বিজেপির সঙ্গ ছাড়ল এআইএডিএমকে! ইন্ডিয়ার হাত ধরবে কি তামিলনাড়ুর দল?

AIADMK Ends Alliance With BJP : এআইএডিএমকের সঙ্গে বিজেপির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বরাবরের। কিন্তু এই মিত্রতার মাঝে রয়েছে যথেষ্ট দূরত্বও।

inscript
২ মিনিট
বিজেপির সঙ্গ ছাড়ল এআইএডিএমকে! ইন্ডিয়ার হাত ধরবে কি তামিলনাড়ুর দল?

একদিকে 'ইন্ডিয়া' গড়ছে, অন্যদিকে এনডিএ ভাঙছে! ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল তামিলনাড়ুর AIADMK। চেন্নাইতে দলের প্রধান কার্যালয়ে সাংসদ, বিধায়ক এবং জেলা প্রধানদের একটি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গেরুয়া হাত ছাড়ার প্রস্তাব পাস হয়ে গিয়েছে। এআইএডিএমকে সহ সাধারণ সম্পাদক কেপি মুনুসামি আনুষ্ঠানিকভাবে এই 'ব্রেক-আপ'-এর ঘোষণাও করেছেন। বিজেপির জোট ছাড়ার খবরে দলীয় কর্মীরা পটকা ফাটিয়ে উদযাপন করলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, শিয়রে নির্বাচন নিয়ে শাসক জোটের হাত কেন ছাড়ল এআইএডিএমকে?

গত শনিবার দিল্লিতে একটি বৈঠকে শেষ প্রচেষ্টা করা হয়েছিল বিজেপি আর এআইএডিএমকের সখ্য বজার রাখার। দক্ষিণ ভারতীয় এই দল নিজেদের দাবিতে অটল ছিল। এআইএডিএমকে জানায়, হয় বিজেপির তামিলনাড়ুর প্রধান কে আন্নামালাই প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিএন আন্নাদুরাই সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন। নতুবা তাঁর জায়গায় একজন 'অ-বিতর্কিত নেতা'কে নিয়ে আসতে হবে। এখানে উল্লেখ্য, সি এন আন্নাদুরাই হচ্ছেন এআইএডিএমকের প্রতিষ্ঠাতা এম জি রামচন্দ্রনের উপদেষ্টা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
খোদ উত্তরপ্রদেশেই ইন্ডিয়ার কাছে হেরে ভূত বিজেপি! কেন এই শোচনীয় হার?

Ghosi bypoll Results 2023: উত্তরপ্রদেশেই এই সেদিনের ইন্ডিয়া জোটের কাছে হেরে গেল বিজেপি!

সেই বৈঠকে AIADMK-এর একজন বর্ষীয়ান নেতা বলেন, আলোচনাগুলি সৌহার্দ্যপূর্ণ হলেও বিজেপির এম চক্রবর্তীর মন্তব্য বুঝিয়ে দেয় এই সদ্ভাব বেশিদিনের নয়। বিজেপি নেতৃত্ব আন্নামালাইকে সরিয়ে দিতে রাজি নয় কারণ আন্নামালাই তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে ফের একবার প্রাণ দিয়েছেন। আন্নামালাই সনাতন ধর্ম নিয়ে বিতর্কের সময় আন্নাদুরাইকে ইঙ্গিত করে একটি মন্তব্য করেছিলেন। এতে নাকি এআইএডিএমকের চটে যাওয়ার মতো কিছুই হয়নি কারণ আন্নামালাই দলের সমালোচনা করেননি।

এআইএডিএমকে-বিজেপির সম্পর্ক যে টলমলে তা কিছুকাল ধরেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। এআইএডিএমকে দলের নেতা ডি জয়কুমার সাফ জানিয়েছিলেন নির্বাচনের আগেই জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। জয়কুমার বলেন, "আন্নামালাই বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার অযোগ্য। তিনি প্রয়াত নেতাদের নিয়ে খারাপ কথা বলেন শুধুমাত্র নিজেকে তুলে ধরার জন্য"।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'নেতা নয়, কংগ্রেস দল চালাচ্ছে আরবান নকশালেরা'- কেন বলছেন মোদি?

Narendra Modi: কংগ্রেস নেতারা নাকি মুখে রূপোর চামচ নিয়ে জন্মেছেন। গরিবদের জন্য কংগ্রেসের মনে কোনও রকম সহানুভূতি নেই, তোপ মোদির।

বিজেপি নেতা আন্নামালাই এর আগেও প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার সমালোচনা করেছিলেন। এআইএডিএমকের মধ্যে একজন কিংবদন্তি নেত্রী ছিলেন জয়ললিতা। সেই সময়ও এআইএডিএমকে রাজ্য বিজেপি প্রধানের মন্তব্যে লাগাম টানার দাবি করেছিল। এআইএডিএমকে বিজেপির সঙ্গ না দেওয়াতে এবার বিজেপিকে একার দমেই তামিলনাড়ুতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, তামিলনাড়ু এমন একটি রাজ্য যেখানে বিজেপি এখন পর্যন্ত কোনও নির্বাচন জেতেনি।

এআইএডিএমকে সাফ জানাচ্ছে, আন্নামালাই এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট করতে চায় না যদিও বিজেপি কর্মীরা জোট চায়। নিজেরই রাজ্যে নিজেদের নেতাদের সমালোচনা কেন সহ্য করবে এআইএডিএমকে! এআইএডিএমকে খুব ভালো করেই জানে, তাঁদের সঙ্গ ছাড়া বিজেপি এই রাজ্যে দাঁতও ফোটাতে পারবে না।

এআইএডিএমকের সঙ্গে বিজেপির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বরাবরের। কিন্তু এই মিত্রতার মাঝে রয়েছে যথেষ্ট দূরত্বও। জয়ললিতা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন বিজেপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট গঠন করেননি তিনি। কারণ জয়ললিতা বিশ্বাস করতেন, দ্রাবিড় মতাদর্শ প্রভাবিত রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রে বিজেপি অত্যন্ত বেমানান। এআইএডিএমকে ২০১৯ সালের লোকসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন সহ বিজেপির সঙ্গে জোট করে লড়ে সমস্ত নির্বাচনে হেরেছে। এই হারের পিছনে দায় হসেবে বিজেপির সঙ্গে জোট করার কারণটিকেই সামনে রেখেছিল এআইএডিএমকে। এই আনুষ্ঠানিক 'ব্রেক আপ' কি এআইএডিএমকে-র হারানো গৌরব ফিরে পেতে সাহায্য করবে? ইন্ডিয়া বনাম এনডিএ লড়াইয়ে নিজেকে কোথায় রাখবে এআইএডিএমকে? দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে এখন বড় প্রশ্ন এটিই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।