বিজেপি এবং অধীরের ভাষার মধ্যে কোনও ফারাক নেই। তাঁরা এক সুরে কথা বলেন।’’ জবাবে সে'দিন সন্ধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানান অধীর চৌধুরী। ডেরেকের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অধীর বলেন, ‘‘উনি তো বিদেশি। বিদেশিরা বেশি জানেন। ওঁর থেকেই যা জানার আপনারা জেনে নিন।’’

ডেরেকের জন্ম কলকাতাতেই। তাঁদের পরিবার আসলে আইরিশ বংশোদ্ভূত। ১৮৬০ সালে এক আইরিশ সৈন্য কলকাতায় আসেন। তাঁর উত্তরাধিকারীরা বাংলাতেই থেকে যান। বাঙালিদের সঙ্গে বহু সংমিশ্রণ ঘটেছে এই পরিবারের। ডেরেকের দাদু আমোস ও'ব্রায়েন প্রথম খ্রিষ্টান, যিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান পদে ছিলেন। কাজেই ডেরেককে 'বিদেশি' সম্বোধন করে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় অধীরকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতা বনাম অধীর: জোট আটকে দিল পুরনো যুদ্ধ?

Lok Sabha Election 2024: ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যতের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা নাকি মমতা স্বয়ং। আর এমনটা মনে করছেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তাঁর মতে, "দিদিই জোটের ভবিষ্যৎ নস্যাৎ করে দিচ্ছেন।

প্রাক্তন সাংসদ ও সাংবাদিক প্রীতিশ নন্দী বলেন, "হতে পারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বাংলার একমাত্র বিরল সাংসদ। কিন্তু, এ'রাজ্যে তাঁর দলের মুখ থুবড়ে পড়ার পিছনে তিনিই একমাত্র দায়ী। ডেরেক ও'ব্রায়েনকে বিদেশি বলে সম্বোধন করে তিনি নিজের নিম্ন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।' বিশ্ব বিখ্যাত ক্যুইজ মাস্টার সিদ্ধার্থ বসুও অধীরের এই মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তীব্র সমালোচনার ফলে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে অধীর জানান, ডেরেককে ওই কথা বলে তিনি অনুতপ্ত। তাঁর অনুশোচনার কথা তিনি ডেরেককে ব্যক্তিগত ভাবেও জানিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। অধীরের দাবি, ‘‘ভুলবশতই ওই শব্দ ব্যবহার করে ফেলেছি।’’

I conveyed my regrets to MR DEREK O'BRIEN for an word inadvertently uttered by me on him as FOREIGNER.

— Adhir Chowdhury (@adhirrcinc)

অন্যদিকে জোটের সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার প্রশ্নে তাঁর সাফ উত্তর, "আমার কারও সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। আমার প্রস্তাব প্রথম দিনেই প্রত্যাখ্যান করেছে। তখন থেকেই আমরা একলা লড়ব বলে ঠিক করে নিয়েছিলাম।"

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।