আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি থেকে কেন 'সংখ্যালঘু' তকমা মুছতে চাইছে কেন্দ্র?

Aligarh Muslim University: আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান দেশের সম্পদ। আর তা ধর্মনিরপেক্ষ হওয়াই প্রয়োজন। শীর্ষ আদালতে জানাল কেন্দ্র সরকার।

Sohini Das
৩ মিনিট
আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি থেকে কেন 'সংখ্যালঘু' তকমা মুছতে চাইছে কেন্দ্র?

কোনওভাবেই শুধুমাত্র সংখ্যালঘুর প্রতিষ্ঠান নয় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। আর তা হতেও পারে না। কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা ধর্ম প্রতিষ্ঠানের তকমা দেওয়া যাবে না বিশ্বমানের এই বিশ্ববিদ্যালয়কে। আর সেই মর্মেই এবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

যে কোনও ভাবে দেশ থেকে সংখ্যালঘুদের গুরুত্ব কমাতে উঠে পড়ে লেগেছে বিজেপি সরকার। অসমের অভিধান থেকে কার্যত মুছে ফেলা হয়েছে মাদ্রাসা শব্দটি। সেখানকার সমস্ত মাদ্রাসার নাম পাল্টে ফেলা হয়েছে তড়িঘড়ি। ইতিমধ্যেই ইলাহাবাদ নাম পাল্টে হয়েছে প্রয়াগরাজ। মোদি শাসনে মোঘলসরাইয়ের নাম হয়েছে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশনষ আলিগড়ের নাম পাল্টে সিদ্ধান্ত হয়েছে হরিগড় রাখার।

এত বদলের মধ্যে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি (AMU)-ই বা বাদ যায় কেন? এবার সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুসলিম তকমা হঠাতে উঠেপড়ে লাগল কেন্দ্র সরকার। তার যুক্তি হিসেবে কেন্দ্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আর কেন্দ্রের তরফে দাবি, যে প্রতিষ্ঠান এই তকমা পায়, তা কোনও ভাবেই আর কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকতে পারে না। কেন্দ্রের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেস তুষার মেহতা তার সওয়ালে জানান, "১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক-স্বাধীনতা যুগেও জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। তাই তাকে কেবলমাত্র সংখ্যালঘুদের জন্য বলা যেতে পারে না।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাল্টে গেল মাদ্রাসা! সমস্ত বৈশিষ্ট্য ধুয়েমুছে 'মি স্কুল' গড়ল বিজেপি সরকার

Assam, Madrasas and schools: অসমে অন্তত ১,২৮১টি মাদ্রাসা রয়েছে। যেগুলিকে আর মাদ্রাসা বলা যাবে না উত্তরপূর্বের রাজ্যটিতে। সেই সমস্ত মাদ্রাসার নয়া নাম এখন মি (মিডল ইংলিশ) স্কুল।

আজ থেকে নয়, প্রথম থেকেই আলিগড় ও দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর থেকে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তকমা তুলে নেওয়ার পক্ষে। এ নিয়ে রাজনৈতিক ভাবে বিরোধিতার মুখেও পড়েছে মোদি সরকার। তবে মোদি সরকারের যুক্তি হল, এই তকমা অসাংবিধানিক। সংসদের আইনের মাধ্যমে যে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে, পরে তাকে ধর্মের ভিত্তিতে বিশেষ তকমা দেওয়া দেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তাদের দাবি, সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্ধেক আসন সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় বাকি তফসিলি জাতি, উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির পড়ুয়ারা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল এ-ও জানিয়েছেন যে ভারতীয় সংবিধান রচনার দায়িত্ব ছিল যে গণপরিষদের, সেখানেও আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু তকমা দেওয়া নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়েছিল আগেই। ১৯৮১ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির আমলেই আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সংশোধন করে একে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের তকমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০৬ সালে আইন খারিজ হয়ে যায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঐতিহাসিক আলিগড়ের নাম বদলে দিচ্ছে বিজেপি? 'আলি' বাদ দিয়ে বসছে...

Aligarh Name Changed to Harigarh : আলিগড় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সর্বসম্মতিক্রমে শহরের নাম পরিবর্তন করে হরিগড় করার প্রস্তাব পাস করেছে।

উচ্চ আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সে সময়েও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল ইউপিএ সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার ইউপিএ সরকারের সেই আবেদনই তুলে নেওয়ার দাবি করে শীর্ষ আদালতে গিয়েথে কেন্দ্র সরকার। সেখানে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন (ভর্তি সংরক্ষণ) আইন ২০০৬ (২০১২ সালে সংশোধিত)-এর ৩ নম্বর ধারা মেনে আলিগড়ে সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষণ বজায় রাখার কোনও প্রয়োজন নেই।

তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান দেশের সম্পদ। আর তা ধর্মনিরপেক্ষ হওয়াই প্রয়োজন। শিক্ষামন্ত্রকের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল ব়্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক-২০২৩ অনুযায়ী, ৯ নম্বরে রয়েছে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি। ইউনিভার্সিটি মঞ্জুরি কমিশন ও ন্যাকের হিসেবেও A+ গ্রেড পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ফলে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মনিরপেক্ষ হওয়াই সাংবিধানিক বলে মনে করছে কেন্দ্র সরকার।

প্রশ্ন উঠেছে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে যে পথে হেঁটেছে কেন্দ্র সরকার, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও কি একই পথে হাঁটবে দেশের বিজেপি সরকার? এমনিতেও সংবিধানে এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নজিরবিহীন ও ব্যতিক্রমী (সুই জেনেরিস) মামলা হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এখন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই মনোভাব দেখায় কিনা কেন্দ্র সরকার, সেটাই এখন দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।